রোববার ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ফাল্গুন ৩ ১৪৩২, ২৭ শা'বান ১৪৪৭

জাতীয়

টাকা নিয়ে বিরোধ ছেলের সঙ্গে, কুপিয়ে মারল বাবাকে

 প্রকাশিত: ১১:৩৪, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

টাকা নিয়ে বিরোধ ছেলের সঙ্গে, কুপিয়ে মারল বাবাকে

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ‘মাদকের টাকা’ নিয়ে বিরোধের জেরে ছেলেকে মারধর করার প্রতিবাদ করায় তার ওপর হামলা হয়েছে।

শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রসুলপুর ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের কলেরহাট রাস্তার মাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন শশীভূষণ থানার ওসি মো. ফকরুল ইসলাম।

নিহত আব্দুর রহিম ভুট্টো (৪৫) কলেরহাট এলাকার আখতারুজ্জামান সোহেলের ছেলে।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে কলেরহাট রাস্তার মাথায় আ. রহিম ভুট্টোর ওপর হামলা চালায় কয়েকজন। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভুট্টোকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ভুট্টোর ছেলে আমির হোসেনের সঙ্গে স্থানীয় দুই যুবক মো. আমজাদ হোসেন ও বেল্লালের পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ ছিল। ওই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য শুক্রবার বিকালে আমিরকে ডেকে নিয়ে বেদম মারধর করা হয়।

পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে চরফ্যাসন হাসপাতালে ভর্তি করেন। শনিবার চরফ্যাশন হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা রেফার করেন।

স্থানীয় কয়েকজন নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, মূলত আমির হোসেনকে মাদক কিনতে চার হাজার টাকা দিয়েছিল দুই যুবক। তবে আমির মাদক না দিয়ে ওই টাকা আত্মসাত করেন। তা নিয়েই বিরোধের শুরু।

নিহত ভুট্টোর চাচাতো ভাই মো. ফিরোজ বলেন, শনিবার সন্ধ্যার পর ভুট্টোর সঙ্গে কলেরহাট বাজারে এক সঙ্গে বসে চা খাচ্ছিলেন তিনি। তখন মো. আমজাদ ও বেল্লাল সেখানে এসে ভুট্টোর কাছে তার ছেলে টাকা নিয়ে কেনো ফেরত দেয়নি তা জানতে চায়।

ভুট্টোও তার ছেলেকে মারধরের প্রতিবাদ করে। এ সময় যুবকদের সঙ্গে ভুট্টোর বাকবিতণ্ডা হয়। তবে বাজারের লোকজন যুবকদেরকে শান্ত করে ফিরিয়ে দেয়।

এর ঘণ্টাখানেক পরেই তার ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়, বলেন ফিরোজ।

তবে ঘটনার পর থেকে মো. আমজাদ হোসেন ও বেল্লাল আত্মপোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ওসি মো. ফকরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা পাঠানো হবে। কি কারণে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত সেটিও তদন্ত চলছে।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এমন হত্যাকাণ্ডে এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।