সোমবার ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, মাঘ ১৩ ১৪৩২, ০৭ শা'বান ১৪৪৭

ব্রেকিং

ভোট সুষ্ঠু করতে সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার যুবকরা ন্যায় ইনসাফের দেশ চায় : ডা. শফিকুর রহমান শুধু ভোট দিলেই চলবে না, ভোটের হিসাব বুঝে নিতে হবে: তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তীব্র শীতকালীন ঝড় ভোটের ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি ডাকসু থেকে সর্বমিত্র চাকমার পদত্যাগ সালমান এফ রহমান ও আবেদপুত্র সোহান ৪ দিনের রিমান্ডে জুলাই হত্যার দুই মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পরোয়ানা চানখাঁরপুলে ৬ হত্যা: সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৩ পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড ব্যাংক থেকে কর্পোরেট ঋণ কমানো হবে: গভর্নর ৩ দিনের সফরে খুলনা-ময়মনসিংহ বিভাগে যাচ্ছেন জামায়াত আমির দুই সন্তানকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিলেন গৃহবধূ উত্তরের মানুষ মৈত্রী হাসপাতালে পাবেন উন্নত চিকিৎসা: ইউনূস লক্ষ্মীপুরে বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি, হাসপাতালে ভর্তি ৬ জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি ফিলিপাইনে ফেরি ডুবে নিহত ১৫, নিখোঁজ ২৮ মেক্সিকোর ফুটবল মাঠে ১১ জনকে হত্যা করেছে সশস্ত্র হামলাকারীরা

রাজনীতি

দেশের মানুষ একটি বাস্তব ও ইতিবাচক পরিবর্তন চায় : তারেক রহমান

 আপডেট: ১৯:৫৯, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

দেশের মানুষ একটি বাস্তব ও ইতিবাচক পরিবর্তন চায় : তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের অবস্থার যে পরিবর্তন হয়েছে, তা শুধু পরিস্থিতির পরিবর্তন নয়— এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দেশের মানুষও একটি বাস্তব ও ইতিবাচক পরিবর্তন চায়।

গতকাল সন্ধ্যায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, মানুষ চায় একটু ভালোভাবে বাঁচতে, তার সন্তান ও পরিবারের সদস্যরা যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পায়, সন্তানরা যেন মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে এবং পরিবারটি যেন স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে পারে।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, মানুষ চায় ঝামেলাহীনভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরি-বাকরি করতে এবং যোগ্যতা অনুযায়ী নিজের কাজ করার নিশ্চয়তা পেতে। নিজের নিরাপত্তার পাশাপাশি এসব নিশ্চয়তাই আজ দেশের মানুষের প্রধান প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, ‘আমরা এসব কাজই করতে চাই। আর এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষকে বিজয়ী করা। আপনারা যদি ধানের শীষকে বিজয়ী করেন, তাহলে আমরা যে পরিকল্পনার কথা বলেছি, সেগুলো ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন করতে পারবো।’

তারেক রহমান বলেন, আমরা কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি এবং সেগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই রাজনীতি করছি। ‘গত দুই দিন ধরে শুনছি, কোনো কোনো ব্যক্তি বলছেন— আমরা নাকি দেশের মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছি। এখন আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন, আপনাদের ধোঁকা দিয়ে আমার লাভ কী? আমাদের তো আপনাদের কাছেই আসতে হবে। আমরা রাজনীতি করি জনগণের জন্য, জনগণের কাছেই আমাদের যেতে হয়। দেশের মানুষকে ধোঁকা দিয়ে আমাদের কোনো লাভ নেই।’

তিনি আরও বলেন, বিএনপি আল্লাহর রহমতে একাধিকবার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। ‘আমাদের অভিজ্ঞতা আছে। সেই অভিজ্ঞতার কারণেই আমরা জানি— কীভাবে পরিকল্পনা নিতে হয় এবং ধীরে ধীরে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হয়। দেশ পরিচালনার এই অভিজ্ঞতা বিএনপির আছে বলেই আমরা দায়িত্বশীলভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারি।

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর কুমিল্লা সফরে এলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর আগে ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কুমিল্লা স্টেডিয়ামে ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে দুপুর থেকেই জনসভাস্থলে ভিড় করতে শুরু করেন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।

সমাবেশে তারেক রহমান আরও বলেন, আমরা মায়েদের হাতে একটি ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই। এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে সরকার থেকে কিছু সহযোগিতা দেওয়া হবে। ‘আমরা কখনোই বলিনি যে মাসে যা যা লাগে সবকিছুই দেওয়া হবে। আমরা বলেছি, সরকার থেকে মাসিক কিছু সহযোগিতা দেওয়া হবে, যাতে পরিবারগুলো উপকৃত হয়। আমরা এই কাজটি বাস্তবায়ন করতে চাই।

