শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতা, তাহের উপনেতা
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানকে বিরোধীদলীয় নেতা ও দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে উপনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ত্রয়োদশ সংসদে সরকারি দলের বিরোধিতাকারী সর্বোচ্চসংখ্যক সদস্য নিয়ে গঠিত দল বা অধিসঙ্গের নেতা হিসেবে শফিকুর রহমানকে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
একই প্রজ্ঞাপনে আব্দুল্লাহ তাহেরকে বিরোধী দলীয় উপনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথাও বলা হয়।
এতে বলা হয়, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি এবং বিরোধী দলের নেতা ও উপনেতা সম্পর্কিত আইনে তাদের স্বীকৃতি দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংসদীয় মর্যাদাক্রমে বিরোধীদলীয় নেতা পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদা ও সুবিধা ভোগ করেন। সেই হিসেবে শফিকুর রহমানের এই স্বীকৃতি কেবল সংসদীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, রাষ্ট্রীয় মর্যাদার দিক থেকেও তা গুরুত্বপূর্ণ
বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদের যাত্রা শুরু হয়। তার আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণের পরে শফিকুর রহমানকে বিরোধী দল নেতা হিসেবে মনোনীত করা হয়।
এছাড়া সে দিন আব্দুল্লাহ তাহের বিরোধী দলের উপনেতা ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিরোধী দলের চিফ হুইপ মনোনীত হন।
সেদিন জামায়াত নেতা তাহের সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার পর এসব পদে তাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
তবে ওই সময় স্পিকার নির্বাচিত না হওয়ায় আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার এবং কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পরই বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতার স্বীকৃতির প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হল।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থান আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রায় সাত মাসের মাথায় দ্বাদশ সংসদের বিলুপ্তি ঘটে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় দেড় বছর পর ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়।
সেই নির্বাচনে নির্বাচনে বিএনপি ২০৯, জামায়াত ৬৮, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুইটি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন, খেলাফত মজলিস একটি করে আসন এবং সাতটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় পেয়েছে।
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, শোক প্রস্তাব এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণকে ঘিরে উত্তেজনা দেখা যায়; রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় বিরোধী জোটের সদস্যরা ওয়াকআউটও করেন।