বুধবার ২১ জানুয়ারি ২০২৬, মাঘ ৮ ১৪৩২, ০২ শা'বান ১৪৪৭

ব্রেকিং

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে দুর্যোগ, তবে প্রাণহানি কম দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ২৩ বছরের কারাদণ্ড ‘ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যা’: জয় ও পলকের বিচার শুরুর আদেশ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করলেন ফাঁসির আসামি আবুল কালাম আযাদ কর্মী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে দায় প্রার্থীদের এক দিনেই ৭ নির্বাচনি সমাবেশে আসছেন তারেক বাবরের স্ত্রী তাহমিনা জামানের প্রার্থিতা প্রত্যাহার ফুটবল প্রতীক পেলেন তাসনিম জারা বাংলাদেশের সমর্থনে আইসিসিতে চিঠি পিসিবির ২২ বছর পর তারেকের সিলেট সফর ঘিরে উচ্ছ্বাস, সেজেছে নগরী সংসদ নির্বাচন: প্রচারে নামার আগে মার্কা নিচ্ছেন প্রার্থীরা ‘ছোট’ প্রযুক্তিগত সমস্যা: ট্রাম্পের দাভোসগামী বিমান ফিরে গেল মার্কিন ঘাঁটিতে টবি ক্যাডম্যান আর ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের সঙ্গে নেই

আন্তর্জাতিক

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে দুর্যোগ, তবে প্রাণহানি কম

 প্রকাশিত: ১৫:০৫, ২১ জানুয়ারি ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে দুর্যোগ, তবে প্রাণহানি কম

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ, দাবানল, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা ও ভয়াবহতা অনেক বেড়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, এই চরম আবহাওয়া মানুষের জন্য কতটা প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে?

গত সপ্তাহে প্রকাশিত বার্ষিক জলবায়ু প্রতিবেদন বলছে, প্রাক-শিল্পায়ন যুগের পর থেকে গত তিনটি বছর ছিল পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে উত্তপ্ত সময়। জীবাশ্ম জ্বালানির অবাধ ব্যবহার অব্যাহত থাকায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই ধারা নিকট ভবিষ্যতে কমার কোনো লক্ষণ নেই।

প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানান, তাপমাত্রা বাড়ার ফলে গ্রীষ্মকাল হয়ে উঠছে আরও দীর্ঘ ও উত্তপ্ত। সেই সঙ্গে বাড়ছে ঘনঘন বন্যা, শক্তিশালী ঝড় এবং বিধ্বংসী দাবানল ও খরা।

তবে মৃত্যুর পরিসংখ্যানটি বেশ বিস্ময়কর। গত কয়েক দশকের উপাত্ত বলছে, চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগে সামগ্রিক প্রাণহানির হার আগের চেয়ে কমেছে। তবে এই চিত্র অঞ্চল ও দুর্যোগের ধরনভেদে ভিন্ন। 

দেখা গেছে, তাপপ্রবাহ আগের চেয়ে অনেক বেশি মৃত্যু ঘটাচ্ছে এবং নিম্ন আয়ের দেশগুলোর মানুষ উচ্চ আয়ের দেশের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

বেলজিয়ামভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘ক্রেড’-এর বৈশ্বিক দুর্যোগ ডাটাবেজ ‘ইএম-ড্যাট’ বিশ্লেষণ করে এএফপি জানায়, ১৯৭০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আবহাওয়াজনিত দুর্যোগে বিশ্বে মোট ২৩ লাখেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। 

তবে আশার কথা হলো, সাম্প্রতিক দশকে এই সংখ্যা কমেছে। ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ৫ হাজার ১৫৬ জনের, যেখানে এর আগের দশকে এই সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৪২৮ জন।

জলবায়ু ও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ বিষয়ক সংস্থা ‘ল্যানসেট কাউন্টডাউন’-এর নির্বাহী পরিচালক মেরিনা রোমানেলো এএফপি-কে বলেন, ‘দুর্যোগ এখন কম বিপজ্জনক হয়ে গেছে, বিষয়টি এমন নয়। বরং আমরা এখন দুর্যোগ মোকাবিলায় আগের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ হয়ে উঠেছি।’

