বৃহস্পতিবার ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মাঘ ২৩ ১৪৩২, ১৭ শা'বান ১৪৪৭

ব্রেকিং

এরদোয়ান-সিসি বৈঠক : অংশীদারত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর জুলাই হত্যা: আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় ৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোয় শাহবাজ শরীফকে আসিফ নজরুলের ধন্যবাদ আন্দোলনের সঙ্গীরাই এখন আমার ওপর মিসাইল ছুড়ছে: জামায়াত আমির তিন লাখ ৮০ হাজার প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট দেশে পৌঁছেছে আধিপত্য বিস্তার: সিলেটে মহাসড়ক আটকে দেড় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ খুলনায় ইসলামী আন্দোলনের নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ অনিশ্চয়তা কাটল, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ‘বৈঠক হচ্ছেই’, আলোচ্যসূচিতে মতভেদ আর্টেমিস ২: চাঁদে মানুষের যাত্রা পিছিয়ে গেল মার্চে বাংলাদেশের অটল অবস্থান ভালো লেগেছে নাসের হুসেইনের

আন্তর্জাতিক

অনিশ্চয়তা কাটল, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ‘বৈঠক হচ্ছেই’, আলোচ্যসূচিতে মতভেদ

 প্রকাশিত: ১৩:০৬, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

অনিশ্চয়তা কাটল, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ‘বৈঠক হচ্ছেই’, আলোচ্যসূচিতে মতভেদ

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বৈঠক হচ্ছে না, বুধবার দিনভর এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও পরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা পরে ওই অনিশ্চয়তা দূর করে বলেছেন, ওমানে শুক্রবারই তারা আলোচনায় বসছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বৈঠক কখন শুরু হবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাও জানিয়ে দিয়েছেন।

“যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা মাস্কটে হবে বলে ঠিক হয়েছে, শুক্রবার আনুমানিক সকাল ১০টার দিকে এ আলোচনা হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া আমি আমাদের ওমানি ভাইদের প্রতি কৃতজ্ঞ,” বুধবার রাতে এক্সে দেওয়া পোস্টে আরাগচি এসব জানান।

নানান অনিশ্চয়তার পর আলোচনা যে শেষ পর্যন্ত হচ্ছেই মার্কিন এক কর্মকর্তাও তা নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা হচ্ছে না বলে গুঞ্জন তুঙ্গে ওঠার পর দুই দেশের কর্মকর্তাদের এসব বিবৃতি আসে।

শুক্রবারের বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তার বিষয়টি প্রথম সামনে আনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকের পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দাবি মেনে বৈঠকের স্থান ও আলোচনার ধরন বদলাতে রাজি হয়নি।

শুক্রবার দুই পক্ষের এই বৈঠকটি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইরান বৈঠকের স্থান বদল ও আলোচ্যসূচি নিয়ে শর্ত দিয়ে বসে। তেহরান বলে, তারা এ দফার আলোচনা ওমানে করতে চায়। আলোচনাও কেবল পারমাণবিক কর্মসূচির ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, বলে তারা।

এক্সিওস জানায়, মার্কিন কর্মকর্তারা প্রথমে আলোচনার স্থান বদলের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছিল, কিন্তু পরে ওই দাবি খারিজ করে দেন।

“আমরা তাদেরকে বলি, হয় সেখানেই (তুরস্ক) হবে, না হলে হবে না। জবাবে তারা বলে, ঠিক আছে, তাহলে হবে না,” বলেন এক ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা।

কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক নেতার তদবিরে পরে ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন তাদের সিদ্ধান্ত বদলে ফেলে এবং তেহরানের দাবি মেনে নেয় বলে দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে পরে আরেক প্রতিবেদনে জানায় এক্সিওস।

ওই অঞ্চলের অন্তত ৯টি দেশ বুধবার বিকালে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করে বৈঠক বাতিল না করতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেন, বলেছে তারা।

অবশ্য শুক্রবারের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বাইরে অন্য দেশের প্রতিনিধিদের থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। এ দুই দেশের প্রতিনিধিদের বাইরে ওমানি মধ্যস্থতাকারীরা থাকতে পারেন, সঙ্গে দেখা যেতে পারে কাতারের প্রধানমন্ত্রীকেও।

মতভেদ আলোচ্যসূচি নিয়ে

বৈঠক বাতিলের আলাপ শুরু হয় জনসমক্ষে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর এক মন্তব্যের পর। যেখানে রুবিও বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো আলোচনাতেই পরমাণু কর্মসূচির পাশাপাশি তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আঞ্চলিক অবস্থান ও তার অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থার কথা থাকতেই হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্যতে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিধাবিভক্তিও ফুটে উঠেছে বলে মত অনেক বিশ্লেষকের। তাদের মতে, একদিকে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে রুবিও চাইছেন চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে ‘পথে আনতে’।

যুক্তরাষ্ট্র আগের মতোই আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ করে পরে ঠিকই হামলা চালাবে, তেহরানের এমন আশঙ্কাকে রুবিওর মন্তব্য আরও উসকে দেয়।

তাদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র যে দীর্ঘ আলোচ্যসূচি নিয়ে বসতে চাইছে তা মোটেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর লক্ষ্যে নয়, ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য হচ্ছে ইরানকে ‘কার্যত আত্মসমর্পণে’ বাধ্য করা, আর যদি যুক্তরাষ্ট্র তা অর্জন করতে না পারে তাহলে ইরানের ওপর গত বছরের জুনের মতো হামলা শুরু হবে।

আলোচ্যসূচি নিয়ে মতভেদ থেকেই বৈঠক বাতিলের গুঞ্জন প্রকট হয়ে ওঠে। মাসকটে বৈঠকের দিনক্ষণ ঠিক হলেও আলোচ্যসূচিতে কী কী থাকবে তা এখনও ঠিক হয়নি বলে একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।

তবে ঊর্ধ্বতন এক ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, আলোচনা কেবল ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়েই হবে, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ‘নিয়ে কোনো কথা হবে না’।

সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ইরান কঠোর হাতে দমন করার সময় থেকেই ট্রাম্প শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির ওপর হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিয়ে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি তিনি বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করার লক্ষ্যেই তিনি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা উপস্থিতি বাড়িয়েছেন।

বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কন ও একাধিক যুদ্ধজাহাজ ইরানের আশপাশে অবস্থান নেওয়ার পর ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অবশ্যম্ভাবী বলেই অনেকে ধরে নিয়েছিল। তবে পরে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক তৎপরতায় তেহরান ও ওয়াশিংটন আলোচনায় বসতে রাজি হয়।

খামেনির ‘খুবই উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত’

এদিকে বুধবার ট্রাম্প বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটন যে পরিমাণ সেনা ও যুদ্ধাস্ত্র জড়ো করেছে তাতে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ‘খুবই উদ্বিগ্ন’ হওয়া উচিত।

“আমি বলতে পারি, তার খুবই উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। যদিও আপনি জানেন, তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করছে,” মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে মার্কিন হামলার পর তেহরান নতুন পারমাণবিক স্থাপনা বানানোর কথা ভেবেছিল বলেও জানান এ রিপাবলিকান।

“দেশের অন্য এক অংশে নতুন একটি স্থাপনার কাজ শুরুর কথাও ভেবেছিল তারা। আমরা তা ধরে ফেলি এবং বলি, যদি তোমরা এটা করো, আমরা তোমাদের খুব খারাপ কিছু করবো,” বলেছেন ট্রাম্প।