রাফা খোলার তিন দিন পর গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২১
গাজায় ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলা ও বিমান হামলায় ছয় শিশুসহ ২০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূখণ্ডটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
অক্টোবর থেকে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতির মধ্যে বুধবার এ হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।
নিহতদের মধ্যে এক স্বাস্থ্যকর্মীও রয়েছেন, যিনি গাজার দক্ষিণাঞ্চলে খান ইউনিসে হামলায় হতাহতদের সহায়তায় ছুটে গিয়েছিলেন, পরে একই স্থানে ইসরায়েলের দ্বিতীয় হামলায় তিনি মারা পড়েন, স্বাস্থ্যকর্মীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এদিন গাজা সিটির উত্তরেও হামলা হয়েছে, যেখানে নিহতদের মধ্যে ৫ বছর বয়সী এব শিশুও আছে বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
মিশরের সঙ্গে গাজার মূল সীমান্ত ক্রসিং রাফা খুলে দেওয়ার তিনদিন পর গাজায় ইসরায়েলের এ ভয়াবহ হামলা হল। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল রাফা খুলে দেওয়া। এখন উভয় পক্ষ চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র আভাস দিয়েছে।
“আমরা ঘুমিয়ে থাকার সময় ট্যাংক থেকে গোলা ছোড়া হয়, ওই গোলা আমাদের বাড়িতে আঘাত হানে। এতে আমাদের শিশুরা শহীদ হয়ে গেছে। আমার ছেলে শহীদ হয়েছে, আমার ভাইয়ের ছেলে-মেয়ে শহীদ হয়েছে। আমরা কোনো কিছুর সঙ্গেই যুক্ত নই, আমরা শান্তিপূর্ণ লোকজন,” পরিবারের সদস্যদের শেষকৃত্যে বিলাপ করতে করতে বলছিলেন আবু মোহাম্মদ হাবুচ।
বুধবার ইসরায়েলি হামলায় খান ইউনিসের কাছের উপকূলীয় এলাকা মাওয়াসিতে থাকা উদ্বাস্তুতের ভিড়ে ঠাসা অনেক তাঁবুও চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। যুদ্ধবিরতির আগে প্রায় দুই বছরের যুদ্ধে গাজার ২০ লাখের অধিবাসীর প্রায় সবাইকে তাদের বাড়িঘর থেকে পালাতে হয়েছিল।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলছে, হামাসের সঙ্গে হওয়া অস্ত্রবিরতি রেখার কাছে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর ‘সন্ত্রাসীদের’ হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে সন্ত্রাসীদের চালানো ওই হামলায় এক ইসরায়েলি সেনা গুরুতর আহত হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।
এদিকে রাফা সীমান্ত দিয়ে আহত ও অসুস্থ ফিলিস্তিনিদের মিশর প্রবেশ নানা বাধা-বিপত্তির পরও অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
মঙ্গলবার ওই ক্রসিং দিয়ে ১৬ রোগী ও তাদের সঙ্গী হিসেবে আরও ৪০ জন মিশরে ঢুকেছেন বলে জানিয়েছেন গাজার স্বাস্থ্যকর্মীরা। মঙ্গলবার রাতের দিকে মিশর হয়ে অন্তত ৪০ জন গাজায় ঢুকেছেন বলেও হামাস পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সীমান্ত ক্রসিংটি খুলে দেওয়ার পর ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ২৮ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে বলে গাজার স্বাস্থ্যকর্মীদের দেওয়া এক তালিকায় দেখা যাচ্ছে।
ক্রসিংটি খোলার আগে শনিবার গাজায় ইসরায়েলের হামলায় ৩০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছিল। গাজায় ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকার একটি সুড়ঙ্গ থেকে এক বন্দুকধারী বেরিয়ে আসার পর ওই হামলাগুলো চালানো হয়েছিল, বলেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।