সোমবার ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মাঘ ২৭ ১৪৩২, ২১ শা'বান ১৪৪৭

ব্রেকিং

মোবাইল ফোন নিয়ে সিদ্ধান্ত না পাল্টালে ইসি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি নাহিদের ভোটকেন্দ্রে ফোন নিষিদ্ধের নির্দেশনা ‘বিস্ময়কর’: ১১ দলীয় জোট এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান করার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের পদত্যাগ করলেন বিচারপতি মামনুন রহমান ও নাইমা হায়দার সাংবাদিক-পর্যবেক্ষকরা কেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন: ইসি নির্বাচনে কোনো হুমকি নেই: ডিএমপি কমিশনার হাদি হত্যা: প্রতিবেদন দাখিলে ফের সময় পেল সিআইডি র‌্যাব ও ডিজিএফআইয়ের বিলুপ্তি চাইলেন ইকবাল করিম ভূঁইয়া রাষ্ট্র পুনর্গঠনে প্রস্তুত বিএনপি: তারেক রহমান সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি বিমান বাহিনীর ড্রোন থেকে ভোটের মাঠ লাইভ দেখবে ইসি ও সরকার নির্বাচন: দ্রুত বিচারে মাঠে নামছেন ৬৫৫ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়, ক্ষমতা সুসংহত হল জাপানের ‘লৌহমানবী’ তাকাইচির মিডিয়া টাইকুন জিমি লাইয়ের ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ইসির

রাজনীতি

এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান করার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

 প্রকাশিত: ১৮:২০, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান করার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

জনগণের ভোটে দেশ পরিচালনা করার সুযোগ পেলে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান করে দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে প্রচারের শেষে দিনে সোমবার দুপুর আড়াইটায় ঢাকা- ৮ আসনে পীরজঙ্গি মাজার সড়কে এক পথসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান এই প্রতিশ্রুতি দেন। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হলেন মির্জা আব্বাস।

তিনি বলেন, “এই এলাকায় (ঢাকা-৮ আসন) তরুণ-যুবকদের কর্মসংস্থানের সমস্যা আছে, এই সমস্যা শুধু ঢাকা নয়, সমগ্র বাংলাদেশে এই সমস্যা। এরজন্য আপনাদের প্রিয় দল বিএনপি এই ব্যাপারে কর্মসূচি এবং পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আমরা বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে ইনশাল্লাহ এক কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করব।”

অর্থনীতির উন্নয়নে পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা দেশে বিনিয়োগকারীদেরকে উৎসাহিত করব, বিদেশ থেকে বিনিয়োগকারীদেরকে আমরা আমন্ত্রণ জানাব, দেশে মিল কারখানা তৈরির মাধ্যমে যেমন আমরা একদিকে বেকার সমস্যার সমাধান করব।”

দক্ষ নাগরিক গড়ে তোলার পরিকল্পনায় তারেক রহমা্ন বলেন, “একইভাবে আমরা এই ঢাকা-৮ আসনসহ যত জেলা আছে, সর্বত্র ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, ট্রেনিং ইনস্টিটিউট টেকনোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট এবং আইটি সংক্রান্ত বিভিন্ন ইনস্টিটিউট আমরা তৈরি করব সেখানে আমাদের তরুণ সমাজের ছেলে হোক মেয়ে হোক তাদেরকে আমরা দক্ষ নাগরিক হিসেবে ধীরে ধীরে গড়ে তুলব। যার ফলে তারা দেশেই হোক নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করে নিবে পারবে, দেশেই হোক তারা নিজেদের বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হবে।

