রোববার ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ফাল্গুন ৩ ১৪৩২, ২৭ শা'বান ১৪৪৭

ব্রেকিং

দেড় বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে সূচকে বড় লাফ রমজানে হাইস্কুল স্কুল বন্ধ রাখতে নির্দেশ বিএনপির ইচ্ছাতেই সংসদ প্রাঙ্গণে শপথ: আসিফ নজরুল খুলনা-৫: জামায়াত নেতার বাড়িতে আগুন, অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে রামপুরায় মানবতাবিরোধী অপরাধ: রায় ৪ মার্চ ৩২ আসনে ভোট পুনঃগণনার দাবি জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য বিএনপির জয়ের পর বড় উত্থানে পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় গৃহবধূ নিহত, বিক্ষোভ মাদারীপুরে দুপক্ষের সংঘর্ষে শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণ মঙ্গলবার সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথ শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলামের বাসায় যাবেন তারেক রহমান টাকা নিয়ে বিরোধ ছেলের সঙ্গে, কুপিয়ে মারল বাবাকে নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারী বাইকারদের হামলায় নিহত অন্তত ৩২ ইমরান খানকে সুচিকিৎসা দেওয়ার আহ্বান ওয়াসিম-ওয়াকারদের

লাইফস্টাইল

জেনে নিন যেসব কারণে বাড়ছে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা

 প্রকাশিত: ১৭:১৬, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জেনে নিন যেসব কারণে বাড়ছে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা

কথায় কথায় চাবি ভুলে যাওয়া, পরিচিত কারও নাম মনে করতে না পারা কিংবা জরুরি তথ্য ভুলে যাওয়া—বর্তমান সময়ে এটি একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের আধুনিক জীবনযাত্রা এবং কিছু অভ্যাস পরোক্ষভাবে আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।

জেনে নিন যে কারণে তরুণ-তরুণীদের মাঝে বাড়ছে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা:

১.অতিরিক্ত প্রযুক্তি নির্ভরতা

স্মার্টফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রয়োজনীয় তথ্য হাতের নাগালে পাওয়ার ফলে মস্তিষ্ক তথ্য সংরক্ষণের আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

২.পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব

সঠিক পরিমাণে ঘুম না হলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যায়। ঘুম আমাদের মস্তিষ্কের তথ্য প্রক্রিয়াকরণের সময়, তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পেলে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।

৩. দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ

ধকলপূর্ণ জীবনযাত্রা ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দিতে পারে। স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল অতিরিক্ত মাত্রায় নিঃসৃত হলে মস্তিষ্কের স্মৃতিধারণ ক্ষমতা হ্রাস পায়।

৪.পর্যাপ্ত শারীরিক ও মানসিক ব্যায়ামের অভাব

নিয়মিত শরীরচর্চা ও মস্তিষ্কের ব্যায়াম (যেমন ধাঁধা বা বই পড়া) মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। কিন্তু যারা অলস জীবনযাপন করেন, তাদের স্মৃতিশক্তি দ্রুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

৫.অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

ফাস্টফুড, অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা হ্রাস করতে পারে। ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার, সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

৬. মাল্টিটাস্কিং বা একসাথে একাধিক কাজ

অনেকে মনে করেন একসাথে অনেক কাজ করা দক্ষতার লক্ষণ, কিন্তু মস্তিষ্ক আসলে সেভাবে কাজ করে না। বারবার মনোযোগ এক কাজ থেকে অন্য কাজে সরিয়ে নিলে কোনো তথ্যই মস্তিষ্কে স্থায়ীভাবে জমা হতে পারে না। এটি মনোযোগের গভীরতা কমিয়ে দেয় এবং ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়।

৭. শরীরে পানিশূন্যতা 

মস্তিষ্কের প্রায় ৭৫ শতাংশই পানি। সামান্য পানিশূন্যতাও মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় ব্যাঘাত ঘটায়। পর্যাপ্ত পানি না খেলে মনোযোগ দিতে অসুবিধা হয় এবং স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিশক্তি (Short-term memory) দুর্বল হয়ে পড়ে।

৮. ভিটামিন বি-১২ এর অভাব

মস্তিষ্কের স্নায়ু ও লোহিত রক্তকণিকা সুস্থ রাখতে ভিটামিন বি-১২ অপরিহার্য। বিশেষ করে যারা নিরামিষাশী বা সুষম খাবার খান না, তাদের শরীরে এই ভিটামিনের অভাবে বিভ্রান্তি এবং ভুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৯. একাকীত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা

মানুষের সাথে মেলামেশা এবং সামাজিক যোগাযোগ মস্তিষ্ককে উদ্দীপিত রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দীর্ঘ সময় একা থাকেন বা সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকেন, তাদের মস্তিষ্কের কোষগুলো দ্রুত ক্ষয় হতে থাকে এবং স্মৃতিশক্তি কমে যায়।

১০. ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ যেমন—অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ, অ্যান্টি-ডিপ্রেশন বা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ দীর্ঘদিন খেলে তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে স্মৃতিশক্তি সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।