শাকসু নির্বাচনের অনুমতি দিতে ‘লিখিত অঙ্গীকার চায়’ ইসি, প্রত্যাখ্যান প্রার্থীদের
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ-শাকসু নির্বাচন আয়োজনের অনুমতি দিতে প্রার্থীদের কাছ থেকে নির্বাচন কমিশন ‘লিখিত অঙ্গীকার’ চেয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে শাবি প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে আইনশৃঙ্খলার দায় প্রার্থীদের ওপর চাপানো হচ্ছে অভিযোগ তুলে প্রার্থীরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে আলোচনা সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনসহ অন্যান্য কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন।
আর শাবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ইসমাঈল হোসেন ও উপাচার্যের সচিব এ এফ সালাউদ্দিন অংশ নেন বলে জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আলোচনার বিষয়ে ইসির বক্তব্য উদ্ধৃত করে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ইসমাঈল হোসেন বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের তফসিল হয়েছে, একটা সিকিউরিটি কনসার্ন আছে। সে কারণে আমরা সারাদেশেই এই ধরনের স্থগিত করেছি সিকিউরিটির কথাটা চিন্তা করে। আপনারা যেহেতু বলছেন এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি-এটার কারণে জাতীয় নির্বাচনের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।
“আপনারা যেহেতু বলছেন আপনারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন, তো সেক্ষেত্রে আপনারা আপনাদের মতো করেন। কিন্তু তাহলে প্রার্থীদের কাছ থেকে একটা লিখিত মত নেন যে তারা নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে কোনোরকম পরিবেশ বিঘ্ন না করে তারা এতে অংশগ্রহণ করবে। আর আপনারা লোকাল যে প্রশাসন আছে তাদের সঙ্গে বসে পরিবেশটা নিশ্চিত করে আপনারা আপনাদের মতো করে নেন।”
এদিকে নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো প্রস্তাব মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন-১ এর সামনে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সাজেদুল করিম শাকসু প্রার্থীদের পড়ে শোনান।
কিন্তু নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দায় প্রার্থীদের এপর চাপানোর অভিযোগ তুলে প্রার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং প্রশাসন ভবন-১ এর সামনেই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
এরপর রাত সাড়ে নয়টার দিকে প্রশাসন ভবন-১ এর কনফারেন্স কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসেন বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীসহ স্বতন্ত্র প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা। এ আলোচনা সভায় শিক্ষার্থীরা জাতীয় নির্বাচন কমিশন বরাবর কোনো অঙ্গীকারমূলক বা প্রতিশ্রুতিমূলক স্বাক্ষর দিয়ে অঙ্গীকারনামা পাঠাতে অসম্মত হন।
এ সময় শাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য সহযোগী অধ্যাপক রাজিক মিয়া প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “যদিও আমরা নির্বাচন কমিশন আসছি অবজারভার হিসেবে। অঙ্গীকারনামা এক ধরনের মুচলেকা, মুচলেকা দেয় চোর-বাটপাররা। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছাত্রসংসদ নির্বাচন করবে, আবার অঙ্গীকারনামা দেবে।
“এটা কি ক্রিমিনালদের ইলেকশন? আপনারা নির্বাচন কমিশনে বসছেন। আপনাদের ল্যাংগুয়েজ নিয়েও কি আমরা কথা বলব না! আমার মনে হয় তারা (ইসি) স্মারকলিপির কথাই বলতে চাইছিলেন।”
এ সময় তিনি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং স্মারকলিপিতে ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন আয়োজনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে তা জমা দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন।
তখন উপাচার্য অধ্যাপক সাজেদুল করিম বলেন, “রাজিক স্যার আপনাদের যা বলেছেন, তা আপনারা করতে পারেন।”
পরে রাত সোয়া ১১টার দিকে প্রার্থীরা স্মারকলিপির একটা প্রাথমিক ড্রাফট তৈরি করেন এবং বুধবার বেলা ১১টার মধ্যে শাকসু নির্বাচন কমিশনের কাছে তা জমা দেওয়ার সিদ্ধান্তে একমত হন।
সভা শেষে সব প্রার্থীর পক্ষ থেকে ভিপি প্রার্থী ইংরেজি বিভাগের দেলোয়ার হাসান শিশির সাংবাদিকদের বলেন, “অঙ্গীকার ও সিগনেচার এ দুইটা বিষয় নিয়ে একটা ইস্যু হয়েছে। বলা হয়েছে আমাদের পক্ষ থেকে নাকি অঙ্গীকার দিতে হবে, সেখানে সিগনেচার থাকবে। শিক্ষার্থী ও প্রার্থীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে এটা ‘এ টাইট অব মুচলেকা’। আমরা এ ধরনের মুছলেকা বা সিগনেচার দিতে পারব না।
“বরং আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, স্মারকলিপির টাইপের দাবি জানানোর মত করে একটা পেপার জমা দেব। সেখানে হয়তো সবার সিগনেচার থাকবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনকে কোনো ধরণের অঙ্গীকার বা মুচলেকা দিতে যাব না।”
তিনি বলেন, “সবার পরামর্শের আলোকে স্মারকলিপির ফাইনাল ড্রাফট তৈরি করে বুধবার বেলা ১১টার মধ্যে শাকসু নির্বাচন কমিশনকে জমা দেব। তারা সেটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জমা দেবে। প্রশাসন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে তা পৌঁছায় দেবেন।”
সাধারণের ঐক্যস্বর প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মুঁহয়ী শারদ বলেন, “এখানে যদি আমাদের এই নিরাপত্তার দায় নিতে হয় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আর প্রক্টোরিয়াল বোর্ড কি করতেছে? এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তো প্রশাসন আর প্রক্টোরিয়াল বডির, আমাদের দায়িত্ব না।
“অঙ্গীকারনামায় সাইন করা মানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব নিজ হাতে নিয়ে নেওয়া। শাকসু যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে আমরা বুধবার স্মারকলিপি জমা দেব।”