“একই সাথে তারা বিদেশেও যেতে পারবে। যারা বিদেশে যাবেন…আমরা দেখেছি আমাদের প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী বিদেশে আছেন। এর মধ্যে অনেক মানুষ বিদেশ যাবার আগে অর্থ সংকটের জন্য তারা নিজেদের বাপ-দাদার জমি বিক্রি করতে হয়। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, ইনশাআল্লাহ আগামীতে যারা এই দক্ষ মানুষ যারা বিদেশে যাবে আমাদের তরুণরা, যুবকরা যারা বিদেশে যাবে, যারা অর্থ সংকটের কারণে যেতে পারছে না তাদেরকে আমরা জমি বিক্রি করতে দেব না। তাদেরকে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করে দেব। যেই টাকা সে ধীরে ধীরে ওখানে কর্মসংস্থান করে পরিশোধ করবে। কিন্তু আমরা বাপ দাদার জমি যাতে বিক্রি করতে না আমরা সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।”

একই সঙ্গে বিএনপি নির্বাচিত হলে এক লাখ স্বস্থ্য কর্মী নিয়োগ দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার কথাও বলেন তিনি।

ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, স্বাস্থ্য সেবা, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ সকল ধর্মগুরুদের জন্য সন্মানি ভাতা প্রবর্তন, আইনশৃঙ্খলা ঠিক করা, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার বিষয়ে দলের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, “আমি আমার বক্তব্যে দলের পরিকল্পনা তুলে ধরলাম। ১২ তারিখে আপনাদের পরিকল্পনা কী আমি জানতে চাই?”

হাজারো নেতা-কর্মী-সমর্থক সমস্বরে তখন বলে ওঠে ‘ধানের শীষ, ধানের শীষ’।

বিএনপি নির্বাচিত হলে ঢাকা-৮ আসনে খেলা মাঠ নির্মাণ, কবরাস্থানের জন্য জায়গা প্রদান, জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান।

পরে মির্জা আব্বাসের হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়ে তাকে নির্বাচিত করার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

এদিন বনানীর কামাল আতাতুর্ক মাঠে সভর মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এরপর তিনি ঢাকা-১০ আসনে শেখ রবিউল আলম রবির নির্বাচনি এলাকায় কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে জনসভায় বক্তব্য রাখার পর আসেন ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাসের আসনে।

‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং রুখতে হবে’

ঢাকা-৮ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, “সারাদেশের জনগণ ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় আছে। ১৭ বছর উত্তপ্ত রাজপথে হেঁটে, নির্যাতিত হয়ে, গুম-খুন সহ্য করে আমরা এই ভোটের অধিকার আদায় করেছি। আমরা জানতে পারছি, আমরা শুনতে পারছি, আমার বক্তব্য তাদের উদ্দেশে যারা ষড়যন্ত্র করছেন। আমরা বুঝতে পারছি বিভিন্ন কর্নার থেকে বিভিন্ন মহল বিশেষ বিশেষ ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে পাস করানোর জন্য চিন্তাভাবনা করছে। এরমধ্যে ঢাকায় কয়েকটি সিট ও বাংলাদেশে কয়েকটি সিট জোরজবরদস্তি করে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ছিনতাই করার চেষ্টা করবে।”

বিগত দিনের আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে তারেক বলেন, “আমরা ১৭ বছর রাজপথে সংগ্রাম করেছি, বহু রক্ত ঝরিয়েছি। আর একটা দিন কষ্ট করে আমরা ভোট দেব, পোলিং সেন্টার পাহারা দেব। ওই পোলিং সেন্টারে যদি কেউ বিশৃঙ্খল অবস্থা সৃষ্টি করতে চায়, সরকারি কর্মকর্তা হোক, বেসরকারি কর্মকর্তা হোক কাউকে কিছু করার সুযোহ দেওয়া হবে না। অনেকে বিদেশ থেকে চক্রান্ত করছেন এদেশে একটা হানাহানি হোক। আমরা এর কোনো সুযোগ আমরা দেবো না।”

মির্জা আব্বাস বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, উনি প্রধানমন্ত্রী হবে। সেজন্য আমরা এলাকায় কিছু দাবি আছে গ্যাস-পানি-জলাবদ্ধতা, তরুণদের বেকার সমস্যা, খেলার মাঠ এবং কবরাস্থানে জন্য জায়গা সম্প্রসারণ…সেগুলো উনি সমাধান করে দেবেন এই প্রত্যাশা আমি করি।”

এই জনসভায় মির্জা আব্বাসের সহধর্মিনী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসও উপস্থিত ছিলেন।

