শেরপুর-১ আসনে ভোট কারচুপি’র অভিযোগ বিএনপি প্রার্থীর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-১ (সদর) আসনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত এবং পুনঃভোট গণনার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি’র প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা।
শনিবার বিকেলে মুঠোফোনে শেরপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি।
শেরপুর-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী ডা. প্রিয়াংকা অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে তাঁর নির্বাচনী প্রতীক ‘ধানের শীষ’-এর ভোটের সংখ্যা কম দেখানো হয়েছে। নির্বাচনের দিন দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, ভোট গ্রহণের দিন লাঙল প্রতীক প্রার্থীর এজেন্টরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে অনৈতিক সমঝোতা করে জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সাথে কাজ করেছে।
ডা. প্রিয়াংকা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি শেরপুর-সদর ১ আসনের ১৪৫টি ভোট কেন্দ্রে অন্যান্য দলের পোলিং এজেন্টরা নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন করতে পারলেও বিএনপি’র এজেন্টদের নানা উপায়ে হুমকি ও চাপের মুখে রাখা হয়েছিল। এমনকি ওইদিন হিন্দু ও খ্রীস্টান ধর্মালম্বী ভোটারদের ভোটদানে বাধা দেয়া হয়েছিল।
ডা. প্রিয়াংকা অভিযোগ করে বলেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটের দিন ইচ্ছে করে ভোটারদের দীর্ঘ সময় লাইনে আটকে রাখা হয়েছিল। যেন ভোটদানের গতি কম দেখিয়ে ব্যালেটে অবৈধভাবে সিল মারা যায়।
নির্বাচনের দিন এসব অভিযোগের বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সাথে বেশ কয়েকবার ফোনে যোগাযোগ করেও তার কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. রাশেদুল ইসলাম ১ লাখ ২৭ হাজার ৮১১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা ৭৮ হাজার ৩৪২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন।
তবে বিএনপি’র প্রার্খী প্রিয়াঙ্কা এই ফলাফল মেনে না নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে ফলাফল স্থগিত রেখে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে পুনরায় ভোট গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।