তেল বিক্রির ৫০ কোটি ডলার ভেনেজুয়েলাকে ফিরিয়ে দিল যুক্তরাষ্ট্র
গেল মাসে কারাকাস ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া চুক্তির অংশ হিসেবে প্রাথমিক তেল বিক্রির পুরো ৫০ কোটি ডলারই যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সরকারকে ফেরত দিয়েছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মঙ্গলবার তিনি বলেন, তেল বিক্রির শেষ ২০ কোটি ডলার ভেনেজুয়েলায় পাঠানো হয়েছে। ৩ জানুয়ারি মার্কিন সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করার পর তেল বিক্রি নিয়ে ওই চুক্তি হয়েছিল।
“ভেনেজুয়েলার প্রথম দিককার তেল বিক্রির পুরো ৫০ কোটি ডলারই আনুষ্ঠানিকভাবে ভেনেজুয়েলা পেয়ে গেছে,” মার্কিন ওই কর্মকর্তা এ কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এই অর্থ ‘মার্কিন সরকারের চাওয়া অনুযায়ী ভেনেজুয়েলার জনগণের কল্যাণে বিতরণ করা হবে’, বলেছেন তিনি।
দিনকয়েক আগে ক্যাপিটল হিলে দেওয়া সাক্ষ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রিতে যুক্তরাষ্ট্র স্বল্পমেয়াদে জড়িত থাকতে চায়, এবং এই উদ্যোগের লক্ষ্যই হচ্ছে ভেনেজুয়েলাকে স্থিতিশীল রাখা যেন দেশটির সরকারকে সচল থাকে ও জনগণ সহায়তা পায়।
“মোদ্দা কথা, আমরা ভেনেজুয়েলাকে তাদের নিজেদের তেল ব্যবহারের মাধ্যমে আয় করতে দিলাম, যাতে সেই অর্থ দিয়ে শিক্ষক, দমকলকর্মী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বেতন দেওয়া যায় এবং সরকারটি কার্যকরভাবে চলতে পারে, যাতে দেশটি ধসে না পড়ে,” বলেছিলেন রুবিও।
তেল বিক্রির ওই অর্থ রাখা হয়েছিল কাতারে, এর লক্ষ্য ছিল ভেনেজুয়েলা যেন তার ‘দৈনন্দিন কার্যক্রম চালানোর জন্য স্বল্পমেয়াদী ও অস্থায়ী ওই হিসাব থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ পায় তা নিশ্চিত করা’, বলেছেন নাম প্রকাশে রাজি না হওয়া ওই মার্কিন কর্মকর্তা।
দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হচ্ছে ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ তেল বিক্রির অর্থ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে একটি তহবিল বানানো হবে, আগে থেকে ঠিক করে রাখা নিয়ম অনুযায়ী ভেনেজুয়েলার সরকার বা তার সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলো ওই তহবিল থেকে অর্থ খরচের সুযোগ পাবে, বলেছেন তিনি।