বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে টিকেট দিল আইসিসি
ঘটনার পরিক্রমায় সবকিছু একরকম প্রত্যাশিতই ছিল। বাকি ছিল কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার। আইসিসির ঘোষণায় সেটাই চূড়ান্ত হলো। নিরাপত্তা শঙ্কায় আসছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল ভারতে খেলতে রাজি না হওয়ায়, তাদেরকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নিল বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা।
আইসিসির শনিবারের বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
“প্রাপ্ত সব তথ্যের ভিত্তিতে এবং পারিপার্শ্বিক সবকিছু সতর্কভাবে বিবেচনায় নিয়ে আইসিসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, নির্ধারিত সূচিতে বদল আনা ঠিক হবে না।”
আইসিসির জানানোর আগেই অবশ্য খবরটি ক্রিকেট বিশ্বে প্রচার হয়ে যায়। ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আইসিসি নাকি শুক্রবার সন্ধ্যায় ই-মেইলের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা বিসিবিকে জানিয়ে দিয়েছে।
বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে ছিল লিটন দাসের দল। তাদের জায়গায় এলো ইউরোপ অঞ্চল থেকে বাছাইয়ে ব্যর্থ হওয়া স্কটল্যান্ড। গ্রুপে তাদের অন্য চার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি। বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল কলকাতায় এবং অন্যটি মুম্বাইয়ে, তাদের জায়গায় ম্যাচগুলো খেলবে স্কটিশরা।
আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে স্কটল্যান্ডের অবস্থান চতুর্দশ স্থানে। ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাইপর্বে পাঁচ দলের মধ্যে চতুর্থ হয়েছিল তারা। প্রথম দুটি স্থানে থাকা নেদারল্যান্ডস ও ইতালি জায়গা করে নেয় চূড়ান্ত পর্বে। তৃতীয় স্থানে থাকা জার্সি রান রেটে পিছিয়ে তৃতীয় হয়েছিল।
এই প্রথম কোনো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে না বাংলাদেশ। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় আসরে না খেলায় পরের বিশ্বকাপে তাদের সরাসরি খেলা পড়ে যেতে পারে শঙ্কায়।
ঘটনার সূত্রপাত কিছু রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতার দাবির মুখে আইপিএলের কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ায়।
এর কড়া প্রতিক্রিয়া দেখায় বাংলাদেশ। দেশে বন্ধ করা হয় আইপিএলের সম্প্রচার। নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানায় বিসিবি।
এ নিয়ে অনেক টানাপোড়েনের পর গত বুধবার আইসিসি সভায় ভোটাভুটিতে ১৪-২ ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ। পরে আইসিসির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটিতে গিয়েও ব্যর্থ হয় বিসিবি।
এবার চূড়ান্তভাবেই বাদ পড়ে গেল বাংলাদেশ দল।