বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ফাল্গুন ১৩ ১৪৩২, ০৮ রমজান ১৪৪৭

অর্থনীতি

টেকনাফে এক জালে ১১০০ লাল কোরাল, সাড়ে ২৩ লাখে বিক্রি

 প্রকাশিত: ১১:১১, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

টেকনাফে এক জালে ১১০০ লাল কোরাল, সাড়ে ২৩ লাখে বিক্রি

কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলের বঙ্গোপসাগরের সেন্ট মার্টিন চ্যানেলে এক জালে প্রায় ১১০০ লাল কোরাল মাছ ধরা পড়েছে।

টেকনাফ উপজেলা সদর ইউনিয়নের কেরুনতলি ঘাটের মোহাম্মদ মিজান ও হারুনের মালিকানাধীন ‘এফবি টেকনাফ’ নামের ট্রলারে মঙ্গলবার রাতে মাছগুলো ধরা পড়ে।

বাংলাদেশে এই মাছ ‘কোরাল’ ও ‘ভেটকি’ দুই নামেই পরিচিত। তবে চট্টগ্রামের স্থানীয় লোকজন এই মাছকে ‘লাল পানসা’, ‘রাঙা ছইক্কা’ বা ‘রাঙাচয়’ নামে চেনে।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার কাইয়ুখ খালী ঘাটে মাছ ভর্তি ট্রলারটি পৌঁছালে স্থানীয় উৎসুক জনতা ভিড় করেন।

ট্রলারের মাঝি রহমত উল্লাহ বলেন, “আরাকান আর্মির ভয়ে সপ্তাহখানেক সাগরে যাওয়া হয়নি। শনিবার সকালে ১৭ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে ট্রলারটি গভীর সাগরে যায়। মঙ্গলবার বিকালে জালে প্রচুর লাল কোরাল ধরা পড়ে। প্রতিটি মাছের ওজন তিন থেকে ছয় কেজির মধ্যে।”

সাম্প্রতিক সময়ে সাগরে মাছের আকাল থাকায় এ চালানে জেলেদের ঘাটতি কিছুটা পুষিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ট্রলার মালিক মোহাম্মদ মিজান বলেন, মোট এক হাজার ৭০টি মাছ ধরা পড়েছে। এর ওজন প্রায় ৯০ মণ। জেলেদের অংশ হিসেবে ৭০টি মাছ রাখা হয়েছে। বাকি এক হাজারটির মত বিক্রি করা হয়েছে। মণপ্রতি ২৬ হাজার টাকা হিসাবে সাড়ে ২৩ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মো. রশিদ বলেন, ট্রলারের প্রতি জেলেকে একটি করে মাছ দেওয়া হয়েছে। কিছু মাছ আত্মীয়স্বজন ও নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে।

মাছগুলোর দাম ৩০ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল। পরে মৎস্য ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম, নবী হোসেন, আবদুল হকসহ কয়েকজন দরকষাকষি করে সাড়ে ২৩ লাখ টাকায় কিনেছেন। এখন মাছগুলো বরফ দিয়ে কাইয়ুখ খালী ফিশারিজে রাখা হয়েছে। উপযুক্ত দাম না পেলে মাছগুলো কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে নিয়ে বিক্রি করা হবে।

টেকনাফ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উমুল ফারা বেগম তাজকিরা বলেন, “এতগুলো মাছ একসঙ্গে ধরা পড়ে মানে খুশির খবর। লাল কোরাল সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি মাছ।”

এটি ভেটকির প্রজাতিভুক্ত (Lates Calcarifer) এবং সর্বোচ্চ প্রায় ১৫ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। এতে প্রোটিন, ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন ডি ও ওমেগা-৩ রয়েছে, যা হৃদরোগ প্রতিরোধে উপকারী।