রোববার ০৭ জুন ২০২৬, জ্যৈষ্ঠ ২৪ ১৪৩৩

ব্রেকিং

ছাত্রদলের হামলায় ভাঙা মঞ্চে দাঁড়িয়ে নাসীরুদ্দীন বললেন, ‘সন্ত্রাসী শায়েস্তা করতে জানি’ দৌলতদিয়ায় বাসডুবি: বাস চালক, সুপারভাইজার ও সহকারী গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রের চোখে ‘ফেরারি’ রাউল কাস্ত্রো হাভানার প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে পুশ-ইনের চেষ্টায় ব্যর্থ বিএসএফ, আলো নিভিয়ে সরিয়ে নিলো ৩৩ জনকে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৩ জনের মৃত্যু ঢাকায় আর থাকতে ইচ্ছা করে না, বুড়িগঙ্গার কাছে যাওয়া যায় না: মির্জা ফখরুল তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষাসহ ২ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত ‎ছুটি শেষে স্কুল-কলেজ খুলছে রোববার ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার চেষ্টা বুমেরাং হবে: পুতিন সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে বিজিবি, আরও ৮টি প্রতিহত দ্রুত বিচার, সর্বোচ্চ শাস্তি চাই: রামিসার বাবা ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়‌কে ১৮ কি‌লো‌মিটার যানজট ফটিকছড়িতে ছাত্রলীগের সভা-মিছিল, মামলায় শতাধিক আসামি, গ্রেপ্তার ৩ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ফের পাল্টাপাল্টি হামলা ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

ইসলাম

দ্বীন প্রচারে সুসংবাদ ও ভীতি প্রদর্শনের নীতি

 প্রকাশিত: ১১:৪২, ৭ জুন ২০২৬

দ্বীন প্রচারে সুসংবাদ ও ভীতি প্রদর্শনের নীতি

মুমিনের জীবন পরকালমুখী। ধর্মীয় জীবনের লক্ষ্য পরকালীন জীবনের সাফল্য। তাই দ্বীন প্রচারে পরকালীন জীবনের লাভ ও ক্ষতির বর্ণনা বার বার চলে আসে। দ্বীন প্রচারকরা তাদের আলোচনায় জান্নাতের সুসংবাদ ও জাহান্নামের ভয় প্রদর্শন করে থাকে। দ্বীন প্রচারে সুসংবাদ দান ও ভীতি প্রদর্শনের গুরুত্ব ও পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

সুসংবাদ ও ভীতি প্রদর্শন জরুরি কেন

দ্বীন প্রচারের ক্ষেত্রে সুসংবাদ ও ভীতি করা জরুরি। কেননা সুসংবাদ প্রদান এবং ভয় প্রদর্শন করা নবীদের অন্যতম দায়িত্ব। নবী-রাসুলদের উত্তরসূরী হিসেবে আলেম ও দ্বিন প্রচারকরাও তাদের আলোচনায় মানুষকে সুসংবাদ দেবে এবং ভীতি প্রদর্শন করবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি সমগ্র মানবজাতির জন্য আপনাকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ তা জানে না।’ (সুরা সাবা, আয়াত : ২৮)

যেভাবে আলোচনা করা হবে

আলেম ও দ্বিন প্রচারকরা কিভাবে সুসংবাদ দেবে এবং ভীতি প্রদর্শন করবে তার একটি রূপরেখা পবিত্র কোরআনে পেশ করা হয়েছে। তা হলো, সুসংবাদ ও ভীতি প্রদর্শনের সময় তার কারণগুলোও বর্ণনা করা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি রাসুলগণকে শুধু সুসংবাদবাহী ও সতর্ককারীরূপেই প্রেরণ করি। কেউ ঈমান আনলে ও নিজকে সংশোধন করলে তার কোনো ভয় নেই এবং সে দুঃখিতও হবে না। যারা আমার নিদর্শনগুলোকে মিথ্যা বলেছে সত্য ত্যাগের জন্য তাদের ওপর শাস্তি আপতিত হবে।’ (সুরা আনআম, আয়াত : ৪৮-৪৯)

