মারেফাত ইবাদত বিমুখ করে না
আয়েশা (রা.) নবী (সা.) রাতে (এত দীর্ঘ সময়) নামাজ আদায় করতেন যে, তাঁর পা দুখানি (ফুলে) ফেটে (দাগ পড়ে) যেত। একদা আমি তাঁকে বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি এরূপ কাজ কেন করছেন? আল্লাহ তো আপনার আগের ও পিছের সব পাপ মোচন করে দিয়েছেন। তিনি বললেন, আমি কি তাঁর কৃতজ্ঞ বান্দা হতে পছন্দ করব না?’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৮৩৭)
শিক্ষা
হাদিসবেত্তাগণ বলেন,
১. হাদিসটি ইবাদত-বন্দেগির ক্ষেত্রে মহানবী (সা.)-এর উচ্চ নিষ্ঠা, আগ্রহ ও প্রচেষ্টার প্রমাণ।
২. মারেফাত তথা আল্লাহর পরিচয় ও নৈকট্য লাভ বান্দাকে ইবাদতবিমুখ করে না। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেয়ে অধিক মারেফাতের অধিকারী কেউ ছিল না।
৩. ইবাদত ও আনুগত্য আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায়ের উত্তম মাধ্যম।
৪. মুমিন আল্লাহর নৈকট্য লাভে সর্বোচ্চ চেষ্টা ও মুজাহাদা করবে, কিন্তু নিজের ক্ষতি হয় এমন বোঝা নিজের ওপর চাপিয়ে নেবে না। কেননা এতে মন-মানসিকতা বিগড়ে যাওয়ার ভয় থাকে।
৫. মুমিনের অন্তর থেকে কখনোই আল্লাহর ভয় মুক্ত হবে না, সে দ্বিনের পথে যত মর্যাদাশীলই হোক না কেন। (মাউসুয়াতুল হাদিসিয়্যা)