অতিরিক্ত তাপকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। এর ফলে ঠিক কতজন মারা গেছেন তা হিসাব করতে মাসের পর মাস সময় লেগে যায়। বিশেষ করে অসুস্থ ও বয়স্করা তাপের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস জানায়, গত বছর বিশ্বের অর্ধেক অংশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গরম অনুভূত হয়েছে। 

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষক থিওডোর কিপিং বলেন, তীব্র তাপপ্রবাহ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রাণঘাতী। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাড়তি তাপমাত্রা কতজন মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে, তা এখন বৈজ্ঞানিক মডেলের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব।

ইএম-ড্যাট ডাটাবেজ অনুযায়ী, ২০২২ সালে সারা বিশ্বে তাপপ্রবাহে মারা গেছেন প্রায় ৬১ হাজার ৮০০ মানুষ। 

২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪৮ হাজার এবং ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬ হাজার ৮২৫ জনে।

তবে ল্যানসেট কাউন্টডাউন-এর তথ্য আরও ভয়াবহ। তাদের মতে, ২০১২-২০২১ সালের মধ্যে বিশ্বে প্রতি বছর গড়ে ৫ লাখ ৪৬ হাজার মানুষ তাপজনিত কারণে মারা গেছেন, যা ১৯৯০-এর দশকের তুলনায় ৬৩ শতাংশ বেশি।

বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ে বড় ধরনের প্রাণহানি ঠেকাতে দেশগুলো এখন অনেক বেশি প্রস্তুত। আগাম সতর্কবার্তা, মজবুত বাঁধ এবং উন্নত নির্মাণকৌশলের কারণে এসব দুর্যোগে মৃত্যু কমছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বন্যায় মারা গেছেন ৫৫ হাজার ৪২৩ জন, যা আগের দশকে ছিল ৬৬ হাজার ৪৩ জন। ঝড়ে মৃত্যুর সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমেছে; গত দশকে যা ছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৩৭ জন, তা সাম্প্রতিক দশকে নেমে এসেছে ৩৬ হাজার ৬৫২ জনে।

জার্মান প্রতিষ্ঠান ‘মিউনিখ রে’-এর প্রধান জলবায়ু বিজ্ঞানী টোবিয়াস গ্রিম বলেন, ‘আমাদের আগাম সতর্কবার্তা মানুষকে বাঁচাতে সাহায্য করছে, তবে দুর্যোগের ঝুঁকি এখনো অত্যন্ত বেশি।’

বছরভিত্তিক মৃত্যুর হার ওঠানামা করার পেছনে একক কোনো বড় দুর্যোগ বড় ভূমিকা রাখে। যেমন— গত বছর বন্যা, ঝড়, দাবানল ও ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ১৭ হাজার ২০০ জনে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ১১ হাজার। বিশেষ করে মিয়ানমার ও আফগানিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণে এই সংখ্যা বেড়েছে।

তবে এ সংখ্যা গত ১০ বছরের গড় ১৭ হাজার ৮০০ এবং ৩০ বছরের গড় ৪১ হাজার ৯০০ মৃত্যুর তুলনায় কম। এই পরিসংখ্যানে খরা ও তাপপ্রবাহ অন্তর্ভুক্ত নয়।

গ্রিম বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃত্যুর ক্ষেত্রে ‘কোনো স্পষ্ট প্রবণতা’ নেই।

ল্যানসেট কাউন্টডাউনের মেরিনা রোমানেলো সতর্ক করে বলেন, উন্নত অবকাঠামো দিয়ে আমরা এখন পর্যন্ত মৃত্যুর হার কমিয়ে রাখতে পেরেছি। কিন্তু দুর্যোগগুলো যদি একের পর এক আঘাত হানতে থাকে এবং মানুষ ঘুরে দাঁড়ানোর সময় না পায়, তবে এই প্রস্তুতির কার্যকারিতাও এক সময় শেষ হয়ে যাবে।