যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘আলোচনার পরিধি, স্থান বদলের দাবি’ ইরানের
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলতি সপ্তাহে হতে যাওয়া আলোচনার স্থান তুরস্ক থেকে ওমানে সরাতে এবং বিষয়বস্তুও কেবল পারমাণবিক ইস্যুতে সীমিত রাখার দাবি তুলেছে বলে জানাচ্ছে আঞ্চলিক এক সূত্র।
তেহরান-ওয়াশিংটন যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতির মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এমনিতেই নাজুক অবস্থায় রয়েছে, তার মধ্যে ইরানের এ দাবি নতুন জটিলতা সৃষ্টি করছে, মঙ্গলবার সূত্রটি এ কথাই বলেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ক্রমশ বৃদ্ধি ও ইরানের ওপর নতুন হামলার আশঙ্কায় এখন পুরো অঞ্চল তেঁতে আছে, তার মধ্যেই শুক্রবার ইস্তাম্বুলে ইরানি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে তা বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশই আশঙ্কা করছে। আর যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তা একদিকে তেলের বৈশ্বিক বাজারকে যেমন বিপর্যস্ত করবে, তেমনি অঞ্চলের অনেক দেশের মানচিত্র বদলে যাওয়ার ঝুঁকিও সৃষ্টি করবে।
তার মধ্যেই মঙ্গলবার মার্কিন সামরিক বাহিনী আরব সাগরে তাদের বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনের দিকে ‘আগ্রাসীভাবে’ ধেয়ে আসা একটি ইরানি ড্রোনকে গুলি করে ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে।
একইদিনে আরেক ঘটনায় ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী এবং মার্কিন ক্রু থাকা একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে হয়রানি করেছে বলেও অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন।
তার আগে সোমবার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, চুক্তিতে না পৌঁছালে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে ‘খারাপ কিছু’ হতে পারে।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।” তবে এ বিষয়ে তিনি আর বিস্তারিত কিংবা কোথায় দুই পক্ষের বৈঠক হতে যাচ্ছে সে বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি।
ইরানের দাবি বিষয়ে অবগত আঞ্চলিক ওই কূটনীতিক বলেছেন, তেহরান আলোচনার ধরন ও পরিধিতে বদল চাইছে।
“তারা চাইছে আমেরিকানদের সঙ্গে কেবল পারমাণবিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এর সঙ্গে (ব্যালিস্টিক) ক্ষেপণাস্ত্র ও অঞ্চলজুড়ে ইরানসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ডসহ আরও কিছু বিষয় যুক্ত করতে চায়,” বলেছেন তিনি।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট ফক্স নিউজকে বলেছেন, চলতি সপ্তাহের পরের দিকে ইরানের সঙ্গে বৈঠকের সূচি এখনও বহাল আছে।
বৈঠকের স্থান কোথায় হবে, তা নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম নুর নিউজ।
আসছে কয়েক দিনের মধ্যে বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা চলছে; তুরস্ক, ওমান ও আরও কয়েকটি দেশ বৈঠকটি আয়োজনে আগ্রহ দেখিয়েছে, বলেছেন ওই মুখপাত্র।
এ বৈঠকে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারেরও থাকার কথা রয়েছে বলে পরিস্থিতি সম্বন্ধে অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছে।
বৈঠকের খবরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেয়ার বাজার ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।
ওয়াশিংটন-তেহরান ওই বৈঠকে পাকিস্তান, সৌদি আরব, কাতার, মিশর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ওই অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশের মন্ত্রিরাও থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখন কেবল দ্বিপাক্ষিক বৈঠকই করতে চায় বলে আঞ্চলিক ওই সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে।