৩ স্থানে অবরোধের ডাক দিয়ে সড়ক ছাড়লেন আন্দোলনকারীরা
ঢাকার তিন স্থানে অবরোধের ডাক দিয়ে সড়ক ছাড়লেন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ জারির দাবিতে আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরি, তাঁতীবাজার ও টেকনিক্যাল মোড়ে এ কর্মসূচি ডেকেছেন তারা।
বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে আন্দোলনকারীদের সবশেষ অংশটি ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় ছেড়ে দেন।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে এদিন দুপুরে ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরি, তাঁতীবাজার, টেকনিক্যাল ও মহাখালীর আমতলী মোড় অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।
বেলা ১২টার দিকে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করেন।
একই সময়ে টেকনিক্যাল মোড় অবরোধ করেন মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীরা।
তাদের এ অবরোধের প্রভাবে ব্যাপক যানজট তৈরি হয় ঢাকার বিভিন্ন সড়কে।
পরে বিকাল ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা টেকনিক্যাল মোড়, তাঁতীবাজার ও মহাখালীর আমতলী মোড় অবরোধ ছেড়ে দেন।
তবে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় আটকে শিক্ষার্থীরা দ্রুত অধ্যাদেশ জারির দাবি জানাতে থাকেন, যা চলে সন্ধ্যা পৌনে ৬টা পর্যন্ত।
সড়ক ছাড়ার আগে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে ব্রিফিংয়ে সাত কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর আন্দোলনের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি মো. নাঈম হাওলাদার বলেন, “আমরা চাই সরকার আমাদের ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তির সেই অধ্যাদেশটি দ্রুত দিয়ে দিক। জানুয়ারির সূচনা লগ্নে আমরা সরকারের কাছে গিয়েছিলাম, তারা আমাদেরকে জানিয়েছিল জানুয়ারির ১৫ তারিখের মধ্যে একটি অধ্যাদেশের সন্ধান দেবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, সেটি এখনো আমরা পাচ্ছি না। যার ফলশ্রুতিতে আমরা মূলত আজকে রাজপথে নেমেছিলাম।
“আজ আমাদের চারটি স্পটের কর্মসূচি সফল হওয়ার একদম ক্রান্তিলগ্নে। আমরা সায়েন্স ল্যাব, তাঁতীবাজার মোড়, টেকনিক্যাল মোড় এবং মহাখালীর আমতলী— এই চারটি স্পট ব্লকেড করেছিলাম।”
তিনি বলেন, “আমরা যেহেতু সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা পাচ্ছি না, অতএব আমাদের এই কর্মসূচি আমরা স্পেসিফিক নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত চলমান রাখবো। আমাদের এই ব্লকেড কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য চলমান থাকবে।
“এরই ধারাবাহিকতায় আমরা বৃহস্পতিবার আবারও সায়েন্স ল্যাব, তাঁতীবাজার মোড়, টেকনিক্যাল মোড়— এই তিনটি স্পটে ব্লকেড কর্মসূচি চলমান রাখব।”
সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের একাংশ ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, ওই সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানুয়ারির প্রথম দিকে অধ্যাদেশ জারির কথা বলেছিল।
এই যুক্তিতে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) উপদেষ্টা পরিষদে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশের খসড়ায় অনুমোদন দিয়ে একই দিনে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির দাবি তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশর খসড়া প্রকাশিত হয়। সেখানে প্রস্তাবিত স্কুলিং কাঠামোর বিরোধিতা করছেন কলেজগুলোর শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকরা।
ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজকে নিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের কার্যক্রম যখন চলছে, তখন এর আশু কাঠামো নিয়ে কলেজগুলোর শিক্ষকরা ও শিক্ষার্থীদের কয়েকটি অংশ মুখোমুখি অবস্থান রয়েছেন।
খসড়া অধ্যাদেশে সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে বিভক্ত করে ‘ইন্টারডিসিপ্লিনারি’ বা 'স্কুলিং' কাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী কলেজগুলো উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদানও চালু থাকবে।
‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির’ প্রস্তাবিত কাঠামোতে সাতটি কলেজসহ সারা দেশের সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা পদোন্নতির মতো মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার শঙ্কায় আছেন।
তারা কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে 'অধিভুক্তিমূলক কাঠামোতে' নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।
আর কলেজগুলোর বর্তমান শিক্ষার্থীদের একাংশ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টির আইনি কাঠামো দ্রুত নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে দ্রুততম সময়ে অধ্যাদেশ জারির দাবি জানাচ্ছেন।
অপর দিকে উচ্চমাধ্যমিক ও অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের একাংশ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের মতই প্রস্তাবিত কাঠামোর বিরোধিতা করে বলছেন, স্কুলিং কাঠামোতে কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য বজায় থাকবে না।
এমন বাস্তবতায়, ওই খসড়া পরিমার্জিন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।পরিমার্জিত খসড়াটিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত করে মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে।
বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, "সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশের প্রশাসনিক উৎকর্ষ নিশ্চিতকরণ ও শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে প্রণীত এই অধ্যাদেশটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি এবং লেজিসলেটিভ বিভাগের ভেটিং শেষে উপদেষ্টা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে।
"ইতিমধ্যেই ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু করা হয়েছে, যা শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। উচ্চশিক্ষার এই নতুন কাঠামোটি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পেশাদারত্ব এবং ধৈর্যশীল সহযোগিতা একান্ত কাম্য।"
'অসম্পূর্ণ তথ্য বা গুজবে' বিভ্রান্ত না হয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন যেন 'ব্যাহত না হয়', সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে।