সোমবার ০৯ মার্চ ২০২৬, ফাল্গুন ২৫ ১৪৩২, ২০ রমজান ১৪৪৭

জাতীয়

মাদারীপুরে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে ৪ ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ, শতাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ

 প্রকাশিত: ১১:১০, ৯ মার্চ ২০২৬

মাদারীপুরে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে ৪ ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ, শতাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ

মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়েছে দুই পক্ষ। এ সময় শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

রোববার রাত ৯টা থেকে টানা চার ঘণ্টা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ‘নতুন মাদারীপুর’ এলাকায় এ সংঘর্ষ হয় বলে মাদারীপুর সদর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন।

সংঘর্ষের সময় হামবোমা বিস্ফোরণের কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয় ফেইসবুকে। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, মাদারীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান হাওলাদার আক্তার ও তার ভাই লিটন হাওলাদারের সঙ্গে মাদারীপুর সদর উপজেলা শ্রমিকদলের একাংশের সভাপতি নিহত শাকিল মুন্সির ভাই হাসান মুন্সি ও তার পক্ষের আলামিন চৌকিদার গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছে। এই বিরোধের জেরে প্রায়ই সংঘর্ষে জড়ায় দুইপক্ষ।

রোববার রাত ৯টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত টানা চার ঘণ্টা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলে। এ সময় শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাদারীপুর পৌর আওয়ামী লীগের একাংশের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদারের ছোট ভাই যুবলীগ কর্মী লিটন হাওলাদারকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মাদারীপুর পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি করা হয়।

এই কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলা শ্রমিক দলের একাংশের সভাপতি শাকিল মুন্সির সঙ্গে মনিরুজ্জামান আক্তার ও লিটনের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এছাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একই এলাকার রুবেল হাওলাদারের পরিবারের সঙ্গে আক্তারের বিরোধ ছিল।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যার মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুজ্জামান দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন।

২০২৫ সালের ২৩ মার্চ কারাবন্দি মনিরুজ্জামানের জামিন শুনানির দিন তার সমর্থকরা ধারণা করেছিলেন, তিনি মুক্তি পাবেন। আদালত চত্বরে তাকে বরণ করতে গিয়ে তার সমর্থকরা উপস্থিত হন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

ওই দিন দুপুরে শাকিলের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে মনিরুজ্জামানের সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াসহ দফায় দফায় সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের পর বিকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

কিন্তু রাতেই শাকিল মুন্সিকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে নিহতের পরিবার দাবি করে, লিটন হাওলাদার, আলামিন হাওলাদার, জাহাঙ্গীর হাওলাদারসহ কয়েক হামলা চালিয়ে শাকিলকে কুপিয়ে জখম করেছে।

স্থানীয়রা শাকিলকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এরপর থেকেই এই এলাকায় দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গত এক বছরে দশ বারের বেশি সংঘর্ষ হয়।

রোববার রাতের সংঘর্ষের বিষয়ে মাদারীপুর সদর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, “এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।”

এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায়ই দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়ায় বলে জানান তিনি।