নতুন জালেমের আবির্ভাব হয়েছে: তারেক রহমান
জামায়াতে ইসলামকে ‘গুপ্ত সংগঠন’ আখ্যা দিয়ে তাদের বিষয়ে ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, “এই গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা নতুন জালেম রূপে আবির্ভূত হয়েছে বাংলাদেশের মানুষের কাছে।”
বুধবার দুপুরে বরিশাল নগরীর বেলস পার্ক ময়দানে বিএনপির নির্বাচনি জনসভায় তারেক রহমানের এমন বক্তব্য আসে।
বিগত আওয়ামী লীগ আমলের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, “পাঁচই আগস্টের পরবর্তীতে আমরা আশা করেছিলাম যে স্বৈরাচার যারা জনগণের ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তারা যেই ভাষায় কথা বলত জনগণকে, বিভিন্ন বাংলাদেশের সম্মানী গুণী মানী ব্যক্তিকে যেভাবে অপদস্থ করত, যেভাবে মানুষকে তারা ছোট করত, নিশ্চয়ই পাঁচই আগস্টে তাদের পালিয়ে যাবার পরে এই রীতি নিশ্চয়ই বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
“কিন্তু দুঃখের সাথে আমরা খেয়াল করলাম যে এই রীতি বন্ধ হয় নাই। একটি রাজনৈতিক দল, যাদের একটি অন্য পরিচয় আছে, জনগণ যাদেরকে একটি ভিন্ন পরিচয়ে চেনে, জনগণ তাদের কি পরিচয়ে চেনে? গুপ্ত পরিচয়ে চেনে, গুপ্ত পরিচয়ে।”
জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে তারেক প্রশ্ন করেন– “আপনারা চেনেন কারা তারা? বাংলাদেশের রাজনীতিতে কারা সেই গুপ্ত? চেনেন আপনারা?
এ সময় জনসভা থেকে সমস্বরে আওয়াজ ওঠে “জামায়াত।”
তারেক রহমান তখন বলেন, “প্রিয় ভাই বোনেরা, বর্তমানে বাংলাদেশে এক নতুন জালেমের আবির্ভাব হয়েছে।”
কেন তাদের জালেম বলা হচ্ছে, সেই ব্যাখ্যায় বাংলাদেশের সমাজে, সংস্কৃতি, অর্থনীতিতে নারীর অবদান তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “আজ আমরা অত্যন্ত কষ্টের সাথে দেখছি, অত্যন্ত ঘৃণার সাথে দেখছি, এই যে নতুন জালেম, যাদেরকে মানুষ গুপ্ত হিসেবে চেনে, এই জালেমদের নেতা, সে দুইদিন আগে প্রকাশ্যে বলেছে… বাংলাদেশের নারীদের জন্য সে একটি অত্যন্ত কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করেছে।
“দেশের মা-বোনদের প্রতি যে ব্যক্তি বা যেই দলের বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নেই; দেশের মা-বোনদের কষ্টের প্রতি বিন্দুমাত্র সম্মান নেই, তাদের কাছ থেকে আর যাই হোক বাংলাদেশ কখনো অগ্রগতি আশা করতে পারে না। তাদের কাছ থেকে আর যাই হোক বাংলাদেশের মানুষ সম্মানজনক কোনো মর্যাদা পূর্ণ আচরণ আশা করতে পারে না।”
মুসলমানদের মহানবীর (সা.) স্ত্রী বিবি খাদিজাও যে একজন কর্মজীবী নারী ছিলেন, তিনি যে ব্যবসা করতেন, সে কথা তুলে ধরে তারেক বলেন, “এরা বলে ইসলামের রাজনীতি করে, অথচ নবীর স্ত্রী নিজে যেখানে একজন কর্মজীবী মহিলা ছিলেন, সেখানে কেমন করে একটি রাজনৈতিক দলের নেতা এবং কেমন করে সেই রাজনৈতিক দলটি তাবৎ বাংলাদেশের নারী সমাজকে এমন একটি কলঙ্কিত শব্দে জর্জরিত করল!”
বরিশালের ভোটারদের উদ্দেশে তারেক বলেন, “এইসব গুপ্তদের বিরুদ্ধে আপনাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে, সজাগ থাকতে হবে। যারা দেশের মানুষকে সম্মান করতে জানে না, যারা পরিকল্পনা করে রাখে যে ১২ তারিখের পর থেকে তারা জনগণকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাবে, তাদেরকে উচিত শিক্ষা আপনাদেরকে দিতে হবে।”