বুধবার ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, মাঘ ১৫ ১৪৩২, ০৯ শা'বান ১৪৪৭

ব্রেকিং

জালিয়াতিতে বাংলাদেশ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন: প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন সামনে রেখে মানবাধিকার সুরক্ষার আহ্বান অ্যামনেস্টির আরেক মামলায় এস আলম ও পি কে হালদারের বিচার শুরু হাদি হত্যা: ফয়সালের ‘ঘনিষ্ঠ সহযোগী’ রুবেল ফের ৩ দিনের রিমান্ডে কূটনৈতিক সম্পর্কে অবনতি হলেও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবারহ বাড়িয়েছে আদানি রোডম্যাপ অনুসারে হজের সব কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে: ধর্ম উপদেষ্টা ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিত চেয়ে রিট আবেদন ভারত থেকে বেনাপোলে এল ৫১০ টন চাল, কেজি ৫০ টাকা নিয়োগ সুপারিশ পেলেন সাড়ে ১১ হাজার প্রার্থী, খালি থাকছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকের অর্ধলক্ষাধিক পদ শ্রমিক নেতা বাসু হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড জনগণ যাকে নির্বাচিত করবে তার সঙ্গেই কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র সাংবাদিক আনিস আলমগীর এবার দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার টেকনাফে পাহাড়ে কাজ করতে যাওয়া ৬ কৃষক ‘অপহৃত’ খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে ভারতের রাজ্যসভা ভারতে বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমূখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার নিহত যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র শীতকালীন ঝড়ে ৩৮ জনের মৃত্যু ভেনেজুয়েলার জব্দ অর্থ ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের যাত্রীবাহী ট্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলা, নিহত ১২

জাতীয়

আরেক মামলায় এস আলম ও পি কে হালদারের বিচার শুরু

 প্রকাশিত: ১৮:২৯, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

আরেক মামলায় এস আলম ও পি কে হালদারের বিচার শুরু

ঋণ আত্মসাতের মামলায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ওরফে এস আলম এবং রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের (বর্তমানে আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেড) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত (পিকে) কুমার হালদারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়েছে আদালত।

বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৮ এর বিচারক নূরে আলম ভূঁইয়া এ আদেশ দেন।

এর মধ্য দিয়ে ২৪ কোটি টাকা আত্মসাতের এ মামলায় বিচার কাজ শুরু হলো। আগামি ১ মার্চ সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।

এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান ও শাহানা ফেরদৌস, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ইভিপি রাশেদুল হক, সাবেক ম্যানেজার নাহিদা রুনাই, সাবেক এসভিপি কাজী আহমেদ জামাল, সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার জুমারাতুল বান্না এবং মারিন ভেজিটেবল অয়েলসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ, পরিচালক টিপু সুলতান, মো. ইসহাক এবং মেসার্স সাইফুল অ্যান্ড কোম্পানি স্বত্ত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারি ফজলুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

আসামিদের মধ্যে নাহিদা রুনাই ও রাশেদুল হক কারাগারে আছেন। বুধবার শুনানিকালে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। অন্য আসামিরা পলাতক।

এদিন দুদকের পক্ষে প্রসিকিটর দেলোয়ার জাহার রুমি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন।

রাশেদুল হকের পক্ষে আইনজীবী নিয়াজ মোরশেদ এবং নাহিদা রুনাইয়ের পক্ষে মোহাম্মদ বাবুল বেপারী অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। অন্য আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

পরে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনে আদেশ দেয়।

এসময় দুই আসামি রাশেদুল হক ও নাহিদা রুনাই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থণা করেন।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ০১৩ সালের ৮ অগাস্ট নামসর্বস্ব এ এম ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের নামে ২৪ কোটি টাকার মেয়াদি ঋণ অনুমোদন ও বিতরণের অভিযোগ আনা হয়েছ। এই টাকা এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডে স্থানান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় গত বছরের ২ জুলাই দুদকের সহকারি পরিচালক মো. ইসমাঈল মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে ১৩ জনের বিরুদ্ধে ১৬ অক্টোবর ইসমাঈল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এর আগে সোমবার এক মামলায় এবং মঙ্গলবার আরেক মামলায় এস আলম ও পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকার পতনের পর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিতি এস আলম গ্রুপের নানা অনিয়ম সামনে আসে।

চট্টগ্রামভিত্তিক এ শিল্পগোষ্ঠীর চেয়ারম্যান এস আলমের বিরুদ্ধে ব্যাংক খাতে অনিয়ম, টাকা পাচার, আয়কর ফাঁকির অভিযোগ তদন্ত শুরু করে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। দুদকও ‘অবৈধ সম্পদ’ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে।

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় এস আলমের বিরুদ্ধে জোরজবরদস্তি করে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযোগ বহু পুরনো। পরে তিনি ও তার ব্যবসায়ী গোষ্ঠী শরীয়াহভিত্তিক আরও কয়েকটি ব্যাংকের পর্ষদের নিয়ন্ত্রণ নেন।

এসব ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ নামে ও নাম সর্বস্ব কোম্পানি খুলে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচার করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে পি কে হালদার নামে-বেনামে পিপলস লিজিংসহ নানা আর্থিক প্রতিষ্ঠান খুলে হাজার কোটি টাকা লোপাট করে বিদেশে পালিয়ে যান বলে ২০২০ সালের শুরুতে খবর আসে।

এরপর দুদক তদন্তে নেমে পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের ৩৪টি মামলা করে। ২০২২ সালের মে মাসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তাকে গ্রেপ্তারের খবর আসে। পরের বছর ৮ অক্টোবর প্রথম মামলায় তার ২২ বছরের কারাদণ্ডের রায় আসে।