সেই রুবেল আমি না: আদালতে হাদি হত্যার আসামি
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের ‘ঘনিষ্ঠ সহযোগী’ হিসেবে গ্রেপ্তার ফয়সাল রুবেল আহমেদ নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন আদালতে।
বুধবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে রিমান্ড শুনানিতে তিনি বলেন, “যে রুবেল হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, সেই কামরুজ্জামান রুবেল আমি না।
“আমি একটা চাকরি করি। হত্যাকাণ্ডের কোনো জায়গায় জড়িত না। আমার বাসা আদাবর ছিল। এজন্য মনে করেছে যে ওই রুবেল আমি।”
তার এ বক্তব্যের পর বিচারক বলেন, “আপনাকে ওই রুবেল হিসেবে ধরা হয়নি।”
রিমান্ড শুনানি শেষে তার তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক।
দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে গত ২১ জানুয়ারি রাতে রুবেলকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। পরদিন তাকে ছয় দিনের রিমান্ড আদেশ দেয় আদলত।
সেই রিমান্ড শেষে বুধবার তাকে আদালতে হাজির করে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) এর সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, “ছয় দিনের রিমান্ডে এ আসামি অনেক তথ্য দিয়েছেন। যাচাইবাছাই করার জন্য আরও তথ্য দরকার। এজন্য তদন্তের জন্য তার আরও সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।”
রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, “হাদি হত্যার ঘটনা হুটহাট করে হয়নি। সে মামলার অন্যতম আসামি। তার কাছে দুইটা মোবাইল পাওয়া গেছে। ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসলে আরও তথ্য পাওয়া যাবে। মামলার ন্যায় বিচারের স্বার্থে তাকে সাতদিনের রিমান্ড দেয়া হোক।”
আদালতে এদিন রুবেলের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি আক্রান্ত হন। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী।
গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর দুদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর খবর আসে।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটিতে হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত হয়। এরপর থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে।
তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।
অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন- প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭) ও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬), সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)।
তাদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ শেষের পাঁচজন পলাতক রয়েছেন।