টবি ক্যাডম্যান আর ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের সঙ্গে নেই
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিশেষ পরামর্শক পদে আর নেই ব্রিটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান।
তার না থাকার বিষয়টি গত ১৯ জানুয়ারি এক ফেইসবুক পোস্টে জানান ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
জানতে চাইলে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক টবি ক্যাডম্যানের সাথে সরকারের সম্পাদিত এক বছরের চুক্তি গত ২৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ শেষ হয়েছে, যা আর নবায়ন হয়নি। অর্থাৎ ২৬ নভেম্বর থেকে টবি ক্যাডম্যান পরামর্শক হিসেবে আর দায়িত্ব পালন করছেন না।"
ক্যাডম্যানের না থাকার খবরটি প্রকাশ হয় ট্রাইব্যুনালে জুলাই হত্যার দ্বিতীয় মামলার রায় ঘোষণার জন্য নির্ধারিত তারিখের আগের দিন।
মঙ্গলবার চানখাঁরপুলের ছয় হত্যা মামলার রায় দেওয়ার তারিখ থাকলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার তারিখ পিছিয়ে আগামী ২৬শে জানুয়ারি নতুন তারিখ দিয়েছে।
ডেভিড বার্গম্যান মঙ্গলবার আরেক ফেইসবুক পোস্টে পদত্যাগের বিষয়ে ক্যাডম্যানের একটি বক্তব্য শেয়ার করেছেন।
সেখানে বলা হয়েছে, "আমার চুক্তির মেয়াদ গত নভেম্বর মাসে শেষ হয়েছে। আমাকে মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আমি তা না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পদত্যাগ করার কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।"
লন্ডনভিত্তিক ল' ফার্ম গার্নিকা ৩৭ গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও গের্নিকা ৩৭ চেম্বারসের যুগ্ম প্রধান টবি ক্যাডম্যানকে ২০২৪ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিশেষ পরামর্শকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এক সময় জামায়াতে ইসলামীর বিদেশি আইনজীবী হিসেবে কাজ করা ক্যাডম্যান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের মামলা চলাকালে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।
জামায়াত নেতাদের যখন শাস্তি দেওয়া হয়, ক্যাডম্যান তখন ‘আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন হচ্ছে' দাবি করে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সব রায় স্থগিতেরও দাবি তুলেছিলেন।
২০১৪ সালে বাংলাদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক 'সহিংসতার ঘটনা' তুলে ধরে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) একটি আবেদন করে ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিশন ফর ফ্রিডমস অ্যান্ড রাইটস নামের একটি তুর্কি মানবাধিকার সংগঠন। ওই সংগঠনের পক্ষে আবেদনটি করেন ব্রিটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান।
আওয়ামী লীগের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াত নেতাদের পরামর্শ দিতে বাংলাদেশে আসার কথা ছিল ক্যাডম্যানের। কিন্তু ২০১১ সালে এ আইনজীবীকে দেশে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের তোপে গত অগাস্টে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করা প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ক্যাডম্যান।
পরে গতবছর মার্চে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আরেক সাক্ষাতে ক্যাডম্যান জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ‘গণহত্যার’ অভিযোগের মামলাগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন।