জামিনে কারামুক্ত আনিস আলমগীর
গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার তিন মাসের মাথায় কারামুক্ত হলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর।
শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার-২ থেকে তিনি ছাড়া পান বলে জানিয়েছেন কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক জান্নাত উল ফরহাদ।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জামিনের প্রয়োজনীয় কাগজ আসার পর যাচাই-বাছাই শেষে তিনি কারামুক্ত হন।”
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জ্যেষ্ঠ জেল সুপার মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, আনিস আলমগীর দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়েছেন।
“তিনি ২১ ডিসেম্বর কেরাণীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এখানে এসেছিলেন। সবশেষ দুদক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জামিনের কাগজপত্র আসার পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।”
গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গত ১৪ ডিসেম্বর রাত ৮টার পর সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
এরপর মধ্যরাতে ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামে একটি সংগঠনের সদস্য আরিয়ান আহমেদ ‘রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্র এবং নিষিদ্ধ সংগঠনকে উসকে দেওয়ার’ অভিযোগে আনিস আলমগীরসহ চারজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এ মামলা করেন।
এ মামলায় আনিস আলমগীরের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আটক ছিলেন।
সবশেষ গত ২২ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত আনিস আলমগীরের জামিন নামঞ্জুর করলে তার আইনজীবী হাই কোর্টে আবেদন করেন।
গত ৫ মার্চ উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় হাই কোর্ট থেকে জামিন পান আনিস আলমগীর।
এর মধ্যে গত ১৫ জানুয়ারি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ২৮ জানুয়ারি দুদকের আবেদনে আদালত তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।
এ মামলায় গত ১১ মার্চ আনিস আলমগীরকে জামিন দেন ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ। এরপর শনিবার দুপুরে কারামুক্ত হলেন তিনি।
দৈনিক আজকের কাগজসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করা আনিসুর রহমান আলমগীর— আনিস আলমগীর নামেই বহুল পরিচতি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক আনিস আলমগীর সমসাময়িক রাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে টেলিভিশন টকশোতে নিজের বক্তব্যের কারণে আলোচনা-সমালোচনায় ছিলেন। ফেইসবুকে দেওয়া তার বিভিন্ন পোস্ট নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা ছিল ওই সময়।
তার স্ত্রী শাহনাজ চৌধুরীর দাবি, ‘স্বাধীন মত প্রকাশের কারণেই’ জেলের ঘানি টানতে হয়েছে তার স্বামীকে।