তিনি বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারের মেয়াদ পাঁচ বছর। আমরা অল্প অল্প করে এগোবো। ‘এই পাঁচ বছরের মধ্যে যতটা সম্ভব ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করবো।’ যারা এসব নিয়ে সমালোচনা করছেন, তাদের আসলে হিংসা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘তারা দেশের মানুষের জন্য ভালো কোনো পরিকল্পনা দিতে পারেননি, তাদের সেই আইডিয়াও নেই, কারণ তাদের দেশ চালানোর কোনো অভিজ্ঞতা নেই।’

বিএনপির চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমরা কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াতে চাই এবং তাদের জন্য একটি কৃষক কার্ড চালু করতে চাই। ‘কেউ কেউ বলছেন, এটাও নাকি ধোঁকা। ধোঁকা দিলে তো ক্ষতি আমারই। পরেরবার কি মানুষ আমাকে বিশ্বাস করবে? আমার তো রাজনীতি করতে হবে। রাজনীতি করতে হলে যে কথা দিচ্ছি, তা রক্ষা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।’ চেষ্টা করার পরও যদি কোনো কিছু বাস্তবায়ন করা না যায়, সেটা জনগণই দেখবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রথমে প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। পরে পর্যায়ক্রমে বড় কৃষকরাও এই সুবিধার আওতায় আসবেন।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের দলীয় প্রার্থী কামরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) কেন্দ্রীয় নেতা কাজী নাহিদ, চৌদ্দগ্রাম পৌর বিএনপির সভাপতি জিএম তাহের পলাসীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, কুমিল্লা অঞ্চল হচ্ছে সবজির ভাণ্ডার। কিন্তু বড় সমস্যা হলো— খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। এর ফলে চাষাবাদে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। ‘আগামী ১২ তারিখের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রত্যেকটি খাল খননের কাজ শুরু করবো।’

তিনি আরও বলেন, এই এলাকায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, শিক্ষিত মানুষের সংখ্যাও কম নয়। কিন্তু বড় সমস্যা হলো বেকারত্ব। শুধু কুমিল্লায় নয়, সারা দেশেই বেকার সমস্যা রয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে বেকারদের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। শুধু প্রশিক্ষণ নয়, কাজের সুযোগও সৃষ্টি করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, কুমিল্লার অনেক মানুষ মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত। কুমিল্লায় একটি আরবী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা গেলে মধ্যপ্রাচ্যে যেতে আগ্রহীদের জন্য তা অত্যন্ত উপকারী হবে। এভাবেই কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, এই এলাকার বহু মা-বোন ক্ষুদ্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। তাদের জন্য ছোট ছোট ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা হবে এবং একই সঙ্গে তাদের উৎপাদিত পণ্য যাতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করা যায়, সে ব্যবস্থাও করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সমাজে এমন একটি শ্রেণী রয়েছে, যারা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে মানুষকে পরামর্শ দেন— তারা হচ্ছেন মসজিদ ও মাদ্রাসার ইমাম, খতিব ও মোয়াজ্জিনরা। বিএনপি সরকার গঠন করলে তাদের জন্য মাসিক সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি কম্পিউটারসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের উপার্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের তীব্র সমালোচনা তিনি চাইলে করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। কারণ দেশের মানুষ জানতে চায়— ক্ষমতায় গেলে তিনি জনগণের জন্য কী করবেন। অন্যদের সমালোচনা করে গিবত করলে জনগণের কোনো উপকার হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে কী করা হবে সে বিষয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং ধীরে ধীরে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। ‘আমরা জনগণের জন্য রাজনীতি করি। আপনারা ভালো থাকলে আমাদের সমর্থন দেবেন এটাই স্বাভাবিক।’

তিনি আরও বলেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য জনগণেরও দায়িত্ব রয়েছে। ভোটের মাধ্যমেই বিএনপিকে নির্বাচিত করতে হবে। বিএনপিই একমাত্র দল যারা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বেকারদের কর্মসংস্থান ও হেলথ কেয়ার ব্যবস্থার কথা বলেছে, যাতে অসুস্থ শিশু, মা ও বোনেরা ঘরে বসেই চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন।

তিনি বলেন, ভোটের দিন ভোরবেলাতেই ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। ভোট দেওয়ার পর ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে, যাতে কোনো ষড়যন্ত্রকারী নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিয়ম করতে না পারে।