বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ ২০২৬, চৈত্র ১২ ১৪৩২, ০৭ শাওয়াল ১৪৪৭

ব্রেকিং

জ্বালানি সংকট সামলাতে কোভিডকালের নিয়মে ফেরার চিন্তায় এশিয়ার দেশগুলো দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে বাস পদ্মায়, হতাহতের শঙ্কা ২০২৭ সাল থেকে এসএসসির বিষয় কমানোর চিন্তা স্পট মার্কেট থেকে আরো ২ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার মানিকগঞ্জে নদীতে গোসলে নেমে ভাই-বোনের মৃত্যু নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল জেনারেল মাসুদকে এবার দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় জোর দেওয়ার তাগিদ জোবাইদা রহমানের প্রাথমিকের ‘আটকে যাওয়া’ বৃত্তি পরীক্ষা শুরু ১৫ এপ্রিল যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় ভ্যান্স-রুবিও, ‘শুনতে আগ্রহী’ ইরান মধ্যপ্রাচ্যে আরও ‘তিন-চার হাজার সেনা পাঠাতে যাচ্ছে’ যুক্তরাষ্ট্র কক্সবাজারে ছুরিকাঘাতে ‘জুলাই যোদ্ধা’ নিহত স্বাধীনতা দিবস ঘিরে স্মারক ডাক টিকেট উন্মোচন প্রধানমন্ত্রীর ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ শর্ত

ইসলাম

যেভাবে ব্যবসার বরকত নষ্ট হয়

 প্রকাশিত: ১০:১২, ২৬ মার্চ ২০২৬

যেভাবে ব্যবসার বরকত নষ্ট হয়

ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে এমন কিছু কাজের কথা বলা হয়েছে, যেগুলো ব্যবসার বরকত নষ্ট করে। আমরা যারা ব্যবসা বাণিজ্যের সাথে জড়িত আছি তাদের মধ্যে অনেকে এসব কাজ সচরাচর করে থাকেন। নিম্নে এ ধরনের কিছু কাজ তুলে ধরা হলো।

১. মাপে কম দেওয়া

ওজনে কম দেওয়ার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘বহু দুর্ভোগ আছে তাদের, যারা মাপে কম দেয়, যারা মানুষের কাছ থেকে যখন মেপে নেয় পূর্ণমাত্রায় নেয় আর যখন অন্যকে মেপে বা ওজন করে দেয়, তখন কমিয়ে দেয়। তারা কি চিন্তা করে না, তাদেরকে জীবিত করে ওঠানো হবে? এক মহাদিবসে, যেদিন সব মানুষ রাব্বুল আলামিনের সামনে দাঁড়াবে।’ (সুরা : মুতাফফিফিন, আয়াত : ১-৬)

মানুষের এই পাপের কারণে দুনিয়াতেও বিভিন্ন বড় বিপদের সম্মুখীন হতে হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যখন কোনো জাতি ওজন ও পরিমাপে কম দেয়, তখন তাদের ওপর নেমে আসে দুর্ভিক্ষ, কঠিন বিপদ-মুসিবত।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪০১৯)

২. মিথ্যা শপথ করা

ব্যবসায় বেশি লাভের আশায় অনেকে মিথ্যার আশ্রয় নেয়। এ ক্ষেত্রে ক্রেতার আস্থা অর্জন করতে অনেকে মিথ্যা শপথ পর্যন্ত করে বসে, যা নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন তিন প্রকার ব্যক্তির সঙ্গে আল্লাহ কথা বলবেন না এবং তাদের গুনাহ থেকে পবিত্র করবেন না, বরং তাদের জন্য থাকবে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তাদের একজন হলো সেই ব্যক্তি, যে দান করে পরে খোঁটা দেয়; দ্বিতীয় ব্যক্তি, যে ইজার বা লুঙ্গি ইত্যাদি লটকিয়ে চলে; তৃতীয় ব্যক্তি, যে মিথ্যা শপথ দ্বারা পণ্য চালায়।’ (নাসায়ি, হাদিস : ৫৩৩৩)

৩. পণ্যের দোষ গোপন করা

কিছু পণ্য এমন আছে, যেগুলো সম্পর্কে সাধারণ মানুষ ধারণা রাখে না। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তাদের পণ্যের দোষ গোপন করে সেই সরল ক্রেতাদের ঠকিয়ে দেয়। অথচ নবীজি (সা.) এ ধরনের কাজ নিষিদ্ধ করেছেন। উকবাহ বিন আমির (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘মুসলমান মুসলমানের ভাই। অতএব কোনো মুসলমানের পক্ষে তার ভাইয়ের কাছে পণ্যের ত্রুটি বর্ণনা না করে তা বিক্রি করা বৈধ নয়।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২২৪৬)

৪. সুদি লেনদেন করা

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আল্লাহ সুদকে মিটিয়ে দেন এবং সদকাকে বাড়িয়ে দেন। আর আল্লাহ কোনো অতি কুফরকারী পাপীকে ভালোবাসেন না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৭৬)

এর প্রভাব কখনো কখনো দুনিয়াতেও দেখা যায় যে সুদি লেনদেনে জড়িত হওয়ার পর থেকে ব্যবসায় লোকসানের হার বেড়ে যায়। কারো কারো দুনিয়াতে এর প্রভাব অনুভূত না হলেও হারামে লিপ্ত হওয়ার কারণে সে তো আখিরাত থেকে নিশ্চিতভাবে বঞ্চিত হচ্ছে, এ অবস্থায় দুনিয়া থেকে চলে গেলে সেই ক্ষতি কোনো কিছু দিয়ে পোষানোর সুযোগ থাকবে না।

৫. কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে গুদামজাত করা

রমজান, ঈদসহ বিভিন্ন মৌসুমে ক্রেতাদের থেকে বাড়তি মুনাফা করার জন্য অনেক সময় অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্য গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। অথচ এই কাজের শাস্তি মহান আল্লাহ দুনিয়া থেকেই দেওয়া শুরু করেন। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি মুসলমানদের বিরুদ্ধে (বা সমাজে) খাদ্যদ্রব্য মজুদদারি করে, আল্লাহ তাকে কুণ্ঠরোগ ও দারিদ্র্যের কশাঘাতে শান্তি দেন।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২১৫৫)

৬. ওয়াদা পূরণ না করা

ব্যবসা-বাণিজ্যে ওয়াদা রক্ষা করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটা না থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্যে বেশি দূর এগোনো যায় না। ঈমানদারের জন্যও এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মুমিন কখনো অঙ্গীকার ভঙ্গ করে না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর অঙ্গীকার পূরণ করো, নিশ্চয়ই অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩৪)

৭. দাম বাড়াতে কৃত্রিম দরদাম

অনেক সময় ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়ানোর জন্য দালালের মাধ্যমে মিথ্যা দরদাম করায়। কোরবানির পশুর হাটে এ কাজ বেশি দেখা গেলেও পাইকারি বাজারগুলোতেও এ ধরনের কারচুপি চলে। ইসলামের এ ধরনের প্রতারণাও নিষিদ্ধ। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, নবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা পরস্পর ‘নাজাশ’ (ক্রেতাকে ঠকানোর জন্য দ্রব্যের দরদাম) করো না। (তিরমিজি, হাদিস : ১৩০৪)

এককথায় বলতে গেলে আমাদের প্রত্যেকের রিজিক মহান আল্লাহর হাতে। তিনি আমাদের জন্য বরাদ্দকৃত রিজিক যেকোনো মূল্যে আমাদের কাছে পৌঁছাবেন।