শনিবার ০৭ মার্চ ২০২৬, ফাল্গুন ২৩ ১৪৩২, ১৮ রমজান ১৪৪৭

ব্রেকিং

হঠাৎ হাসপাতাল পরিদর্শনে মন্ত্রী, নেই অর্ধেক চিকিৎসক মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ৮ দিনে ঢাকা থেকে বাতিল ২৬৮ ফ্লাইট ইরানে স্থল অভিযানে নামার আভাস কুর্দি সংগঠনের যুদ্ধ গড়াল দ্বিতীয় সপ্তাহে, ট্রাম্প চান ইরানের `নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ` ইরানে ভয়াবহ বিমান হামলা: নিহত ১৩০০ ছাড়ানোর আশঙ্কা রাতভর ৮০ যুদ্ধবিমান থেকে ইরানে গোলাবর্ষণ জুলাইয়ের হৃত স্বপ্ন পুনরুদ্ধারে এলো নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম, নেতৃত্বে মাহফুজ আলম মানিকগঞ্জে ইয়াবাসহ দুই ‘মাদক কারবারি’ আটক ঢাকায় এক রাতে ঝরে গেল ৫ প্রাণ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ এবার তেহরানে প্রাইমারি স্কুলে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলা রাতে ইরানে ‘সবচেয়ে বেশি বোমাবর্ষণ’ হবে, মার্কিন অর্থমন্ত্রীর পূর্বাভাস

ইসলাম

নবীযুগে কাবাগৃহের চাবিরক্ষক: উসমান ইবনে তালহা (রা.)

 প্রকাশিত: ১৬:০৫, ৭ মার্চ ২০২৬

নবীযুগে কাবাগৃহের চাবিরক্ষক: উসমান ইবনে তালহা (রা.)

মহানবী (সা.)-এর বিশ্বস্ত সাহাবিদের একজন উসমান ইবনে তালহা আল-হাজাবি (রা.)। তাঁর নাম মূলত উসমান। পিতা তালহা। মক্কার বিখ্যাত ‘কুরাইশ’ গোত্রের ‘বনু আব্দুদ-দার’ শাখার সন্তান। এ কারণে তাঁকে ‘আল-আবদদারী’ বলা হয়। আবার কাবা শরীফের চাবি ও তার দেখাশুনার দায়িত্ব ছিল তাঁর জিম্মায়। সে হিসেবে তাঁকে ‘আল-হাজাবি’ বলা হয়। (সিয়ারু আলামিন নুবালা : ৩/১০) 

উসমান ইবনে তালহা (রা.) মক্কাবিজয়ের কয়েক মাস পূর্বে ৮ম হিজরির সফর মাসে খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.) ও আমর ইবনে আস (রা.)- এর সাথে মদিনায় গিয়ে সরাসরি রাসুল (সা.)-এর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। (সিয়ারু আলামিন নুবালা : ৩/১০; আত-ত্বাবাকাতুল কুবরা ৭/৩৪২)

কাবা শরিফের চাবি ও তার দেখাশুনার দায়িত্ব

ইসলামগ্রহণের পর উসমান ইবনে তালহা (রা.) মদিনাতেই থাকেন। মক্কাবিজয়-অভিযানে রাসুল (সা.)-এর সাথে মক্কায় আসেন। মক্কাবিজয় শেষে রাসুল (সা.) তাঁকে কাবা শরীফের চাবি বুঝিয়ে দেন। ইমাম যুহরি (রহ.) বলেন, অভিযানশেষে রাসুল (সা.) কাবা শরীফের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। তখন কাবা শরীফের চাবি ছিল উসমান ইবনে তলহা (রা.)-এর মায়ের কাছে। রাসুল (সা.) চাবির জন্য উসমানকে তাঁর মায়ের কাছে পাঠালেন। মা চাবি দিতে একটু গড়িমসি করলেন। বললেন, তিনি (মুহাম্মদ) আর কখনো তোমাদেরকে এই চাবি ফেরত দেবে না। উসমান যেভাবে হোক মায়ের কাছ থেকে চাবি নিয়ে উপস্থিত হলেন রাসুল (সা.)-এর কাছে। এতক্ষণ রাসুল (সা.) দাঁড়িয়ে ছিলেন চাবির জন্য। এরপর তিনি কাবা শরীফের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলেন। নামাজ পড়লেন। অতপর বেরিয়ে এসে উসমান ইবনে তালহা (রা.) ও তাঁর চাচাতো ভাই শাইবা ইবনে উসমানকে ডেকে কাবা শরীফের চাবির ছড়া তাদের হাতে তুলে দিয়ে বললেন, ‘নাও এই চাবি (ও কাবা শরীফের তত্ত্বাবধানের দায়-দায়িত্ব) সব সময়ের জন্য সর্বকালের জন্য। তা তোমাদের থেকে কেউ কেড়ে নেবে না। তবে কোনো জালিম হস্তক্ষেপ করলে, সেটা ভিন্ন কথা।’ (আল-ইসতি‘আব ৩/১০৩৪; তাহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত ১/৩২০)

রাসুল (সা.) কাবা শরীফ থেকে বেরিয়ে এসে উসমান ইবনে তালহা (রা.)-কে বললেন, কাবার অভ্যন্তরে (ইসমাঈল আ. এর পরিবর্তে জবাইকৃত দুম্বার) শিংটি ঢেকে দিও। কারণ, মুসল্লির সামনে এমন বস্তু থাকা উচিত নয়, যা তার মনোযোগ নষ্ট করে। (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ৩/১১পৃ., ক্র.২)

তাঁর থেকে ৫টি হাদিস বর্ণিত আছে। তম্মধ্যে একটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন— ইবনে উমার (রা.), উরওয়া ইবনে যুবাইর (রা.) ও তাঁর চাচাতো ভাই শাইবা ইবনে উসমান (রা.) প্রমুখ। (সিয়ারু আলামিন নুবালা : ৩/১১) 

মক্কাবিজয়-অভিযানশেষে ফিরে যান মদিনায়। রাসুল (সা.)-এর ইন্তেকাল পর্যন্ত সেখানেই বসবাস করেন। অতপর মক্কায় চলে যান। জীবনের শেষ পর্যন্ত সেখানেই থাকেন। মুআবিয়া (রা.)-এর খেলাফতের প্রথম দিকে ৪১/৪২ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। ইমাম নববী (রহ.) ৪২ হিজরি সনের মতটি উল্লেখ করার পর বলেন, কথিত আছে যে, তিনি উমার (রা.)-এর খেলাফতামলে আজানাদাইনের যুদ্ধে শাহাদাতবরণ করেন। (সিয়ারু আলামিন নুবালা ৩/১২; মুসলিম (শরহে নববী) ১/৪২৮)