বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে প্রায় ২০০ বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত
পাকিস্তানের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে সমন্বিত সিরিজ বোমা ও বন্দুক হামলায় প্রায় ৫৮ জন নিহত হওয়ার পর গত চার দিনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ১৯৭ জন সন্দেহভাজন বিচ্ছিন্নতাবাদীকে হত্যা করেছে।
পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী বড় অভিযানগুলো শেষ করে এখন নুশকি জেলা ও প্রদেশটির অন্যান্য স্থানে ছোটখাটো অভিযান চালাচ্ছে।
শনিবার স্থানীয় সময় ভোররাত ৪টার দিকে প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটাসহ বেলুচিস্তানের আরও ১২টি শহরে ‘সমন্বিতভাবে’ হামলা চালায় জাতিগত বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। তারা স্কুল, ব্যাংক, মার্কেট, নিরাপত্তা বাহিনীর স্থাপনসহ সরকারি দপ্তরগুলোতে একযোগে হামলা চালায় ও অগ্নিসংযোগ করে। তাদের এসব হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ২২ সদস্য ও ৩৬ জন বেসামরিক নিহত হন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
অত্যন্ত সুরক্ষিত প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটায় ভোররাতে এক প্রচণ্ড বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে হামলা শুরু হয়। শহরের প্রধান প্রশাসনিক ভবনের কাছে বসবাসকারী রোবিনা আলি নামের এক নারী বলেন, “মনে হচ্ছিল আমার বাড়ির ছাদ ও দেয়ালগুলো উড়ে যাবে।”
বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এক পর্যায়ে বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের এক কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে গিয়েছিল বলে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তারা প্রদেশটির অন্তত ছয়টি জেলা প্রশাসন দপ্তর দখল করে নিয়েছিল।
পাকিস্তানের খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ কিন্তু সবচেয়ে দরিদ্র এই প্রদেশটিতে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা এটি। প্রদেশটির সবচেয়ে সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী নিষিদ্ধ ঘোষিত বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এসব হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারপর থেকে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী হেলিকপ্টার ও ড্রোন নিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে টানা অভিযান চালাচ্ছে।
বিচ্ছিন্নতাবাদীরা শনিবার নুশকি জেলায় পুলিশ স্টেশন, আদালত কমপ্লেক্স, পুলিশ লাইন, ডিসির কার্যালয় ও আধাসামরিক বাহিনীর শিবিরসহ বহু সরকারি দপ্তরে হামলা চালায়। তারা বেশ কয়েকটি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়।
তিন দিন ধরে নিরাপত্তা অভিযান চালানোর পর মঙ্গলবার কর্তৃপক্ষ নুশকি শহর ও এর বাজারগুলো খুলে দেয়। কিন্তু জেলাটির পর্বতময় এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত আছে বলে কর্মকর্তারা ডনকে জানিয়েছেন।
পুলিশ কর্মকর্তারা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মরুভূমির শহর নুশকিতে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পুলিশ স্টেশন ও অন্যান্য নিরাপত্তা স্থাপনাগুলো দখল করে রেখেছিল, তিন দিন ধরে অচলাবস্থা চলার পর সোমবার রাতে সেগুলো মুক্ত করা সম্ভব হয়। এ সময় লড়াইয়ে সাত পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন।
“নুশকিতে অতিরিক্ত সেনা পাঠানো হয়। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়,” বলেন এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বিএলএ মঙ্গলবার দাবি করেছে, তারা ‘হেরফ’ বা ‘কালো ঝড়’ নামের এই অভিযানে ২৮০ জন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করেছে। তবে নিজেদের দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি তারা। গোষ্ঠীটি বেলুচিস্তানের জনগণকে তাদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এসব বিষয় নিয়ে রয়টার্সের জানানো মন্তব্যের অনুরোধে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।