জ্বালানি সংকটে ভিয়েতনামে কমছে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জেট ফুয়েলের সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়ায় আগামী মাস থেকে ভিয়েতনামের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা প্রতি সপ্তাহে প্রায় দুই ডজন অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট স্থগিত করবে। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। হ্যানয় থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এ সংঘাতের পর থেকে জেট জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। এতে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সোমবার গভীর রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স ১ এপ্রিল থেকে সাময়িকভাবে কয়েকটি রুটে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করার পরিকল্পনা করেছে।’ এতে সপ্তাহে মোট ২৩টি ফ্লাইট স্থগিত থাকবে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে এভিয়েশন ফুয়েল (জেট এ-১) সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়েছে। এতে অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থাগুলো জ্বালানি সংকটের ঝুঁকিতে পড়েছে।’ এ কারণেই ফ্লাইট কমানো হচ্ছে।
তবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ রুট ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক রুটে জ্বালানি সারচার্জ আরোপের বিষয়েও কাজ করছে ভিয়েতনামের বিমান সংস্থাগুলো। এটি এপ্রিল থেকে কার্যকর হতে পারে।
সম্প্রতি কাতার, কুয়েত, আলজেরিয়া ও জাপানসহ কয়েকটি দেশের কাছে জ্বালানি সহায়তা চেয়েছে ভিয়েতনাম। সোমবার রাশিয়ার সঙ্গে দুই দেশে তেল ও গ্যাস উৎপাদন নিয়ে একটি চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে দেশটি।
অন্যদিকে, একই অঞ্চলে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা রোববার জানিয়েছে, ‘অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে’ তারা কিছু অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করবে। তবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
গত সপ্তাহে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, জেট জ্বালানির বাড়তি দামের কারণে তারা ফ্লাইট সক্ষমতা কমাচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ চলতে থাকায় জ্বালানির দাম আরও বাড়বে বলেও আশঙ্কা করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থাটি।