হজ-পরবর্তী জীবনে পরিবর্তন না এলে হজের শিক্ষা অপূর্ণ:শায়খ আহমাদুলা
বিশিষ্ট দাঈ ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ হজ পালনকারীদের উদ্দেশে বলেছেন, হজের পর একজন মুসলমানের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসা উচিত। যদি হজ আদায়ের পরও জীবনে কোনো পরিবর্তন না আসে, তাহলে সেই পরিবর্তনের জন্য আর কবে অপেক্ষা করা হবে— এমন প্রশ্নও তিনি উত্থাপন করেন।
নিজের ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ‘হজের পর হাজীদের ৩টি বিশেষ কাজ করা প্রয়োজন’ শীর্ষক এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, অনেক হাজি হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর নিজেদের দায়িত্বমুক্ত মনে করে ইবাদত থেকে কিছুটা উদাসীন হয়ে পড়েন। অথচ হজ-পরবর্তী সময়ই মসজিদুল হারামে অধিক মনোযোগ দিয়ে তাওয়াফ, দোয়া ও ইবাদতে আত্মনিয়োগের সুবর্ণ সুযোগ।
তিনি বলেন, যারা আরও কিছুদিন মক্কায় অবস্থান করবেন, তাদের উচিত প্রতিদিন অন্তত একটি তাওয়াফ করার চেষ্টা করা। এ সময় মসজিদুল হারামে মানুষের চাপও তুলনামূলক কমে আসে, ফলে আরও প্রশান্তির সঙ্গে ইবাদতের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
আলোচনায় তিনি পবিত্র কোরআনের সুরা নাহলের ৯২ নম্বর আয়াতের আলোকে বলেন, কোনো আমল সম্পন্ন করার পর সেটিকে সংরক্ষণ ও স্থায়ী করার চেষ্টা না করলে তা অনেকটা সুতা পাকিয়ে গিঁট না দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার মতো। ফলে পরিশ্রমের ফল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
তিনি হাজিদের উদ্দেশে বলেন, হজ জীবনের একটি বড় মোড় পরিবর্তনের উপলক্ষ হওয়া উচিত। বাইতুল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে করা তওবা, প্রতিশ্রুতি ও আত্মশুদ্ধির অঙ্গীকার যেন হজের পরও জীবনে বহাল থাকে, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, শয়তান সবসময় মানুষকে আগের জীবনে ফিরিয়ে নিতে চেষ্টা করে। তাই হজের মাধ্যমে অর্জিত আত্মিক পরিবর্তন ধরে রাখতে হলে পরিকল্পিতভাবে দ্বীনের পথে অটল থাকার চেষ্টা করতে হবে।
হাজিদের জন্য তিনি বিশেষভাবে দুটি করণীয় তুলে ধরেন। প্রথমত, আন্তরিক তওবার মাধ্যমে জীবন পরিবর্তনের দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা এবং সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া। দ্বিতীয়ত, দ্বীনদার সঙ্গ ও অনুকূল পরিবেশ গ্রহণ করা এবং যারা দ্বীনের পথে বাধা সৃষ্টি করে তাদের সংস্পর্শ সীমিত করা।
বক্তব্যের শেষে তিনি সকলের কাছে দোয়া কামনা করে বলেন, আল্লাহ তাআলা যেন সকল হাজির হজ কবুল করেন, তাদের গুনাহ ক্ষমা করেন এবং হজের মাধ্যমে অর্জিত আত্মিক পরিবর্তনকে স্থায়ী করে দেন।