শনিবার ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, মাঘ ১১ ১৪৩২, ০৫ শা'বান ১৪৪৭

ব্রেকিং

বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে টিকেট দিল আইসিসি বাংলাদেশ বাদ: বিশ্বকাপে পাকিস্তানের খেলা নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত জানার অপেক্ষায় পিসিবি মার্কিন প্রতিরক্ষায় চীন আর প্রধান নিশানা নয় তারেক রহমানের চট্টগ্রামের প্রচারাভিযান রোববার চাঁদাবাজি-আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড: ডিবি পোস্টাল ব্যালটে সিল দিয়ে `দ্রুত` পোস্ট অফিসে জমা দিন: ইসি যে কোনো হামলাকে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে গণ্য করবে ইরান প্রশান্ত মহাসাগরে মাদকবাহী নৌযানে মার্কিন হামলা, নিহত ২ ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ১, আহত ১৫ দিল্লির সংবাদ সম্মেলনে অডিও বার্তায় ইউনূসকে তীব্র আক্রমণ হাসিনার জীবন যাবে, কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না: জামায়াত আমির ভোটের লড়াইয়ে ৭৬ নারী প্রার্থী, হিজড়া একজন ট্রাম্পের শুল্ক খড়্গ: ‘সবচেয়ে বড় চুক্তি’র পথে ভারত ও ইইউ আবু ধাবিতে রাশিয়া, ইউক্রেইনের মধ্যে বিতর্কিত আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা

আন্তর্জাতিক

মার্কিন প্রতিরক্ষায় চীন আর প্রধান নিশানা নয়

 প্রকাশিত: ২০:৫১, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

মার্কিন প্রতিরক্ষায় চীন আর প্রধান নিশানা নয়

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কৌশলপত্রে চীন আর সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে না; এর পরিবর্তে অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও পশ্চিম গোলার্ধে বেশি মনোযোগ দেবে মার্কিন প্রশাসন।

পেন্টাগনের নতুন কৌশলপত্রে এই পরিবর্তনের কথা রয়েছে বলে শনিবার স্কাই নিউজ ও বিবিসিসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে।

দেশটির ২০২৬ সালের জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলপত্র অনুযায়ী, চীনকে এখন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি স্থিতিশীল শক্তি হিসেবে দেখতে চাইছে পেন্টাগন। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের ওপর আধিপত্য বিস্তার থেকে চীনকে বিরত রাখাই যথেষ্ট মনে করছে তারা।

প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পূর্বসূরি জো বাইডেনের সময় বেইজিংকেই শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হতো।

নতুন কৌশলপত্রটি ট্রাম্পের গত বছরের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের ভিত্তিতে তৈরি করা।

ওই কৌশলে বলা ছিল, যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম গোলার্ধে নিজেদের আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে, ইন্দো-প্যাসিফিকে সামরিক শক্তি বাড়াবে এবং প্রয়োজনে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করবে।

নতুন নথিতে বলা হয়েছে, ইউরোপসহ অন্যান্য অঞ্চলের মিত্রদের ‘গুরুত্বপূর্ণ, তবে সীমিত’ সামরিক সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র।

এতে আরও বলা হয়, “দৃষ্টিভঙ্গি, মনোযোগ ও ভাষায় তীক্ষ্ণ পরিবর্তন’ প্রয়োজন, যেন ‘বিপর্যয়ের পথে থাকা’ পুরনো পথ ছেড়ে আমেরিকাকে আবার মহান করার দিকে নেওয়া যায়।”

এই কৌশল প্রকাশ যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মিত্রের মধ্যে অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলতে পারে।

কারণ ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনা নিয়ে এরই মধ্যে ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের টানাপড়েন তৈরি হয়েছে।

টানাপড়েন তৈরি করেছে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যও, যেখানে তিনি অভিযোগ করেছেন, আফগান যুদ্ধে ন্যাটো সেনারা সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি।

পেন্টাগনের কৌশলপত্রে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আর বিচ্ছিন্নতাবাদী নীতিতে থাকবে না।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র কেন মিত্রদের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীলতা আশা করে এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী কেন দেশের অভ্যন্তরে বেশি মনোযোগ দেবে, সে ব্যাখ্যাও রয়েছে কৌশলপত্রে।

দেশের অভ্যন্তরে নজর বাড়ানোর অংশ হিসেবে পশ্চিম গোলার্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড’ আর ছেড়ে না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

পাশাপাশি পেন্টাগন ট্রাম্পকে এমন বিকল্প সুযোগ তৈরি করে দেবে, যেখানে আর্কটিক থেকে দক্ষিণ আমেরিকা পর্যন্ত সব গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ড, গালফ অব আমেরিকা ও পানামা খালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা যায়।

কোরীয় উপদ্বীপ

কৌশলপত্রে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসনের হুমকির বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে সজাগ থাকতে হবে।

কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, দেশটি উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আওতার মধ্যে রয়েছে।

পেন্টাগনের নথিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো দেশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় বর্তমানে ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা অবস্থান করছে এবং এ বছর সিউল প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ সাড়ে ৭ শতাংশ বাড়িয়েছে।

পেন্টাগন মনে করে, শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর কারণে উত্তর কোরিয়াকে সংযত রাখার ‘প্রধান দায়িত্ব পালনে’ দক্ষিণ কোরিয়া সক্ষম হয়েছে।

ইউক্রেইন

জো বাইডেন রাশিয়ার আগ্রাসন থেকে ইউক্রেইনকে রক্ষা করা শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।

কিন্তু এবারের কৌশলপত্রে বলা হয়েছে, ইউক্রেইনের প্রতিরক্ষার নেতৃত্ব ন্যাটো মিত্রদেরই নিতে হবে।

পেন্টাগন ইউক্রেইনে শান্তি ফেরানোকে ‘ইউরোপের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ‘গুরুত্বপূর্ণ’ সামরিক সহায়তা দিলেও সেটা হবে ‘সীমিত’।

রাশিয়া

পেন্টাগনের কৌশলপত্রে রাশিয়াকে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সদস্যদের জন্য ‘স্থায়ী’ কিন্তু ‘নিয়ন্ত্রণযোগ্য’ হুমকি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, মস্কো এখন ইউরোপে আধিপত্য বিস্তার করার মতো অবস্থানে নেই।

ন্যাটোর ইউরোপীয় মিত্রদের রাশিয়ার তুলনায় ‘অনেক বেশি শক্তিশালী’ হিসেবে বর্ণনা করে নথিতে বলা হয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে কোনো ‘তুলনাই চলে না’।

উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, জার্মানির অর্থনীতি একাই রাশিয়ার অর্থনীতির চেয়ে অনেক বড়।

ইউরোপ নিয়ে উদ্বেগও আছে পেন্টাগনের নথিতে। এতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইউরোপের অংশীদারত্ব কমছে।

চীন

যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনকে উনিশ শতকের পর সবচেয়ে ‘শক্তিশালী রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে পেন্টাগনের নথিতে।

এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অনুকূল সামরিক শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে চায়। তবে এটি এটি চীনের ওপর ‘আধিপত্য বিস্তার, তাদেরকে অপমান বা অবরুদ্ধ’ করার জন্য নয়।

এক্ষেত্রে পেন্টাগনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, কোনো দেশ যেন যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে।

ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে, “এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব, যেটা আমেরিকানদের অনুকূলে থাকবে, আবার চীনের জন্যও মেনে নেওয়া কিংবা টিকে থাকার মতো হবে।”