ট্রাম্পের চাপ বৃদ্ধির মধ্যেই কিউবা সফরে রুশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার ওপর চাপ জোরদার করার প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ভøাদিমির কোলোকোলৎসেভ মঙ্গলবার মিত্র দেশ কিউবা সফর শুরু করেছেন।
যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন যে কিউবার সরকার ‘পতনের দ্বারপ্রান্তে’, ঠিক সেই সময়ে এই সফরকে হাভানার দীর্ঘদিনের কমিউনিস্ট সরকারের প্রতি মস্কোর সংহতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চলতি মাসে ট্রাম্প হাভানাকে ‘একটি চুক্তি করতে’ আহ্বান জানান, এই চুক্তি না করলে হাভানার পরিণতিও ভেনেজুয়েলার মতো হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
যদিও চুক্তিটির প্রকৃতি তিনি স্পষ্ট করেননি।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর বোমা হামলায় ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হন এবং ওই অভিযানে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
ভেনেজুয়েলা ছিল কিউবার অন্যতম প্রধান মিত্র এবং তেল ও অর্থের গুরুত্বপূর্ণ যোগানদাতা।
এখন কিউবার তেল ও অর্থের এই যোগান বন্ধ করার অঙ্গীকার করেছেন ট্রাম্প।
কিউবায় পৌঁছে রুশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন রসিয়া-১কে কোলোকোলৎসেভ বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে আমরা কোন উসকানি ছাড়াই সশস্ত্র আগ্রাসন হিসেবে দেখি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই ধরনের আগ্রাসন কোনোভাবেই ন্যায্য নয় এবং এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে দেশের বাইরের হুমকি মোকাবিলায় সতর্কতা বাড়ানো ও ঐক্যবদ্ধভাবে সব ধরনের প্রচেষ্টা নেয়া জরুরি।’
হাভানায় রুশ দূতাবাস জানায়, সফরকালে কোলোকোলৎসেভ ‘একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক’ করবেন।
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা রাশিয়া ও কিউবা ২০২২ সালের পর থেকে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে। ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়া মস্কো নতুন বন্ধু ও বাণিজ্যিক অংশীদার খুঁজছে।
এই দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটে থাকা কিউবা, বর্তমানে ওয়াশিংটনের বাড়তি চাপের মুখে পড়েছে।
ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ যদি ওয়াশিংটনের শর্ত, বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার তেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার না দেন অথবা কিউবা, রাশিয়া, চীন ও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক শিথিল করার শর্ত মানতে ব্যর্থ হন, তবে তাকে ‘খুব বড় মূল্য’ দিতে হবে।
মঙ্গলবার কিউবায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভিক্টর করোনেলি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে লেখেন, কোলোকোলৎসেভ কিউবায় এসেছেন ‘দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ও অপরাধ দমনে সহযোগিতা জোরদার করতে।’
এদিকে, কিউবায় যুক্তরাষ্ট্রের চিফ অব মিশন মাইক হ্যামার মঙ্গলবার মিয়ামিতে ইউএস সাউদার্ন কমান্ডের প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
দূতাবাস জানায়, বৈঠকে ‘কিউবা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি’ নিয়ে আলোচনা হয়।
এই কমান্ড মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায় মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর দায়িত্বে রয়েছে, যারা ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহনকারী ট্যাংকার জব্দ ও মাদক পাচারের অভিযোগে নৌযানে হামলা চালিয়েছে।
নিজের প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প তার পূর্বসূরি বারাক ওবামা শুরু করা কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ থেকে সরে আসেন।
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত ৩২ কিউবান সেনার মধ্যে কয়েকজন মাদুরোর নিরাপত্তা দলের সদস্য ছিলেন।
মঙ্গলবার কোলোকোলৎসেভ নিহত সেনাদের স্মরণে আয়োজিত এক স্মরণসভায় অংশ নেন।
১৯৫৯ সালে কিউবায় ফিদেল ক্যাস্ত্রোর নেতৃত্বে কমিউনিস্ট বিপ্লব সফল হয়। এর পর কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বলয় থেকে বেরিয়ে এসে সোভিয়েত ইউনিয়নের ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ১৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কিউবায় একটি কমিউনিস্ট সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়াকে ওয়াশিংটন বড় হুমকি হিসেবে দেখছিল।
১৯৬২ সালের কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকট (কিউবান মিসাইল ক্রাইসিস) ছিল স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার সবচেয়ে ভয়াবহ ও বিপজ্জনক আন্তর্জাতিক সংকটগুলোর একটি।
তখন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন সরাসরি পরমাণু যুদ্ধের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।
কিউবায় কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর থেকেই দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক দীর্ঘস্থায়ী চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্র-সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধকালে হাভানা ও মস্কো ছিল ঘনিষ্ঠ মিত্র, তবে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর সেই সহযোগিতা হঠাৎ করেই থেমে যায়।