এপস্টেইন ফাইল: যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত ম্যান্ডেলসন গ্রেপ্তার
যুক্তরাজ্যের মন্ত্রিসভায় থাকাকালে অসদাচরণ করেছিলেন এমন সন্দেহে দেশটির সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনকে গ্রেপ্তার করেছে লন্ডন পুলিশ। যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আসার পর ওয়াশিংটনে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত ম্যান্ডেলসকে বরখাস্ত করেছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তারই ধারাবাহিকতায় এবার গ্রেপ্তার হলেন তিনি।
যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক পেশায় সবচেয়ে সম্মানজনক নিয়োগ হল ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত হওয়া। এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা পরিষ্কার হতে শুরু করার পর সেপ্টেম্বরে ওই পদ থেকে অপসারিত হন ম্যান্ডেলসন (৭২) ।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশ করা একটি নথিতে বলা হয়েছে, তিনি যুক্তরাজ্যের মন্ত্রী থাকাকালে রাষ্ট্রীয় সংবেদনশীল তথ্যও এপস্টেইনের কাছে পাচার করেছিলেন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার এপস্টেইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের যোগাযোগের তথ্য হস্তান্তরের পর চলতি মাসের প্রথমদিক থেকে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
সোমবার সাবেক এক মন্ত্রীর বিষয়ে তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত বিবৃতিতে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ বলেছে, “সরকারি দপ্তরে থাকাকালে অসদাচরণ করেছেন এমন সন্দেহে কর্মকর্তারা ৭২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।”
পরে পৃথক এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ওই ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তবে তদন্ত অব্যাহত আছে।
রয়টার্স জানায়, সোমবার স্থানীয় সময় সকালে ম্যান্ডেলসনকে তার সেন্ট্রাল লন্ডনের বাড়ি থেকে সাদা পোশাক পরা কর্মকর্তারা নিয়ে যাচ্ছেন, এমন ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে। ওই কর্মকর্তাদের শরীরে ক্যামেরা লাগানো ছিল। কর্মকর্তারা তাকে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যান।
রয়টার্স লিখেছে, এই গ্রেপ্তার মানে পুলিশ সন্দেহ করছে একটি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তবে এটি দোষী হওয়ার প্রমাণ না।
ম্যান্ডেলসনের আইনজীবীরা তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
জানুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ম্যান্ডেলসন ও এপস্টেইনের মধ্যে যোগাযোগের যেসব ইমেইল প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, এই দুইজনের সম্পর্ক আগে যা জানা ছিল তার চেয়ে অনেক গভীর। ২০০৯ এ যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের মন্ত্রিসভার সদস্য থাকাকালে ম্যান্ডেলসন বিনিয়োগকারী এপস্টেইনের সঙ্গে অনেক তথ্য শেয়ার করেছিলেন।
ম্যান্ডেলসন চলতি মাসে স্টারমারের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন। পাশাপাশি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ লর্ড সভার সদস্য পদও ছেড়েছেন তিনি।