যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ভেনেজুয়েলার মিত্র দেশগুলোর নিন্দা
ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী দেশ ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মিত্ররা শনিবার দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক হামলার নিন্দা জানিয়েছে। এদিকে স্পেন শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে।
বোগোতা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে দেশটির বাইরে নিয়ে গেছে।
ভেনেজুয়েলার সরকার ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে ‘অত্যন্ত গুরুতর সামরিক আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। কারাকাসের মিত্র কয়েকজন নেতা যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
ইরান : তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইরান বলেছে, তারা ‘ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা এবং দেশটির জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার চরম লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।
কলম্বিয়া : কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এ হামলাকে লাতিন আমেরিকার সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত উল্লেখ করে বলেন, এতে একটি মানবিক সংকটের সৃষ্টি হবে।
চলতি বছর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য কলম্বিয়া। বামপন্থী নেতা পেত্রো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের তাৎক্ষণিক বৈঠক আহ্বান করেছেন।
কিউবা : ঐতিহ্যগত আঞ্চলিক মিত্র কিউবা প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেলের এক বিবৃতিতে একে ‘সাহসী ভেনেজুয়েলাবাসীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ বলে অভিহিত করেছেন। প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কারাকাসে ‘অপরাধমূলক হামলার’ বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
রাশিয়া : রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপকে ‘ভেনেজুেলার বিরুদ্ধে সশস্ত্র আগ্রাসন’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। এ ধরনের পদক্ষেপকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য যে অজুহাত ব্যবহার করা হয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। আদর্শগত বৈরিতা বাস্তববাদী কূটনীতিকে পরাজিত করেছে।’
স্পেন : স্পেন সংকট নিরসনে শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে।
স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘স্পেন উত্তেজনা কমানো ও সংযমের আহ্বান জানাচ্ছে। আমরা গণতান্ত্রিক, আলোচনাভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য সহায়তা করতে প্রস্তুত।’
জার্মানি : জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এএফপি-কে জানিয়েছে, ‘ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি আমরা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং সর্বশেষ প্রতিবেদনগুলো গভীর উদ্বেগের সঙ্গে অনুসরণ করছি। মন্ত্রণালয় কারাকাসে অবস্থিত দূতাবাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।’
বার্লিন আরও জানিয়েছে, সরকারের সংকট ব্যবস্থাপনা দল বৈঠকে বসেছে এবং আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছি।
ইতালি : ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির দপ্তর জানায়, তিনি ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন, বিশেষ করে ইতালীয় নাগরিকদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য।
মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটররা : মার্কিন সিনেটর ব্রায়ান শ্যাটজ (ডেমোক্র্যাট) এক্স-এ লিখেছেন: ‘ভেনেজুয়েলায় যুদ্ধ করার মতো কোনো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বার্থ আমাদের নেই। এতদিনে আমাদের শেখা উচিত ছিল আরেকটি নির্বোধ অভিযানে না জড়ানো।
অন্য ডেমোক্র্যাট সিনেটর রুবেন গালেগো এক্স-এ লিখেছেন: ‘এই যুদ্ধ বেআইনি। এক বছরেরও কম সময়ে আমরা বিশ্ব পুলিশ থেকে বিশ্ব দমকবাজে পরিণত হয়েছি—এটা লজ্জাজনক। ভেনেজুেলার সঙ্গে যুদ্ধ করার কোনো কারণ নেই।
বলিভিয়ার সাবেক নেতা মোরালেস : বলিভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও কারাকাসের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইভো মোরালেস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘বোমাবর্ষণের’ তীব্র বিরোধিতা করছেন।