ইসির সামনে রাত পর্যন্ত অবস্থানের ঘোষণা ছাত্রদলের
‘বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাবে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণসহ’ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে নির্বাচন ভবনের সামনে নেওয়া অবস্থান রাত পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে ছাত্রদল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আবেদনের শুনানির শেষ দিন রোববার সকাল থেকে তারা এ অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন।
পূর্ব নির্ধারিত ‘নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি’ পালন করতে এসে এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা নির্বাচন ভবনের সামনের সড়কে বসে পড়েন।
এ কর্মসূচিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, ঢাকা মহানগর উত্তর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণসহ বিভিন্ন থানা পর্যায়ের সহস্রাধিক নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন।
নির্বাচন ভবনের সামনের সড়কে দেওয়া পুলিশের ব্যারিকেডের সামনে ও বিপরীত পাশের সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। এছাড়া খণ্ড খণ্ডভাবে কয়েকটি গ্রুপ সড়কে ঘুরে ঘুরে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনের এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। বেলা ১১টার আগেই তারা নির্বাচন ভবনের সামনে আসেন। এরপর থেকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীদের জমায়েতও বাড়তে থাকে।
রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “আমরা তো বললাম যে আজকের মূল যে ইস্যু হলো ব্যালট পেপার ইস্যু, যেটি আমরা লক্ষ্য করলাম যে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব প্রতিপত্তির মাধ্যমে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং যারা এখানে বসে আছে, তাদের অবশ্যই প্রত্যক্ষ ইন্ধনে এবং প্রত্যক্ষ মদদে এই ঘটনাটি ঘটেছে।
“তো যদিও তারা হয়তোবা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে বলে আমরা জেনেছি মিডিয়ার মাধ্যমে, আমরা অবগত নই।”
দুপুর ১২ টায় নির্বাচন ভবনের সামনে নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, “বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল এবং যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে নির্বাচন কমিশন হটকারী এবং অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যা স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের পেশাদারিত্বকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের এই 'শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি' জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আজকে একদম রাত অবধি এই অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব।”
ছাত্রদলের ৩ অভিযোগ হচ্ছে—
১. পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।
২. বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে ইসি, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
৩. বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে ইসি নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।