বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি ২০২৬, মাঘ ৯ ১৪৩২, ০৩ শা'বান ১৪৪৭

আন্তর্জাতিক

ইয়েমেনে সরকারপন্থী বহরে হামলা, নিহত ৫

 প্রকাশিত: ১১:৪৪, ২২ জানুয়ারি ২০২৬

ইয়েমেনে সরকারপন্থী বহরে হামলা, নিহত ৫

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় নগরী এডেনে সৌদি-সমর্থিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বহরে বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় সরকারপন্থী ওই ইউনিটের কমান্ডার আহত হয়েছেন বলে বুধবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এডেন থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে ইয়েমেনি বার্তা সংস্থা সাবা জানায়, ‘ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামদি শুকরির বহরকে লক্ষ্য করে চালানো এই বিশ্বাসঘাতক সন্ত্রাসী হামলায় আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর পাঁচজন বীর শহীদ হয়েছেন। আরও তিনজন আহত হয়েছেন।’ 

এএফপিকে এক নিরাপত্তা সূত্র জানায়, এডেনের উত্তরাঞ্চলের জাওলা এলাকায় রাস্তার পাশে পেতে রাখা একটি গাড়িবোমা বিস্ফোরিত হয়। ঠিক সে সময়ই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শুকরির বহরটি সেখান দিয়ে যাচ্ছিল।হামলায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শুকরি প্রাণে বেঁচে যান। তবে একটি চিকিৎসা সূত্র জানায়, তার পায়ে শেলের আঘাত লেগেছে।

এই হামলার দায় এখনো কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটল, যখন ইয়েমেন সরকারের ভেতরে প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলে সংঘর্ষ চলে।

ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জোটটি এই ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের খুঁজে বের করতে ইয়েমেনের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রচেষ্টার প্রতি পূর্ণ সমর্থন’ পুনর্ব্যক্ত করে।

ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসও এই ‘উসকানিবিহীন হামলার’ নিন্দা জানিয়েছে।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার মূলত বিভিন্ন গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত। ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরোধিতাই তাদের একত্র করেছে। হুতিরা ২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখল করে নেয় এবং বর্তমানে দেশের উত্তরাঞ্চলের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।

২০১৫ সাল থেকে হুতিদের সঙ্গে সরকারের যুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে। দীর্ঘ এই সংঘাতে কয়েক লাখ ইয়েমেনি নিহত হয়েছেন এবং ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে।

ডিসেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীরা দক্ষিণের দুটি প্রদেশ দখল নিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জেরে সৌদি যুদ্ধবিমান থেকে বিমান হামলা চালানো হয় এবং প্রো-সৌদি মিলিশিয়ারা পাল্টা অভিযান শুরু করে।

এরপর আমিরাত তাদের সেনা প্রত্যাহার করলে প্রো-সৌদি বাহিনী পুরো দক্ষিণ ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

এই ঘটনার পর সরকার ও প্রেসিডেন্সিয়াল নেতৃত্ব কাঠামোর ভেতরে ব্যাপক শুদ্ধি অভিযান চালানো হয়েছে।