সোমবার ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, পৌষ ২২ ১৪৩২, ১৬ রজব ১৪৪৭

পর্যটন

পাহাড়ি শীত উদযাপনে খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের ভিড়

 প্রকাশিত: ১৮:২৩, ৪ জানুয়ারি ২০২৬

পাহাড়ি শীত উদযাপনে খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের ভিড়

সমতলের মানুষের কাছে পাহাড় দেখা ও পাহাড়ে চড়া দুইই রোমাঞ্চকর। গরমকালে সমতলের বাসিন্দাদের কাছে পাহাড়ের আহ্বান আকর্ষণীয় না হলেও শীত মৌসুমে তারা পাহাড়ে ঘুরতে যায়। তাই প্রতিবারের মতো এবছরও পাহাড়ে শীত উদ্যাপন করতে ভিড় করছে পর্যটকরা। 

সরেজমিনে দেখা যায়, শীত উপলক্ষে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতে প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। এ সময় দুদিনের সাপ্তাহিক ছুটিকে কাজে লাগিয়েও সাজেকে বেড়াতে আসছেন পর্যটকরা। যাতায়াতের সুবিধার কারণে পর্যটকরা খাগড়াছড়ি হয়ে সাজেক যাচ্ছেন। পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে আলুটিলা, রিছাং ঝরনা, জেলা পরিষদ র্পাকসহ খাগড়াছড়ির বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলো। অতিথি বাড়ায় ভালো ব্যবসা করছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। 

পাহাড়, অরণ্য ,ঝিরি,ঝরনা ও উপত্যকা নিয়ে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি। শীতের শুরুতেই খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের সমাগম বাড়ছে। শীত মৌসুমে পাহাড়ের আবহাওয়া ভ্রমণ উপযোগী হওয়ায় দল বেধে ঘুরতে আসছে পর্যটকরা। আলুটিলার রহস্যময় সুড়ঙ্গ, ঝুলন্ত ব্রীজ,তারেং ও রিছাং ঝরনাসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে পর্যটকদের ভিড় চোখে পড়ে। পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ পর্যটকরা। শীতের শুরু থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্যটকদের এমন ভিড় থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

রাজশাহী থেকে আগত এ কে এম শামসুল আরেফিন ও লুবনা দম্পতি বাসসকে বলেন, পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাদের আকর্ষণ করে। বিশেষ করে নির্মল বাতাস, মুক্ত হাওয়া যেটা শহরে পাওয়া যায়না। তারা বলেন, সাজেকের চেয়ে খাগড়াছড়ির পর্যটন স্পটগুলো আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। বিশেষ করে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র থেকে খাগড়াছড়ি শহরের মনোরম দৃশ্য আর আঁকাবাঁকা ভাবে বয়ে যাওয়া চেঙ্গী নদী খুব ভালো লেগেছে। 

ঢাকার শ্যামলী থেকে আগত রোশন আরা বলেন, আলুটিলার এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে পাড় হওয়ার জন্য ব্যতিক্রমী সেতু, রহস্যময় গুহা ও রিছাং ঝর্ণা ও হর্টিকাল চার পার্কে ঝুলন্ত সেতু দেখে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। প্রকৃতির এই অপরূপ রূপ দেখতে বারবার এখানে আসতে ইচ্ছে করে। 

তবে ভিন্ন মতামতও আছে। ঢাকার মিরপুর থেকে আসা ইসমত আরা বলেন, পর্যটন স্পটগুলোতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা ছাড়া বিনোদনের তেমন কিছু নেই। এখানে বিভিন্ন রাইডস এর ব্যবস্থাসহ কুলিং কর্ণারগুলোতে সুলভ মূল্যে চা-কফির ব্যবস্থা রাখলে ভালো হতো। 

এদিকে পর্যটক বাড়ায় খুশি হোটেল মোটেলসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। যাতায়াতের সুবিধার কারণে সাজেকগামী পর্যটকদের কেন্দ্র করে জেলার হোটেল মোটেল ও রেস্টুরেন্টসহ পর্যটন সংশ্লিষ্টদের বাড়তি আয়ের সময় এই শীতকাল। 

খাগড়াছড়ির হোটেল অরণ্য বিলাস-এর ম্যানেজার মো. আব্দুর রশিদ সাগর ও পর্যটন মোটেলের ম্যানেজার ক্যউসিং মারমা জানান, তাদের আগামী ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সব রুম বুকিং হয়ে আছে। তারা আশা করছেন আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত পর্যটক আগমন অব্যাহত থাকবে। 

খাগড়াছড়ি টুরিস্ট পুলিশের জোন ইনচার্জ জাহিদুল কবির জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রে নিয়োজিত রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। পর্যটকেরা যাতে নির্বিঘ্নে ঘুরতে পারেন সে জন্য টুরিস্ট পুলিশ সব সময় পর্যটন স্পটগুলোতে টহল দিচ্ছে। কোনো পর্যটক সমস্যার সম্মুখীন হলে তারা দ্রুত সহযোগিতা করেন। টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশও পর্যটকদের সহযোগিতা করে থাকেন। এছাড়া সাজেকগামী পর্যটকদের ভ্রমণে সহায়তা করছে ট্যুরিষ্ট পুলিশ। 

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের জনসংযোগ কর্মকর্তা চিংহ্লামং চৌধুরী জানান, পর্যটকদের আর্কষণ বাড়াতে কাজ করছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পর্যটন মোটেল।

খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেল এর ব্যবপস্থাপক ক্যউসিং মারমা জানান, খাগড়াছড়ির আলুটিলা ও জেলা পরিষদ পার্কসহ সবকটি পর্যটনকেন্দ্রে সাপ্তাহিক ছুটিতে ৫ থেকে ৮ হাজারের মত পর্যটকের সমাগম হয়।

বর্তমানে খাগড়াছড়ি একটি পর্যটন নগরী। ভবিষ্যতে খাগড়াছড়িতে যেন আরো বহু পর্যটকের আগমন ঘটে এজন্য পর্যটন স্পটগুলোতে সৌন্দর্য বর্ধনে প্রশাসনকে আরো নতুন নতুন ও স্থায়ী উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান পর্যটকরা।