শনিবার ১৪ মার্চ ২০২৬, ফাল্গুন ৩০ ১৪৩২, ২৫ রমজান ১৪৪৭

আন্তর্জাতিক

ইরানের খারক দ্বীপে বোমা ফেলল যুক্তরাষ্ট্র, তেল স্থাপনায় হামলার হুমকি

 প্রকাশিত: ১১:৩৭, ১৪ মার্চ ২০২৬

ইরানের খারক দ্বীপে বোমা ফেলল যুক্তরাষ্ট্র, তেল স্থাপনায় হামলার হুমকি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার বাহিনী ইরানের প্রধান তেলের হাব খারক দ্বীপের সব সামরিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে; তেহরান যদি এরপরও হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলে কোনো ধরনের বাধা দেয় তাহলে পরবর্তীতে দ্বীপটির তেল স্থাপনায়ও হামলা হবে।

এই খারক দ্বীপ ইরানের তেলের চালানের ৯০ শতাংশের রপ্তানি টার্মিনালের ভূমিকা পালন করে।

সোশাল মিডিয়ায় দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, শুক্রবার মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানি ওই দ্বীপটির ‘প্রত্যেক সামরিক লক্ষ্য পুরোপুরি গুঁড়িয়ে’ দিলেও তেল স্থাপনা অক্ষত রেখেছে।

“এরপরও ইরান বা অন্য কেউ যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ যাত্রায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করে তাহলে আমি তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবো,” পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ কথা লেখেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ইরানে এবারের যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যাঘাত ঘটছে বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। এ বিঘ্নের কারণে বাজার এমনিতেই অস্থিতিশীল হয়ে আছে, তার মধ্যে ট্রাম্পের খারক দ্বীপে হামলার হুমকি পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলতে পারে বলে অনেকের শঙ্কা।

ট্রাম্প বলছেন, মার্কিন হামলা প্রতিরোধের সক্ষমতা ইরানের নেই।

“ইরানের সামরিক বাহিনী এবং সন্ত্রাসী এ শাসকগোষ্ঠী সংশ্লিষ্ট সবার জন্যই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের হবে অস্ত্র সমর্পণ করা এবং দেশের বাকিটুকু রক্ষা করা, যা এমনিতেও আর খুব বেশি নেই,” বলেছেন তিনি।

এ যুদ্ধ কতদিন চলতে পারে তা নিয়ে ট্রাম্পের একেকবার একেক কথাও তেলের দামের উল্লম্ফনে ভূমিকা রাখছে। বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ যে জলপথ দিয়ে হয়, সেই হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া এই দাম স্থিতিশীল হবে না বলেই বিশ্লেষকদের ধারণা।

ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। কিন্তু শুক্রবার তিনি যুদ্ধ থামার আনুমানিক তারিখ জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

“আমি আপনাদের তা বলতে পারছি না। মানে, আমার একটা ধারণা আছে, কিন্তু তাতে কী লাভ হবে? যতদিন প্রয়োজন হবে, ততদিন চলবে,” বলেছেন তিনি।

ইরান উপকূল থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত খারক দ্বীপটি হরমুজ প্রণালি থেকে ৪৮৩ কিলোমিটার উত্তরপশ্চিমে অবস্থিত।

তেহরানের হামলার ভয়ে উপসাগরীয় অন্য উৎপাদকরা তেল উত্তোলন সীমিত ও রপ্তানি স্থগিত রাখলেও ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে।

বুধবারও একাধিক বড়সড় অপরিশোধিত তেলের ট্যাংকারকে খারক দ্বীপে তেল লোড করছিল বলে উপগ্রহের ছবি পর্যালোচনা করে বলেছে ট্যাংকারট্র্যাকার্স ডটকম। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ‍বুধবার পর্যন্ত তেহরান প্রতিদিন ১১ থেকে ১৫ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ইরানের দ্বীপটিতে থাকা সংবেদনশীল স্থাপনা, বিশেষ করে পাইপলাইন, টার্মিনাল ও তেল সংরক্ষণের ট্যাংকগুলোর সামান্যতম ক্ষতিও করেছে কিনা সেদিকে কড়া নজর রাখছে। এ ধরনের কিছু হলে তা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সঙ্কট বাড়িয়ে অস্থির বাজারে আরও চাপ সৃষ্টি করবে।

ট্রাম্পের শুক্রবারের মন্তব্যে বাজার পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে ধারণা করছেন র‌্যাপিডান এনার্জি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট বব ম্যাকনেলি।

আবার খারক দ্বীপের তেলের স্থাপনাগুলো আদৌ অক্ষত আছে কিনা তা নিয়েও কারও কারও সন্দেহ আছে।

“তেলের স্থাপনা বাদ দিয়ে খারক দ্বীপে বোমা মারা অনেকটা ম্যাকডনাল্ডে গিয়ে মাংশ ছাড়া হ্যামবার্গার নেওয়ার মতো। এর দরকার কী?” বলেছেন বাইসন ইন্টারেস্টসের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা জশ ইয়ং।

এদিকে শনিবার ইরানি বার্তা সংস্থা ফারস জানিয়েছে, ইরানের খারক দ্বীপ থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেলেও ইরানি বাহিনী সেখানে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

“খারকে হামলার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে সেখানকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনরায় চালু হওয়া ট্রাম্পের দাবিকে ভুল প্রমাণ করেছে,” মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘সব সামরিক লক্ষ্য গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে’ কথা উল্লেখ করে এমনটাই বলা হয় ফারসের প্রতিবেদনে।

হামলার সময় দ্বীপটিতে ১৫টির বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে সেখানে থাকা একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে ইরানি সংবাদমাধ্যমটি।

তবে হামলায় কোনো তেল স্থাপনাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, বলেছে সূত্রগুলো।