সোমবার ১৬ মার্চ ২০২৬, চৈত্র ১ ১৪৩২, ২৭ রমজান ১৪৪৭

ব্রেকিং

মির্জা আব্বাসকে নেওয়া হল সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ৪২ জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের প্রচার শুরু সোমবার বরিশাল মেডিকেলে ইনজেকশনের পর দুই রোগীর মৃত্যু, ২ নার্স বরখাস্ত সংসদের সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে ‘লুটপাটের’ অভিযোগ শাহজাহান চৌধুরীর রাজশাহীতে জমেছে রেশমি পোশাকের বিকিকিনি, দাম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া মধ্যরাতের পর থেকে ইসরায়েলে ইরানের পঞ্চম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আহত ২ ইস্পাহানে কারখানায় মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৫ মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ: সংঘাতের বলি হচ্ছে প্রকৃতি ও পরিবেশ পারমাণবিক রকেট লঞ্চারের পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার ইরানি বিপ্লবী গার্ডের ঘোষণা: নেতানিয়াহুকে খুঁজে হত্যা করবে। ঈদের আগে শেষ বৈঠকে সংসদ দেশে প্রথমবারের মতো ট্রেনে স্টারলিংকের ইন্টারনেট চালু চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহের ঘোষণা সিরিজ জয়ের লড়াইয়ে বাংলাদেশ-পাকিস্তান খার্কে আরও হামলার হুমকি ট্রাম্পের, মিত্রদের হরমুজে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান

ইসলাম

বাবা কি সন্তানের সম্পদ থেকে নিজের খরচ নিতে পারবেন?

 প্রকাশিত: ১০:০৮, ১৫ মার্চ ২০২৬

বাবা কি সন্তানের সম্পদ থেকে নিজের খরচ নিতে পারবেন?

প্রশ্ন. জনৈক মুরব্বির তিনটি সন্তান। তিনি খুব অসুস্থ হয়ে পড়লে তার সমস্ত সম্পদ নিজ সন্তানদের মাঝে ভাগ করে দিয়েছেন। পরবর্তীতে তার সন্তানরা আর তাকে দেখাশুনা করছে না এবং তার খরচাদিও দেয় না। জানতে চাই, তিনি কি তার প্রয়োজনীয় খরচাদি সন্তানদের সম্পদ থেকে নিয়ে নিতে পারবেন? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর. পিতা-মাতা যদি আর্থিকভাবে অসচ্ছল হন এবং সন্তানরা সামর্থ্যবান হয় তাহলে পিতা-মাতার প্রয়োজনীয় খরচাদি দেওয়া সন্তানের উপর আবশ্যক। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রেও সন্তানদের জন্য কর্তব্য হল, পিতার প্রয়োজনীয় খরচ দেওয়া। তারা যদি এ খরচ না দেয় তবে পিতা নিত্য প্রয়োজনীয় খরচাদি তাদের সম্পদ থেকে নিতে পারবেন। অবশ্য প্রয়োজন অতিরিক্ত খরচ, বিলাসিতা ও দান-সদকার জন্য এভাবে টাকা নিতে পারবেন না।

হাদীস শরীফে এসেছে, এক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, আমার পিতা আমার সম্পদ নিয়ে নিতে চান। রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি এবং তোমার সম্পদ তো তোমার পিতার জন্য। তোমাদের সর্বোত্তম আহার হল নিজেদের উপার্জন থেকে। আর সন্তানদের সম্পদ তোমাদের উপার্জনের অংশ। তোমরা তা স্বাচ্ছন্দে আহার কর। Ñমুসনাদে আহমদ, হাদীস ৬৬৭৮

উল্লেখ্য যে, পিতামাতার সাথে সদাচরণ করা এবং তাদেরকে কোনো প্রকার কষ্ট না দেওয়ার প্রতি কুরআন মাজীদ ও হাদীস শরীফে জোর তাগিদ করা হয়েছে। আর তাদের দেখাশোনা করা, ভরণ-পোষণ দেওয়া সদাচরণেরই অন্তর্ভুক্ত। পিতামাতা যখন বৃদ্ধ বয়সে উপণীত হন তখন তাদের খেদমত করা, তাদের দেখাশোনা করা তো একান্ত অপরিহার্য। বিশেষত এ বয়সে তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করা অত্যন্ত ঘৃণিত ও চরম অন্যায়। কুরআন মাজীদে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, (তরজমা) তোমার রব আদেশ করেছেন যে, তোমরা তাঁর ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করো না এবং পিতামাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে। যদি তোমার বর্তমানে তাদের একজন বা উভয়ে বার্ধক্যে পৌঁছে যায় তবে তুমি তাদের উফ বলবে না এবং তাদের ধমক দিবে না। বরং তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বলবে। আর করুণাভরে তাদের সামনে বিনয়ের ডানা ঝুঁকিয়ে দাও এবং বল, হে আমার রব! তাদের প্রতি দয়া করুন। যেমন তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন। Ñসূরা বানী ইসরাইল (১৭) : ২৩-২৪

মাতাপিতার সাথে সদাচরণ করা জান্নাত লাভের উপায় বলা হয়েছে। তাদের খেদমত করে যে ব্যক্তি জান্নাত লাভ করতে পারে না তার জন্য বদ দুআ করা হয়েছে। আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তার নাক ধুলোয় ধূসরিত হোক। তার নাক ধুলোয় ধূসরিত হোক। তার নাক ধুলোয় ধূসরিত হোক। জিজ্ঞাসা করা হল, কোন সে ব্যক্তি? হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, ঐ ব্যক্তি যে বৃদ্ধ বয়সে তার পিতামাতা একজনকে বা উভয়কে পেল, তারপরও জান্নাত লাভ করতে পারল না। Ñসহীহ মুসলিম, হাদীস ২৫৫১

অন্য হাদীসে এসেছে, পিতার সন্তুষ্টির মাঝে আল্লাহর সন্তুষ্টি। আর পিতার অসন্তুষ্টির মাঝে আল্লাহর অসন্তুষ্টি। 

Ñজামে তিরমিযী, হাদীস ১৮৯৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪৩৩৯; বাযলুল মাজহূদ ১৫/২১০; মাবসূত, সারাখসী ৫/২২২; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/৩৪৯; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৬২২; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ৩/১৯৭

মাসিক আলকাউসার