রোববার ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ফাল্গুন ৩ ১৪৩২, ২৭ শা'বান ১৪৪৭

অর্থনীতি

রোজার আগে খেজুরের বাজারে ভিড়ভাট্টা

 প্রকাশিত: ১১:২৯, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রোজার আগে খেজুরের বাজারে ভিড়ভাট্টা

রোজার বাকি আর কয়েকদিন; এর মধ্যে ইফতারির অন্যতম অনুষঙ্গ খেজুরের বাজারে ভিড় বেড়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের দাম হাঁকাহাঁকিতে সরগরম হয়ে উঠেছে বাজার।

শনিবার বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেট এবং মার্কেটের সামনে অস্থায়ী খেজুরের দোকানগুলোতে ভিড় দেখা গেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য লম্বা ছুটিতে অনেকেই ঢাকার বাইরে গ্রামের বাড়িতে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। অনেকেই ফিরেছেন, কেউ কেউ ফিরছেন।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, হরেক নাম, স্বাদ আর আকৃতির খেজুরের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। ক্রেতারাও আগ্রহ নিয়ে নাম আর দাম জানতে চাইছেন।

বিক্রেতারা বলছেন, এ বছর খেজুরের দাম গতবারের মতোই। তবে ক্রেতারা বলছেন, খেজুরের দাম বাড়তি।

কারওয়ান বাজারে খেজুর কিনতে আসা বেসরকারি চাকুরে আকাশ রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “খেজুরের দাম বাড়তি। মোটামুটি মানের এক কেজি খেজুর কিনলাম ৬০০ টাকায়। বিক্রেতা ৭০০ টাকা দাম হাঁকিয়েছিল। দরদাম করে কিনলাম।

“খেজুর যেহেতু রোজায় লাগেই, আরও একটু দাম কম হলে ভালো হতো।”

কারওয়ান বাজারের বিক্রেতাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বাজারে মানভেদে ২৫০ থেকে ১৮০০ টাকা কেজি দামের খেজুর পর্যন্ত রয়েছে।

খুচরা বাজারে এক কেজি মাবরুর ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, দাব্বাস ৪০০ টাকা, সুক্কারু (সাধারণ মানের) ২৫০ থেকে ৩০০, মাঝারি মানের আম্বার মান ভেদে ৭০০ থেকে ১৬০০, ‘কামরাঙা’ ৬৫০ ও মরিয়ম ৫০০ থেকে এক হাজার টাকায়, ভালো মানের মেডজুল ও আজওয়া খেজুর ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ বিক্রি হচ্ছে।

দেশে খেজুরের চাহিদার পুরোটাই আমদানি করে মেটাতে হয়। চাহিদার ৮০ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়ার কয়েকটি দেশ থেকে। এর মধ্যে ইরাক, ইরান, জর্ডান, মিশর ও ইন্দোনেশিয়া থেকে খেজুর আসে দেশের বাজারে। আসে সৌদি আরব ও পাকিস্তান থেকেও।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সৌদি আরব থেকে আসা মেডজুল, আজওয়া, আম্বার, মাবরুম, বরই ও সুক্কারি জাতের খেজুরের চাহিদা বেশি। ইরান, জর্ডান ও মিশর থেকে আসা মরিয়ম খেজুরের চাহিদাও কম নয়।

আর স্বল্প আয়ের মানুষের পছন্দের ‘জাহিদি’ ও ‘দাবাস’ জাতের খেজুরের প্রায় পুরোটাই আসে ইরাক থেকে।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) শনিবারের বাজারদর অনুযায়ী, বাজারে সাধারণ মানের খেজুর প্রতি কেজির দর সর্বনিম্ন ১৮০ থেকে ৫৫০ টাকা। এক সপ্তাহ আগেও খেজুরের একই দাম ছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

টিসিবির তথ্যানুযায়ী, গেল বছর একইসময়ে বাজারে প্রতি কেজি সাধারণ মানের খেজুরের দাম ছিল কেজি প্রতি ২৬০ টাকা থেকে ৫২০ টাকা। সেই হিসাবে খেজুরের দাম এক বছরে ৬ দশমিক ৪১ শতাংশ কমেছে।

কারওয়ান বাজারের বিক্রেতারা অবশ্য দাম হাঁকছেন টিসিবির চেয়ে কিছুটা বেশি।

আল্লাহর দান ফল বিতানের এক বিক্রেতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রোজা চলে আশায় খেজুরের বেচাকেনা বেড়েছে আগের চেয়ে। কয়েকদিন বন্ধের পর আজ দোকান খোলার পর অনেকেই এসে খেজুর কিনছেন। তাই বাজার একটু গরম আছে।”

কিচেন মার্কেটের গেট সংলগ্ন বিক্রমপুর ফল বিতানে বেশ ভিড় দেখা গেল।

সেখানে খেজুর কিনতে আসা সরকারি চাকুরে ইসহাক সরকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “খেজুরের দাম এখন একটু চড়া। বাজারে সরবরাহ ভালো আছে। আমদানি করতে হয় বলেই মূলত খেজুরের দাম চড়া। বাজার তদারকি বাড়লে ধীরেধীরে দাম কমবে বলে আশা করি।”

এর আগে গেল ২৫ জানুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ক টাস্কফোর্স কমিটির বৈঠকে এক মাস ও এক বছরের ব্যবধানে দামের পার্থক্য তুলে ধরে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরে দেশের বাজারে আমদানি নির্ভর এ পণ্যের দাম ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমে মানভেদে প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে খেজুরের দামের বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

বৈঠক শেষে অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছিলেন, “টাস্কফোর্সের সভায় রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে ব্যবসায়ীরা আশ্বস্ত করেছেন। আসন্ন রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

“দাম বাড়বে না, বরং কিছু কিছু পণ্যের দাম আরও কমবে। এবারের রমজানে নিত্যপণ্যের দাম মানুষের নাগালের মধ্যেই থাকবে।”