হোয়াইটওয়াশ এড়াতে মরিয়া অস্ট্রেলিয়া
এক ম্যাচ আগেই সিরিজ খুইয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের সঙ্গে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ হারার তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়েই এখন শেষ ম্যাচের অপেক্ষায় সফরকারীরা।
তবে সিরিজ হাতছাড়া হলেও লড়াই ছাড়তে রাজি নয় অজিরা। তাদের সামনে এখন একটাই লক্ষ্য, হোয়াইটওয়াশ এড়ানো।
রোববার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুই দল। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার মারনাস লাবুশেন জানিয়ে দিলেন, সিরিজ হারলেও শেষ ম্যাচ জিতে ব্যবধান ২-১ করতে চায় তার দল।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ হারের পর কতটা হতাশ অস্ট্রেলিয়া, এমন প্রশ্নেই ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার লাবুশেনের কাছে। তার উত্তর, ‘এটা আমাদের জন্য আদর্শ সিরিজ হয়নি।
তবে প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচই একটি সুযোগ। আমরা যা করছি এটি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ। প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই ভালোভাবে শেষ করে সিরিজ ২-১ করতে।’
সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় শেষ ম্যাচ হারলে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা সঙ্গী হবে অস্ট্রেলিয়ার। তবে লাবুশেনের মতে, ৩-০ কিংবা ২-১—সিরিজ হারার কষ্ট একই, ‘প্রতিটি হারই হতাশার। আমরা খেলি জয়ের জন্যই। তাই আমরা চাই কাল ভালো ক্রিকেট খেলতে এবং সিরিজটা ২-১ করতে। শেষ পর্যন্ত ৩-০ হোক বা ২-১—হার হারই।’
অতীতে উপমহাদেশের বাইরের দলগুলোর বিপক্ষে স্পিননির্ভর উইকেট বানিয়ে ফাঁদ পাতা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়গুলোতে সেই পথে হাটছে না বাংলাদেশ। এবার মিরপুরে দেখা গেছে পেস ও বাউন্সসমৃদ্ধ স্পোটিং উইকেট। এমন উইকেটে খেলাটা দারুন ব্যাপার হিসেবেই দেখছেন অজিরা, ‘তাদের (বাংলাদেশের) ভালো পেস বোলিং আক্রমণ আছে। যারা এই ধরনের উইকেট থেকে ভালো সুবিধা নিতে পারে। আমরা কিছু সুযোগ মিস করেছি। প্রথম ম্যাচে আমি স্লিপে একটি ক্যাচ ফেলেছি, সেটি নিলে ম্যাচের চিত্র বদলে যেত। এখানে পেস ও বাউন্স থাকা উইকেটে খেলা দারুণ ব্যাপার।’
সিরিজে ব্যক্তিগতভাবে খুব একটা সফল নন লাবুশেনও। প্রথম ম্যাচে ১ রানের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ৫৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন অজি এই টপ অর্ডার ব্যাটার। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে রান পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তিতে আছেন বলে জানালেন লাবুশেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি রান করতে সংগ্রাম করছি। হোম সামারে ওয়ানডে দলে ছিলাম না, পরে ঘরোয়া পারফরম্যান্সে ফিরেছি। এখনও পুরোপুরি ক্লিক করেনি, তবে আগের ম্যাচে রান পাওয়া ভালো লাগার বিষয় ছিল। এখন আমার কাজ হলো ধারাবাহিকভাবে রান করা এবং দলকে জিততে সাহায্য করা।’
এদিকে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের প্রশংসা ঝড়লো লাবুশেনের কণ্ঠে, ‘এই সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশকে আমরা কোনোভাবেই হালকাভাবে নিইনি। এখানে এসে আমরা প্রস্তুত ছিলাম। সিরিজটা আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী যায়নি। তবে পাকিস্তানের সঙ্গে শেষ টেস্ট সিরিজে তাদের পারফরম্যান্স দেখে বোঝা যায় বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করেছে। আমরা জানি তারা যখন অস্ট্রেলিয়ায় আসবে, তাদের বিপক্ষে ভালোভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে।’