মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ফাল্গুন ১২ ১৪৩২, ০৭ রমজান ১৪৪৭

ব্রেকিং

ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত চট্টগ্রামের এমপি নুরুল আমিন ১২ কেজি এলপিজির দাম কমল ১৫ টাকা বিশ্বকাপের স্বাগতিক মেক্সিকোয় সহিংসতা, গভীর নজর রাখছে ফিফা দুই সচিবের দপ্তর বদল ৫ অগাস্টের পর প্রতিবিপ্লবের চেষ্টা ছিল: রাষ্ট্রপতি এপস্টেইন ফাইল: যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত ম্যান্ডেলসন গ্রেপ্তার দায়িত্ব নিলেন ছয় সিটির প্রশাসক বিমানবন্দরে মশা মারার ওষুধ ছিটানোর নির্দেশ বিমানমন্ত্রীর চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণে চলে গেলেন আরেকজন, মৃত্যু বেড়ে ৩ ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী খুলনায় মার্কেটে আগুনে পুড়ল ১০ দোকান কুমিল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ ৪ মাদক সম্রাটের মৃত্যু: মেক্সিকোতে সহিংসতা ঠেকাতে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন ভারতের ঝাড়খণ্ডে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ৭

জাতীয়

ফ্যামিলি কার্ড চালু ১০ মার্চ থেকে, আপাতত পাবে ১৪ উপজেলা

 প্রকাশিত: ১৯:১১, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ড চালু ১০ মার্চ থেকে, আপাতত পাবে ১৪ উপজেলা

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে আগামী ১০ মার্চ প্রাথমিকভাবে ১৪ উপজেলায় একটি করে ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড চালু করবে সরকার।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ড চালু করতে গঠিত কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, “আগামী ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়ায় এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। সারাদেশের ১৪টি উপজেলায় প্রাথমিকভাবে এই কার্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

“পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে।”

‘ফ্যামিল কার্ড হবে সার্বজনীন’

ফ্যামিলি কার্ড বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, “বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে সরকার ১৪টি ইউনিয়নের ১৪টি ওয়ার্ডকে বাছাই করেছে। আগামী ১০ মার্চ এই কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হবে।”

“পরে প্রতিটি উপজেলাকে এই সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা হবে। এই ফ্যামিল কার্ড হবে সার্বজনীন।”

নারীদের স্বাবলম্বী করতে প্রতি কার্ডে দেওয়া হবে আড়াই হাজার টাকা।

‘ফ্যামেলি কার্ড’ বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির এই বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবু জাফর মো জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সমাজকল্যাণ, নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী জাহিদ হোসেন বলেন, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উপ-কমিটি ছিল মন্ত্রিপরিষদের। সেই উপ-কমিটির সুপারিশের আলোকে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ড বিষয়ে পাইলটিংয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, “পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। যাদের হতদরিদ্র্য বলি আমরা, অথবা দরিদ্র্য এবং নিম্নবিত্ত এই তিন শ্রেণির সুবিধাভোগী আমাদের যে মায়েরা আছেন, একটি পরিবারের যে মা প্রধান, তারা এটার সুবিধা পাবেন।

“ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ বিএনপির নির্বাচনি অঙ্গীকার ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে এটার ওপর কাজ করেছেন। প্রতি মাসে, আড়াই হাজার টাকা করে তারা আর্থিকভাবে সহযোগিতা পাবেন ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে। এই কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বিশ্বাস, ধর্ম-বর্ণ বিবেচনা করা হবে না।”

মন্ত্রী বলেন, “আমরা হয়ত প্রথমেই পুরো উপজেলায় দিতে পারব না। হয়তো প্রথমে একটি ওয়ার্ড, তারপর একটি ইউনিয়ন, তারপর আরেকটি ইউনিয়ন এভাবে আমরা গ্র্যাজুয়ালি (ক্রমে) এটাকে কভার করব। এভাবেই সারা বাংলাদেশ এটার সেবা পাবে এবং সুবিধাভোগী হবে।

কীভাবে বাছাই করা হচ্ছে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “বাছাই করা হচ্ছে না। ইনফরমেশন কালেক্ট করা হচ্ছে প্রতিটি ডোর-টু-ডোর স্টেপস অ্যাপ্রোচের মাধ্যমে। কোনো অবস্থাতেই ঘরে বসে কোনো বাছাই হবে না।

“বাছাই হবে ফিল্ড লেভেল থেকে। ইনফরমেশন কালেকশন করা হবে এবং কাউকে ডিসক্রিমিনেট করা হবে না, কাউকে বাদ দেওয়া হবে না।”

ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কোনো দলীয় সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও দাবি করেন জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, “এখানে প্রোগ্রামটা রাজনৈতিক, কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে সরকার। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপজেলা পর্যায়ে ইউএনওর নেতৃত্বে আমাদের বিভিন্ন কর্মকর্তারা আছেন, তাদের নেতৃত্বে কমিটি থাকবে।

“ইউনিয়ন পর্যায়ে আমাদের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের সরকারি কর্মচারীরা আছেন, তাদের নেতৃত্বে কমিটি থাকবে। ওয়ার্ড পর্যায়ে আমাদের বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মচারীরা আছেন, তাদের নেতৃত্বে কমিটি থাকবে।”

তিনি বলেন, প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের কাজ তদারকির জন্য একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাকে ওই উপজেলার দায়িত্ব দেওয়া হবে।

“এটা দ্বিস্তরবিশিষ্ট চেকিং এবং রি-চেকিং হবে, যাতে ভুল-ভ্রান্তি, এরর (ভুল) সবচেয়ে কম হয়। প্রধানমন্ত্রী একটি উপজেলায় যাবেন এবং সেই উপজেলায় গিয়ে তিনি এটার উদ্বোধন করবেন।”

এদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ১০টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আসেন। সেখনে প্রধানমন্ত্রী নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনালের বিষয়ক সভাও করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ওই সভায় অংশ নেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, আইন-বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিডা’র চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।