খোকন দাসের বাড়িতে তারেক রহমানের এপিএস, পাশে থাকার আশ্বাস
ছুরিকাঘাতে ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যার শিকার শরীয়তপুরের ডামুড্যার খোকন দাসের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিয়েছে বিএনপি।
রোববার দুপুরের দিকে কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই গ্রামে খোকন দাসের বাড়িতে যান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এপিএস মিয়া নুরুদ্দীন আহমেদ অপু। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন।
এ সময় ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন নুরুদ্দীন অপু। তিনি এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে শরীয়তপুর-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন। খোকন দাস তার নির্বাচনি এলাকার ভোটার।
এ সময় নুরুদ্দীন অপু বলেন, “খোকন দাস ছিলেন একজন গ্রাম্য চিকিৎসক। জীবদ্দশায় তিনি অনেক মানুষের উপকার করেছেন। কিন্তু তাকে যেভাবে মারা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অমানবিক। আমরা খোকন দাসের পরিবারের পাশে রয়েছি এবং যে কোনো মূল্যে তার খুনিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ বিচার করতে হবে।
“এজন্য আমরা বিএনপি পরিবার দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু ও সর্বোচ্চ বিচারের দাবি জানাচ্ছি।”
এ সময় তার সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ছিলেন।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে ছুরিকাঘাতের শিকার হন খোকন দাস। এ সময় তিনি হামলাকারীদের চিনে ফেললে তার শরীর পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।
মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তার ক্ষতস্থানে অস্ত্রোপচার করা হয়। তার শরীরের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন দিন পর শনিবার সকালে খোকন দাস মারা যান। রাতে তাকে গ্রামের বাড়িতে দাহ করা হয়।
খোকন দাস ছিলেন তিন বোনের একমাত্র ভাই। খোকন দাস ও সীমা রানী দাসের তিন ছেলে রয়েছে। তারা হল- আকাশ দাস (১৫), বিকাশ দাস (১০) এবং আদর দাস।
খোকন দাস তিলই বাজারে ওষুধের দোকানের পাশাপাশি বিকাশের এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন।
এরই মধ্যে পরেশ চন্দ্র দাশ বাদী হয়ে ছেলে হত্যার ঘটনায় মামলা করেছেন। মামলার পর কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান (২৭), সামছুদ্দিন মোল্যার ছেলে রাব্বি মোল্যা (২১) এবং শহীদ সরদারের ছেলে পলাশ সরদারকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
খোকন দাসের বক্তব্যের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
খোকন দাসের মৃত্যুর খবর পেয়ে অনেকেই পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য তাদের বাড়িতে আসছেন। শৈশব-কৈশোরের বন্ধু, বাজারের ব্যবসায়ী সবাই তার মৃত্যুতে শোকাহত। সবাই বলছিলেন, তাদের জানা মতে, খোকনের কোনো শত্রু ছিল না।