তালিয়ানে প্রধানমন্ত্রীর কর্মব্যস্ত দিন, লক্ষ্য ‘বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ’
সরকারপ্রধান হিসেবে বিদেশে কোনো আন্তর্জাতিক ফোরামে প্রথম অংশগ্রহণ করে কর্মব্যস্ত দিন কাটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর তালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত সম্মেলনে বিভিন্ন আয়োজনে যোগ দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে তালিয়ানে সরকারপ্রধানের প্রথম দিনের কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেন, সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস সিঙ্গি।
“বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকার কীভাবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে পারবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে, দেশের মানুষকে অগ্রযাত্রার পথে ধাবিত করতে পারবে, সেগুলো নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির প্রশংসা করা হয়েছে।”
সন্ধ্যায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন আ শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক সেশনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
তার উপদেষ্টা মাহ্দী বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে নির্বাচিত সরকার কর্তৃক গৃহীত কর্মসূচিগুলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে, প্রশংসিত হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিনি কর্মসূচিগুলো বিশ্বদরবারে উপস্থাপন করেন।”
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
“আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন-পুনঃখনন, পদ্মা ও তিস্তা অববাহিকার পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, সবুজ শিল্পের বিকাশে পাট শিল্প ও পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক ভেহিকল চালু এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করেন।”
সম্মেলনে তারেক রহমানের বক্তব্য থেকে উদ্ধৃত করে মাহ্দী বলেন, “জলবায়ু কার্যক্রম কোনো ব্যয় নয়; এটি আমাদের সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অপরিহার্য বিনিয়োগ।”
একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি তহবিলের কার্যকর বাস্তবায়ন, সহজলভ্য ও পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ এবং প্রশমন ও অভিযোজন কার্যক্রমে সমান গুরুত্ব দেওয়ার ওপর প্রধানমন্ত্রীর জোর দেওয়ার কথা বলেন তার উপদেষ্টা।
মাহ্দী আমিন বলেন, “তিনি জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক সংহতি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও যৌথ দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।”
এরপর তালিয়ানের ‘সামার দাভোসে’ অংশ নেওয়া সরকারপ্রধানদের সম্মানে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের দেওয়া নৈশভোজে সস্ত্রীক অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সিওক, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিয়াম-ওসোরিন উচরাল, গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু ওউরি বাহ, মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোজকো স্পাজিচ, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকটেনভ ভোজসভায় অংশ নেন।
তিনি বলেন, এটি ছিল সাত দেশের সরকারপ্রধানের একসঙ্গে রাষ্ট্রীয় ভোজ, যেখানে উন্মুক্ত আলাপচারিতার সুযোগ ছিল।
“তালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সামার দাভোসে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য একদিকে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ করছে, অন্যদিকে বিভিন্ন দেশের বেস্ট প্র্যাকটিস গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় সক্ষমতাকে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করছে।”
বুধবার সকালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের 'অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স' অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে অন্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় তালিয়ান থেকে হাই স্পিড ট্রেনে প্রধানমন্ত্রী বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি ও সুজন মাহমুদ, শাহাদাত স্বাধীনসহ প্রেস দপ্তরের কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।


