বুধবার ০৪ মার্চ ২০২৬, ফাল্গুন ২০ ১৪৩২, ১৫ রমজান ১৪৪৭

ব্রেকিং

দুইজন উপদেষ্টা এবং আটজন প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন মুন্সীগঞ্জে চোর সন্দেহে ‘গণপিটুনি’, হাসপাতালে ২ জনের মৃত্যু যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহে চাপ, সাশ্রয়ে জোর জ্বালানিমন্ত্রীর ভূমধ্যসাগরে পরমাণু রণতরী ‘চার্লস দ্য গল’ পাঠাচ্ছে ফ্রান্স ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধে ব্যবসায়ীদের বিশেষ ঋণ সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব ভিসা ও গ্রিন কার্ডের প্রসেসিং ফি বাড়ালো যুক্তরাষ্ট্র আটকা পড়া প্রবাসীদের জন্য দুবাইয়ে ইউএস-বাংলার দুটি বিশেষ ফ্লাইট ইরানে হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা খামেনির ছেলে: ইসরায়েলি ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম আইআরজিসিকে গুঁড়িয়ে দিতে ২০০০ লক্ষ্যস্থলে আঘাত হানা হয়েছে: ইউএস সেন্টকম দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক

ইসলাম

দ্বিনি আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণের শর্ত

 প্রকাশিত: ১৫:২৪, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

দ্বিনি আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণের শর্ত

একজন মুমিন নারীর প্রধান কর্মক্ষেত্র তার ঘর। সে চেষ্টা করবে ঘরে থেকেই দ্বিনি আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা করতে। এরপরও কখনো কখনো দ্বিনি আন্দোলনের অংশ হিসেবে ঘরের বাইরের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। নারী দ্বিনি আন্দোলনের কাজ ঘরে করুক বা বাইরে এজন্য তাকে নির্ধারিত কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। তা হলো—

১. নিয়ত বিশুদ্ধ করা: একজন মুমিন নারী বা পুরুষের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের প্রধান উদ্দেশ্য হবে আল্লাহর নির্দেশ পালনের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করা। তাই দ্বিনি কাজে অংশগ্রহণের আগেও নারী কর্মী তার নিয়ত পরিশুদ্ধ করে নেবে। এমনটিই মহান আল্লাহর নির্দেশ। ইরশাদ হয়েছে, ‘বলুন, আমার নামাজ, আমার ইবাদত, আমার জীবন ও আমার মরণ জগতগুলোর প্রতিপালক আল্লাহরই উদ্দেশ্য। তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি এরই জন্য আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই প্রথম মুসলিম।’ (সুরা আনআম, আয়াত : ১৬২-১৬৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই নিয়তের ওপর সকল আমলের ফলাফল নির্ভরশীল।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১)

২. স্বামী বা অভিভাবকের সম্মতি থাকা : নারীদের দ্বিনি কাজে অংশগ্রহণের অন্যতম শর্ত হলো তার বা অভিভাবকের অনুমতি থাকা। স্বামী ও অভিভাবকের দ্বিনি বুঝ কম থাকলে তাদের বুঝিয়ে রাজি করানো, তাদের অবাধ্য না হওয়া। কেননা নারীর ওপর পুরুষের অভিভাবকত্ব অনিবার্য। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘পুরুষ নারীর কর্তা। কেননা আল্লাহ তাদের এককে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। আর এজন্য যে, পুরুষ তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ৩৪)

হাদিসে এসেছে, খায়বার যুদ্ধের সময় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে ছয়জন নারী অভিযানে বের হয়েছিলেন। তিনি বিষয়টি জেনে অসন্তুষ্টির সঙ্গে জিজ্ঞাসা করেন, ‘কার সঙ্গে এবং কার অনুমতিতে তোমরা বের হয়েছ?’ তখন নারী সাহাবিরা সন্তোষজনক উত্তর দিলে তিনি তাদের অভিযানে অংশগ্রহণের অনুমতি দেন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ২৭২৯)

৩. পূর্ণ পর্দা রক্ষা করা : নারীর জন্য ইসলামী শরিয়ত পর্দা ফরজ করেছেন। তাই পর্দার লঙ্ঘন হয় এমন কোনো কাজে নারীর অংশগ্রহণের অনুমতি নেই, সেটা দ্বিনি আন্দোলন ও সংগ্রাম হলেও। আয়েশা (রা.) তাদের হজের সফরের বর্ণনা দিয়ে বলেন, অনেক কাফেলা আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিল। তখন আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে ইহরাম অবস্থায় ছিলাম। তারা আমাদের সামনা-সামনি হলে আমাদের নারীরা নিজ মুখাবরণ মাথা থেকে নামিয়ে নিজ মুখমণ্ডল ঢেকে ফেলতেন। অতঃপর তারা অতিক্রম করে চলে গেলে আমরা মুখ খুলতাম। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১৮৩৩)

৪. ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকা : দ্বিনি আন্দোলনে নারীরা তখনই অংশগ্রহণের অনুমতি পাবে, যখন সে নিজে ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকবে এবং তার থেকে অন্যরাও নিরাপদ থাকবে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে নারীদের দ্বিনি মজলিসে অংশগ্রহণ বিষয়ক একটি হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম নববী (রহ.) বলেন, ‘এই হাদিস থেকে নারীদেরকে উপদেশ প্রদান, পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া, ইসলামের বিধি-বিধান শিক্ষা দান ও তাদের দান-সদকার প্রতি উত্সাহিত করা উত্তম প্রমাণিত হয়। এটা তখনি অনুমোদিত হবে যখন উপদেশদাতা ও উপদেশ গ্রহণকারিণীর ব্যাপারে কোনো ফেতনা বা বিশৃঙ্খলার ভয় থাকবে না।’ (উমদাতুল কারি : ৪/১২৩)

৫. ঘর-পরিবারের দায়িত্বে সমস্যা না হওয়া : নারী প্রধানত তার ঘর ও পরিবারের ব্যাপারে দায়িত্বশীল। সুতরাং ঘর-পরিবারের দায়িত্বে অবহেলা করে কোনো নারী দ্বিনি আন্দোলন বা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করবে না। তবে তার পরিবার যদি স্বেচ্ছায় এই ঘাটতিটুকু মেনে নেয় এবং কোরবানি স্বীকার করে তার বিধান ভিন্ন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নারী স্বামীর ঘর ও সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল। সুতরাং সে তাদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৫৫৪)

আল্লাহ সবাইকে দ্বিনি সংগ্রামে অংশগ্রহণের তাওফিক দান করুন। আমিন।