বিএনপির ইচ্ছাতেই সংসদ প্রাঙ্গণে শপথ: আসিফ নজরুল
রীতি ভেঙে নতুন সরকারের শপথ বঙ্গভবনের বাইরে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজনের যে প্রস্তুতি চলছে, তা নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া বিএনপির ইচ্ছাতেই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
তিনি বলেছেন, “দক্ষিণ প্লাজায় শপথের বিষয়ে বিএনপিই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিল। আমার ধারণা, এই সংসদটা একটু ভিন্ন। ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ এবং এই গণঅভ্যুত্থান অনেক ত্যাগ, কষ্ট ও বেদনার বিনিময়ে এই সংসদ পেয়েছি।
“এসব কারণে সংসদটি অন্য সব সংসদের চেয়ে ভিন্ন। এই সংসদ প্রাঙ্গণে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। এখানে জুলাই সনদ ঘিরে যে অনুষ্ঠান, সেটাও এখানে আয়োজন করা হয়েছে। সুতরাং সংসদের দক্ষিণ প্লাজাটি বিভিন্ন কারণে আমাদের কাছে স্মরণীয়। এ সংসদের পাশেই বেগম খালেদা জিয়া এবং সবার প্রিয় আমাদের ওসমান হাদির জানাজা হয়েছিল।”
রোববার সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে কথা বলছিলেন আসিফ নজরুল।
তিনি বলেন, “এটা বিভিন্ন ধরনের তাৎপর্যপূর্ণ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যে ডকুমেন্টেশন, সেটা প্রকাশের একটি জায়গা হিসেবেও দাঁড়িয়েছে৷”
আসিফ নজরুল বলেন, “মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সংসদ সদস্যদের শপথ হবে। আমি ধারণা করছি, খুব সম্ভবত প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই শপথ দিবেন। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শপথের পরেই তাদের সংসদীয় দলের প্রধানকে নির্বাচিত করবেন।
“এছাড়া বিকাল ৪টায় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার শপথ হবে। আমার জানামতে এটা রাষ্ট্রপতি করবেন। কারা আমন্ত্রিত হবেন, এই বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সিদ্ধান্ত নিবেন। আমার জানামতে, এখন পর্যন্ত সার্কভুক্ত দেশগুলোকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। সেখানের মন্ত্রীদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে।”
সংবিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান রয়েছে। শুক্রবার রাতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭টিতে জয়ীদের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।
বিএনপি ২০৯ আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে তাদের এক সময়কার মিত্র জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসন পেয়ে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছেন।