বুধবার ২১ জানুয়ারি ২০২৬, মাঘ ৮ ১৪৩২, ০২ শা'বান ১৪৪৭

ব্রেকিং

কমিশনের প্রতিবেদন পেশ, সর্বনিম্ন বেতন ২০,০০০ সর্বোচ্চ ১,৬০,০০০ টাকা আইসিসি সভায় ভোটের রায় বাংলাদেশের বিপক্ষে নির্বাচনে যেন কোনো ‘গলদ’ না থাকে: প্রধান উপদেষ্টা ‘ব্যয় নির্বাহের জন্য’ আরো ১ কোটি টাকা পাচ্ছে হাদির পরিবার রোজার আগেই এলপিজির সমস্যার সমাধান: জ্বালানি উপদেষ্টা জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে দুর্যোগ, তবে প্রাণহানি কম দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ২৩ বছরের কারাদণ্ড ‘ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যা’: জয় ও পলকের বিচার শুরুর আদেশ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করলেন ফাঁসির আসামি আবুল কালাম আযাদ কর্মী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে দায় প্রার্থীদের এক দিনেই ৭ নির্বাচনি সমাবেশে আসছেন তারেক বাবরের স্ত্রী তাহমিনা জামানের প্রার্থিতা প্রত্যাহার ২২ বছর পর তারেকের সিলেট সফর ঘিরে উচ্ছ্বাস, সেজেছে নগরী টবি ক্যাডম্যান আর ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের সঙ্গে নেই

ইসলাম

কোরআনের বিশেষ আয়াতগুলো বারবার পাঠ করার গুরুত্ব

 প্রকাশিত: ১৭:৩০, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

কোরআনের বিশেষ আয়াতগুলো বারবার পাঠ করার গুরুত্ব

আবু জার (রা.) বলেন, এক রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাহাজ্জুদের সালাতে ভোর পর্যন্ত দাঁড়িয়ে একটি মাত্র আয়াত পড়তে থাকলেন, আয়াতটি হলো, ‘যদি আপনি তাদের শাস্তি দেন, তাহলে তারা আপনার বান্দা। আর যদি তাদের ক্ষমা করেন, তাহলে আপনি মহাপরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ১১৮)

তাবেঈ ইবনে আবি মুলাইকা (মৃ. ১১৭ হি.) বলেন, আমি মক্কা থেকে মদিনা পর্যন্ত আবু বকর (রা.)-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি রাতের বেলা কিয়ামুল লাইল করতেন।

তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, সালাতে তাঁর তিলাওয়াত কেমন ছিল? জবাবে তিনি বললেন, তিনি ধীরে ধীরে তিলাওয়াত করতেন। আর যখন এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন—‘আর মৃত্যুযন্ত্রণা আসবে নিশ্চিতভাবে, যা থেকে তুমি পালিয়ে বেড়াতে।’ (সুরা : কাফ, আয়াত : ১৯) 

তখন আয়াতটি বারবার তিলাওয়াত করতে থাকতেন এবং ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতেন এবং অনেক বেশি কাঁদতেন।

(মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ, হাদিস : ৩৮৪৬৩; ২০/১১২; সিয়ারু আলামিন নুবালা : ৩/৩৫২)

একবার উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) সালাতে সুরা তুর তিলাওয়াত করতেন। যখন তিনি এই আয়াতে পৌঁছতেন, ‘নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালকের শাস্তি অবশ্যই আসবে। একে প্রতিহত করার কেউ নেই।’ (সুরা : তুর, আয়াত : ৭-৮)

তিনি আয়াত দুটি বারবার তিলাওয়াত করতেন এবং আল্লাহর আজাবের ভয়ে অসুস্থ হয়ে পড়তেন। (ইবনুল কাইয়িম, আল-জাওয়াবুল কাফি : ১/৯২)

ইসহাক ইবনে ইবরাহিম (রহ.) বলেন, ‘ফুজাইল ইবনে ইয়াজ (রহ.) দুঃখভরা কণ্ঠে, প্রবল অনুরাগ নিয়ে এবং ধীরে ধীরে কোরআন তিলাওয়াত করতেন। মনে হতো—যেন তিনি কোনো মানুষকে সম্বোধন করে কিছু বলছেন।যখন জান্নাতের আলোচনা সংবলিত কোনো আয়াত তিনি অতিক্রম করতেন, তখন সেই আয়াত বারবার তিলাওয়াত করতেন।’

(জাহাবী, সিয়ারু আলামিন নুবালা : ৮/৪২৮)

আগের মুসলিম মনীষীরা কোরআন তিলাওয়াতের সময় এর মাধ্যমে প্রবলভাবে প্রভাবিত হতেন। ইবনে আমর (রা.) বলেন, যখন সুরা যিলজাল নাজিল হয়, তখন আবু বকর (রা.) কাঁদতে শুরু করেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে বলেন, ‘হে আবুবকর! তুমি কাঁদছ কেন?’ জবাবে তিনি বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! এই সুরা আমাকে কাঁদাচ্ছে।’ (ইবনু আবিদ্দুনয়া, আর-রিক্কাহ ওয়াল বুকা, পৃ. ৮১)

মালিক বিন দিনার (মৃ. ১৪০ হি.) একদা কোরআন তিলাওয়াত করছিলেন। যখন তিনি এই আয়াতে পৌঁছলেন, ‘যদি এই কোরআন আমরা কোনো পাহাড়ের ওপর নাজিল করতাম, তাহলে অবশ্যই তুমি তাকে আল্লাহর ভয়ে বিনীত ও বিদীর্ণ হতে দেখতে। আর আমরা এসব দৃষ্টান্ত মানুষের জন্য বর্ণনা করি, যাতে তারা চিন্তা করে।’ (সুরা : হাশর, আয়াত : ২১)

তখন তিনি প্রবলভাবে কেঁদে উঠলেন এবং বলেন, ‘আমি তোমাদের কসম করে বলছি, যে ব্যক্তি সত্যিকার অর্থে এই কোরআনের প্রতি ঈমান আনবে, তার হৃদয় (কোরআনের মর্মবাণী অনুধাবন করে) বিগলিত হয়ে যাবে।’ আহমাদ ইবনে হাম্বল, কিতাবুয জুহদ, পৃ. ২৫৮)