‘গুপ্ত ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকুন’

ঢাকা-১০ আসনে কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠের জনসভায় তারেক রহমান বলেন, “আমরা দেখেছি, একটি মহল তাদের নেতা-কর্মীরা ধরা পড়েছে নকল ব্যালেটের সিল বানাতে গিয়ে। কাজেই আজকে ঢাকা-১০ সকল গণতন্ত্রকামী মানুষ যারা চায়ে এদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে আপনাদেরকে আজকে সতর্ক থাকতে হবে, সজাগ থাকতে হবে এইসব নকল সিল বানায় তাদের বিরুদ্ধে।”

কোনো দলের নাম না নিয়ে তারেক বলেন, “যারা বাসাবাড়িতে গিয়ে মা-বোনদেরকে বিভ্রান্ত করে তাদের বিকাশ নাম্বার চায়, তাদের এনআই নাম্বার চায়…এই সকল ষড়যন্ত্র গুপ্ত ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আপনাদেরকে আজকে সজাগ থাকতে হবে। তা না হলে শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা যেই ভোটের অধিকারকে আজকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি সেই অধিকার আবার হারিয়ে যাবে। সেই অধিকারে আবার ষড়যন্ত্রের বেড়াজলে আটকে যাবে।”

তিনি বলেন, ‘‘ কাজেই আমরা যদি সতর্ক থাকি তাহলে বাংলাদেশকে কেউ আটকে রাখতে পারবে না, আমরা যদি সতর্ক থাকি বাংলাদেশের সেই গতি কেউ রোধ করতে পারবে না, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের গতি কেউ করতে পারবে না।

“আজকে এই নির্বাচনি জনসভায় আমাদের সকলকে শপথ নিতে হবে, প্রতিজ্ঞা করতে হবে যে যে কোনো মূল্যে আমরা বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং রাজনৈতিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করব, যেকোনো মূল্যে আমরা আমাদের বাংলাদেশের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা সকলে কাজ করবো।”

পরে তারেক রহমান ঢাকা-১০ আসনের প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবিকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করে দিয়ে তার জন্য ভোট চান।

তিনি বলেন, “রবিকে আমরা ধানের শীষের প্রার্থী করেছি। রবি তার বক্তব্যে এই এলাকার বিভিন্ন সমস্যার কথা বলেছেন, সমাধানের কথা বলেছেন। ইনশাল্লাহ রবির সাথে আমিও বলে যাচ্ছি ঢাকা-১০ ধানের শীষ নির্বাচিত হলে সরকার গঠন করলে রবি যেসব ওয়াদা করেছে সেটি বাস্তবায়নের জন্য আমিও রবির সাথে কাজ করব। কারণ ঢাকা-১০ আসনের বাসীদের সাথে কিন্তু আমার আত্বীয়তা সম্পর্ক আছে।আমরা দায়িত্ব এই এলাকায় সমস্যার ইনশাল্লাহ সমাধান করব।”

ঢাকা-৮ আসনের জনসভা শেষ করে তারেক রহমানের গাড়িবহর রওনা হয় ঢাকা-৯ আসনে হাবিবুর রশীদ হাবিবের আসনে বাসাবো তরুণ সংঘ মাঠে। এছাড়া ঢাকা-৫ আসনে নবী উল্লাহ নবীর যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক রোডে, ঢাকা-৪ আসনে তানভীর আহমেদ রবিনের জুরাইন দয়াগঞ্জ রোডে, ঢাকা-৬ আসনে ইশরাক হোসেনের ধূপখোলা মাঠে এবং ঢাকা-৭ আসনে হামিদুর রহমান হামিদের লালবাগ বালুর মাঠের পথসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি।

ঢাকার বাইরে বিশটির বেশি জায়গায় নির্বাচনে প্রচার শেষে করে রোববার ঢাকা মহানগরে প্রচারণা শুরু করেন তারেক রহমান। রোববার তিনি ঢাকার ৭টি নির্বাচনি পথসভায় বক্তব্য রাখেন।