পিতার মত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হলেন মুজতাবা খামেনি
যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিহত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মুজতাবা হোসেইনি খামেনিকেই ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে।
৫৬ বছর বয়সী মুজতাবা খামেনিকে রোববার যুদ্ধের পরবর্তী নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য দেশটির ধর্মীয় নেতারা তার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করেছেন।
আয়াতুল্লাহ খামেনির দ্বিতীয় ছেলে মুজতাবাকে দীর্ঘদিন থেকেই তার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে ভাবা হচ্ছিল; যাকে মোটেই পছন্দ নয় ডনাল্ড ট্রাম্পের।
ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ খবর দিয়েছে রয়টার্স, আল জাজিরা ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।
যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ানোর মধ্যে নতুন নেতা নির্বাচন করল সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বেছে নেওয়ার দায়িত্বে থাকা ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’।
নতুন নেতা মুজতাবাকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ৪৭ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সংকটের মধ্যে যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে রোববার তেহরান সময় মধ্যরাতের ঠিক পরেই ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) বিবৃতিতে নতুন নেতা নির্বাচনের ঘোষণা দেয়।
এতে বলা হয়, বিশেষজ্ঞ পরিষদের নির্ধারণমূলক ভোটের মাধ্যমে আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা হোসাইনি খামেনিকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের তৃতীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
এ পদমর্যাদা ও দায়িত্ব মুজতাবাকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে।
এ বিষয়ে রয়টার্স মন্ত্যবের জন্য যোগাযোগ করলেও হোয়াইট হাউজের তরফে তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পায়নি।
মুজতাবাকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রোধকে আরও উসকে দিতে পারে। কারণ রোববারই ট্রাম্প বলেছিলেন ইরানের নেতা নির্বাচনে ওয়াশিংটনের মতামত নেয়া উচিত।
তিনি এবিসি নিউজকে বলেন, "তিনি (নতুন সর্বোচ্চ নেতা) যদি আমাদের থেকে অনুমোদন না পায়, তবে সে বেশিদিন টিকবে না।"
নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণার আগেই ইসরায়েল হুমকি দিয়েছে, যাকেই নির্বাচিত করা হোক না কেন তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
সপ্তাহ খানেক আগে শনিবার যুদ্ধের প্রথম দিন ইরানে হামলা শুরুর প্রথমদিকেই মোজতবার বাবা, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তিনি ৩৭ বছর ধরে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। সেদিন হামলায় খামেনির স্ত্রী, মুজতাবার স্ত্রী ও এক বোন নিহত হন। ওই ঘটনাস্থলে মোজতবা ছিলেন না বলে প্রাণে বেঁচে যান।
বাবার ছায়ায় থাকা মুজতাবাকে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পরবর্তী নেতা ধরে নিয়েছিলেন। তাকে সেভাবেই গড়ে তোলা হয়েছে বলে ভাষ্য খামেনি অনুসারীদের।
তার পেছনে সমর্থন রয়েছে দেশটির বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীরও (আইআরজিসি)। ইরানে খুবই প্রভাবশালী এ বাহিনীতে মুজতাবার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
তবে তার বিষয়ে সমালোচকরা বলছেন, বড় মাপের আলেম না হয়েও সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে মুজতাবার আরোহনের পেছনে ভূমিকা রয়েছে আইআরজিসির।
মুজতাবা বেশির ভাগ সময় লোকচক্ষুর আড়ালেই থেকেছেন, সরকারি কোনো দায়িত্বেও ছিলেন না; তার বক্তৃতার সংখ্যাও বিরল, গণমাধ্যমে তাকে দেখা গেছে হাতেগোনা কয়েকবার। কিন্তু ইরানের জটিল ধর্মতান্ত্রিক কাঠামোতে তার প্রভাব ব্যাপক ও বিস্তৃত।
নতুন নেতা নির্বাচনের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ পরিষদের (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) সদস্য হায়দারি আলে কাসির বলেন, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার আগে দেওয়া পরামর্শের ভিত্তিতেই এই প্রার্থীকে বেছে নেওয়া হয়েছে। খামেনির সেই পরামর্শ ছিল—ইরানের শীর্ষ নেতাকে শত্রুর দ্বারা প্রশংসিত হওয়ার বদলে তাদের কাছে 'ঘৃণিত হতে হবে'।