মিডিয়া টাইকুন জিমি লাইয়ের ২০ বছরের কারাদণ্ড
মিডিয়া টাইকুইন জিমি লাইকে হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
স্কাই নিউজ লিখেছে, ব্রিটিশ নাগরিক লাইকে গত ডিসেম্বরে বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশের ষড়যন্ত্রের দুটি অভিযোগ এবং রাষ্ট্রদ্রোহমূলক প্রকাশনার একটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
৭৮ বছর বয়সি লাই তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন আদালতে বলেন, তিনি বেইজিংয়ের নিপীড়নের শিকার একজন ‘রাজনৈতিক বন্দি’।
রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না—এই প্রশ্নে তার আইনজীবী কোনো মন্তব্য করেননি।
লাই গণতন্ত্রপন্থি পত্রিকা ‘অ্যাপল ডেইলি’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যেটি বর্তমানে বন্ধ হয়ে রয়েছে। হংকংয়ে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর সেখানে চীন জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করে, ২০২০ সালের অগাস্টে গ্রেপ্তার হন লাই।
চীনা কমিউনিস্ট পার্টির দীর্ঘদিনের সমালোচক লাই গত পাঁচ বছরে কারাবাসের সময় ছোট কয়েকটি অপরাধেও দণ্ডিত হয়েছেন।
স্কাই নিউজ লিখেছে, লাইয়ের করুণ পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারসহ বিশ্বনেতারা চীনের সমালোচনা করেছেন।
কিয়ার স্টারমার গত মাসে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এ মামলা নিয়ে আলোচনা করেন। যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েল এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সফর শেষে পার্লামেন্টে কিয়ার স্টারমার বলেন, “আমি জিমি লাইয়ের বিষয়টি তুলেছি এবং তার মুক্তির আহ্বান জানিয়েছি। এই আলোচনা চলবে এবং লাইয়ের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।”
একাধিক পশ্চিমা কূটনীতিবিদ রয়টার্সকে বলেছেন, লাই আপিল করবেন কি না তার ওপর নির্ভর করে তাকে মুক্ত করার বিষয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হতে পারে।