সোমবার ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, মাঘ ১৩ ১৪৩২, ০৭ শা'বান ১৪৪৭

জাতীয়

উত্তরের মানুষ মৈত্রী হাসপাতালে পাবেন উন্নত চিকিৎসা: ইউনূস

 প্রকাশিত: ১১:৪৯, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

উত্তরের মানুষ মৈত্রী হাসপাতালে পাবেন উন্নত চিকিৎসা: ইউনূস

চীনের সহায়তায় নীলফামারীতে যে মৈত্রী হাসাপাতাল স্থাপিত হতে যাচ্ছে তা রংপুর ও ঢাকার হাসপাতালগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

রোববার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্প অনুমোদনের সময় তিনি এ কথা বলেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

গত বছরের মার্চে চীন সফরকালে বাংলাদেশে একটি উন্নত হাসপাতাল স্থাপনের জন্য প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছে অনুরোধ করেছিলেন। তার পরপরই চীন এই প্রকল্পে সহায়তার উদ্যোগ নেয়।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে, এ প্রকল্পের আওতায় নীলফামারী সদর উপজেলায় দশতলা হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হবে। এতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ডরমেটরি ও আবাসিক ভবন, প্রয়োজনীয় সহায়ক অবকাঠামো এবং আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে।

একনেক সভায় মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “এই হাসপাতাল শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে একটি কৌশলগত বিনিয়োগ। এর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের মানুষ নিজ এলাকাতেই উন্নত চিকিৎসা সেবা পাবে।”

এ হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি নেফ্রোলজি, কার্ডিওলজি, অনকোলজি, নিউরোলজির মতো বিশেষায়িত বিভাগে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে। আধুনিক জরুরি বিভাগ, আইসিইউ, সিসিইউ ও এইচডিইউ, উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা এবং অপারেশন থিয়েটারের মাধ্যমে জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে বলে সরকারপ্রধানের দপ্তর জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পটি চলতি জানুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৫৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার অর্থায়ন করবে ১৭৯ কোটি টাকা, বাকি টাকা অনুদান হিসেবে দেবে চীন। হাসপাতালটিতে ৮৯৩ জন চিকিৎসক, ১,১৯৭ জন নার্স এবং ১,৪১০ জন জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শুধু বাংলাদেশের রোগীরাই নয়; এটি দক্ষিণ এশিয়ার স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। নেপাল ও ভূটানসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর রোগীরাও এখানে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

“এতে আঞ্চলিক পর্যায়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হবে।”