রোববার ০৮ মার্চ ২০২৬, ফাল্গুন ২৪ ১৪৩২, ১৯ রমজান ১৪৪৭

খেলা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নয় ফাইনাল

 প্রকাশিত: ১৫:০৯, ৮ মার্চ ২০২৬

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নয় ফাইনাল

আহমেদাবাদে দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে ফাইনালের মঞ্চে মাঠে নামবে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। আগের নয় ফাইনালের মধ্যে ভারত তিনবার ও নিউজিল্যান্ড একবার শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচ খেলেছে। এরমধ্যে ভারত দু’বার ফাইনাল জয়ের স্বাদ পেলেও, রানার্স-আপ হয়েই সন্তুষ্ট হয়ে থাকতে হয়েছে নিউজিল্যান্ডকে। 

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নয় ফাইনাল : 
২০০৭ সালে ১২টি দলের অংশ গ্রহণে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়। জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডার্স স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। পাকিস্তানকে ৫ রানে হারিয়ে শিরোপা জিতে ভারত। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৫৭ রান করে ভারত। জবাবে ২ বল বাকী থাকতে ১৫২ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান।  

২০০৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছে পাকিস্তান ও শ্রীলংকা। ফাইনালে ৮ উইকেটের জয়ে প্রথমবারের মত শিরোপা জিতে পাকিস্তান। লর্ডসের ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৩৮ রান করে শ্রীলংকা। জবাবে ৮ বল বাকী থাকতে ২ উইকেটে ১৩৯ রান করে ফাইনাল জিতে পাকিস্তান। 

২০১০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিলো ইংল্যান্ড। ৭ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে  প্রথমবারের মত বিশ্বকাপ জিতে ইংলিশরা। ব্রিজটাউনের কিংস্টন ওভালে শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৭ রান করে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে  ১৭ ওভারেই অস্ট্রেলিয়ার ছুঁেড় দেয়া ১৪৮ রানের টার্গেট স্পর্শ করে ইংল্যান্ড। 

২০১২ সালে প্রথমবারের মত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় এশিয়ার দেশ শ্রীলংকায়। নিজেদের কন্ডিশনের সুবিধাটা ভালোভাবে কাজে লাগিয়ে ফাইনালে উঠে লংকানরা। কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শ্রীলংকার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন চুরমার করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৩৭ রান করে ক্যারিবীয়রা। জবাবে ৮ বল বাকী রেখে ১০১ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলংকা। ৩৬ রানে ম্যাচ জিতে প্রথমবারের মত শিরোপা ঘরে তুলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। 

২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করে বাংলাদেশ। আসরের  ফাইনালে জায়গা করে নেয় এশিয়ার দুই দল ভারত ও শ্রীলংকা। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে ভারতকে ৬ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায়  লংকানরা। প্রথমে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ১৩০ রানের সংগ্রহ পায় ভারত। ৪ উইকেট ১৩৪ রান করে ১৩ বল বাকী রেখে শিরোপা জিতে নেয় লংকানরা। 

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম পাঁচ আসরের শিরোপা জিতেছিলো পাঁচ দল। ২০১৬ সালে ষষ্ঠ আসরে দ্বিতীয়বারের মত শিরোপা জিতে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের মাটিতে হওয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অবস্মরনীয় জয় পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ৯ উইকেটে ১৫৫ রান করেছিলো ইংল্যান্ড। ম্যাচ জিততে শেষ ওভারে ১৯ রান দরকার পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ইংল্যান্ড পেসার বেন স্টোকসের করা শেষ ওভারের প্রথম চার বলে চার ছক্কায় অবিশ্বাস্যভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে শিরোপা জয়ের স্বাদ দেন কালোর্স ব্র্যাথওয়েট। 

২০১৬ সালের পর ২০২১-এ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতে মাটিতে অনুষ্ঠিত আসরের  শিরোপা জিতে অস্ট্রেলিয়া। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারায় অস্ট্রেলিয়া। প্রথমে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ১৭২ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর পায় নিউজিল্যান্ড। জবাবে ৭ বল বাকী রেখে ২ উইকেটে ১৭৩ রান করে ম্যাচ জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া।

২০২২ সালে বিশ্বকাপের অষ্টম আসর অনুষ্ঠিত হয় অস্ট্রেলিয়ায়। মেলবোর্নের ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ড। বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর বেন স্টোকসের দায়িত্বশীল ইনিংসের সুবাদে ৫ উইকেটের জয়ে দ্বিতীয়বারের মত শিরোপা ঘরে তুলে ইংলিশরা। প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৩৭ রান করে পাকিস্তান। সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন শান মাসুদ। জবাবে স্টোকসের হাফ-সেঞ্চুরিতে ১ ওভার বাকী থাকতে ৫ উইকেটে ১৩৮ রানে তুলে শিরোপার স্বাদ নেয় ইংল্যান্ড। ৪৯ বলে অপরাজিত ৫২ রান করেন স্টোকস। 

২০২৪ সালে বিশ্বকাপের নবম আসরে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৭ রানে হারিয়ে শিরোপা জিতে ভারত। এতে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ দু’বার করে শিরোপা জয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের সমান হয় টিম ইন্ডিয়া। ইংল্যান্ড ২০১০ ও ২০২২ সালে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০১২ ও ২০১৬ সালে শিরোপার স্বাদ নিয়েছিল। 

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৭৬ রান করে ভারত। বিরাট কোহলি ৫৯ বলে ৭৬ রান করেন। জবাবে ৮ উইকেটে ১৬৯ রান করে হার বরণ করে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।