বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২৬, জ্যৈষ্ঠ ২১ ১৪৩৩

ব্রেকিং

বিভাজন নয়, ‘উদার গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা করতে চাই: ফখরুল আইভীর বাড়ির সামনে পুলিশের নজরদারি, সিসি ক্যামেরা স্থাপন সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হবে ১০১ শয্যার সিরাজগঞ্জে বাড়ছে যমুনার পানি, নদীতীরে ভাঙন আতঙ্ক নিম্ন আয়ের মানুষের বিদ্যুতের খরচ বাড়ছে না আদ-দ্বীনে ৬ শিশুর মৃত্যু: হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলা’ ছিল, বলছে তদন্ত কমিটি অবসরভাতা বঞ্চিত শিক্ষকদের ভাতা চালু করবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায় ৭ জুন হাম: আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, শনাক্ত ৬৯ ৩৮ ডিগ্রিতে পারদ, দিনাজপুরে তাপদাহে শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্যের পর মমতার বিরুদ্ধে মামলা ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে ‘উন্মাদ’ বলার কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প

জাতীয়

বিভাজন নয়, ‘উদার গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা করতে চাই: ফখরুল

 প্রকাশিত: ২০:১৮, ৪ জুন ২০২৬

বিভাজন নয়, ‘উদার গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা করতে চাই: ফখরুল

বিএনপি ‘উদার গণতন্ত্রে’ বিশ্বাসী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, “বিএনপি প্রতিনিধিত্ব করে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে। আমি সবসময় যে কথাটা বলি, জোর দিয়ে বলি, বিএনপি ইজ এ পার্টি অব লিবারেল ডেমোক্রেসি। আমরা উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। সেই উদার গণতন্ত্রকে আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

“আমরা এখানে অন্য কোনো বিভাজন সৃষ্টি করতে চাই না। বাংলাদেশ যে কারণে সৃষ্টি হয়েছে সেই কারণেই আমরা আরও জোর দিয়ে সেই চেষ্টা প্রতিষ্ঠিত করছি। সেই কারণে আমার নেতা আমার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব স্লোগানও দিয়েছেন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।”

বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের স্মরণে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জনের প্রসঙ্গে টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, “দেখবেন, নির্বাচনের আগে বুদ্ধিজীবীরা পত্রপত্রিকায় হাইপ উঠিয়ে দিয়েছিলেন যে এখানে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় চলে আসছে, তারা সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচনে জয় লাভ করবে। তবে মানুষ কিন্তু ভুল করেনি। মানুষ ঠিকই তাদের বাদ দিয়ে বিএনপিকে বেছে নিয়েছে।

“এর কারণ কী জানেন? বিএনপি উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে, সেজন্য।”

প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটির মিলনায়তনে ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন নির্জোট কূটনীতি’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা হয়। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এএনএম মুনিরুজ্জামান।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “জিয়াউর রহমান সবচেয়ে বড় যে কাজটি করেছিলেন, সেটা হচ্ছে— আমাদের পরিচিতি দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের একটা স্বকীয়তা দিয়েছিলেন, পরিচিতি দিয়েছিলেন, আইডেন্টিটি দিয়েছিলেন যে, ‘আমরা আলাদা, আমরা ওদের সঙ্গে এক নই; আমাদের অস্তিত্ব ভিন্ন’—যেটা আমরা বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের মধ্যে আমরা দেখি।”

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতার জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণের স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “সেই জানাজার নামাজের পরে লালবাগের হুজুর উনি যখন দোয়া করছিলেন, দোয়া করে বলছিলেন, ‘আল্লাহ বাংলাদেশকে হেফাজত কর’। তখন বাংলাদেশের মানুষ ওই জানাজায় আরেকবার টুকরে কেঁদে উঠেছিল। এজন্য যে জিয়াউর রহমান আর বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব দুইটার অস্তিত্ব একাকার হয়ে গিয়েছিল।

“আতঙ্কিত হয়েছিল যে জিয়াউর রহমানের পরে সেটা থাকবে কি না? আল্লাহর অশেষ রহমত আমি বলব, বাংলাদেশের মানুষ কখনো সেখান থেকে সরে যায়নি; তারা বাংলাদেশকে হেফাজত করার জন্য সবসময় উঠে দাঁড়িয়েছে; যেমন চব্বিশে উঠে দাঁড়িয়েছে এবং বাংলাদেশকে আবার নতুন করে গড়ে তুলবার একটা সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে।”

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ফখরুল বলেন, “আজকে অত্যন্ত আশার কথা যে, আমার আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তিনি তার বিভিন্ন যে কর্মসূচিগুলো ঘোষণা করছেন, যে বক্তব্যগুলো রাখছেন, যে কাজগুলো করছেন; তার মধ্য দিয়ে আমরা সেই জিয়া রহমানের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই।

“আমরা বিশ্বাস করি যে, তারেক সাহেব তার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে সেদিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন।”

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে ও পিআিইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অংশ নেন অর্থনীতি মুশতাক খান, ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রুশদ ও ব্রেইন’র নির্বাহী পরিচালক সফিকুর রহমান।