শুধু সুসংবাদ বা ভীতি প্রদর্শন নয়

আলেমরা বলেন, পবিত্র কোরআনের যেখানেই আল্লাহ সুসংবাদ প্রদর্শনের কথা বলেছেন সেখানেই তিনি ভীতি প্রদর্শনেরও কথা বলেছেন। আল্লাহ শুধু ভীতি বা সুসংবাদ প্রদান করেননি। তাই দ্বীন প্রচারকারীদের দায়িত্ব হলো তাদের আলোচনায় একই সঙ্গে জান্নাত ও জাহান্নাম উভয়টির আলোচনা করা। শুধুই ভয়ের কথা বা শুধুই আশার কথা আলোচনা না করা। এই পদ্ধতিতেই আল্লাহ দ্বীন প্রচারকদের সাফল্য রেখেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে নবী! আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষীরূপে এবং সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারীরূপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপরূপে।’ (সুরা আহজাব, আয়াত : ৪৫-৪৬)

নবী (সা.)-এর আলোচনায় সুসংবাদ ও ভীতি

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আলোচনায়ও সুসংবাদ ও ভীতি স্থান পেয়েছে। আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, আমার ও আমাকে আল্লাহ যা কিছু দিয়ে পাঠিয়েছেন তার উদাহরণ হলো এমন যে, এক লোক কোনো এক সম্প্রদায়ের কাছে এসে বলল, হে সম্প্রদায়! আমি নিজের চোখে সেনাবাহিনীকে দেখে এসেছি। আমি সুস্পষ্ট সতর্ককারী। কাজেই তোমরা আত্মরক্ষার চেষ্টা কর। তখন গোত্রের কিছু লোক তার কথা মেনে নিল, সুতরাং রাতের প্রথম প্রহরে তারা সে জায়গা ছেড়ে রওনা হলো এবং একটি নিরাপদ জায়গায় গিয়ে পৌঁছাল। ফলে তারা রক্ষা পেল। তাদের মধ্যের আর একদল লোক তার কথা মিথ্যা জানল, ফলে তারা নিজেদের জায়গাতেই রয়ে গেল। সকাল বেলায় শত্রু বাহিনী তাদের ওপর আক্রমণ চালাল, তাদেরকে ধ্বংস করে দিল এবং তাদেরকে উত্খাত করে দিল। এই হলো তাদের উদাহরণ যারা আমার আনুগত্য করে এবং আমি যা নিয়ে এসেছি তার অনুসরণ করে। আর যারা আমার কথা অমান্য করে তাদের দৃষ্টান্ত হলো আমি যে সত্য নিয়ে এসেছি তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭২৮৩)

থাকবে পার্থিব জীবনের সুসংবাদ ও ভীতি

দ্বীনি আলোচনায় আলেম ও দ্বীন প্রচারকরা শুধু পরকালীন জীবনে সুসংবাদ ও ভীতি প্রদর্শন করবে না, বরং দ্বীন পালনের পার্থিব উপকার এবং তা প্রত্যাখ্যান করার পার্থিব ক্ষতিগুলোও আলোচনা করবে। যেভাবে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘পুরুষ ও নারীর ভেতর যারা মুমিন অবস্থায় নেক আমল করে আমি তাকে উত্তম জীবন যাপন করাব।’ (সুরা নাহল, আয়াত : ৯৭)

আল্লাহ আরো বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও নেককাজ করে আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন, যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে, তিনি অবশ্যই তাদের জন্য প্রতিষ্ঠিত করবেন তাদের দ্বীনকে যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়ভীতির পরিবর্তে তাদেরকে অবশ্য নিরাপত্তা দান করবেন।’ (সুরা নুর, আয়াত : ৫৫)

আল্লাহ সবাইকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।